E-Paper

সময় বৃদ্ধির রাস্তা খোলা রাখল নির্বাচন কমিশন

এসআইআরের সব ক’টি পর্যায়ের সময়সীমা সাত দিন করে বাড়িয়েছে কমিশন। এত দিন উত্তরপ্রদেশ অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও, তাদের অগ্রগতি এ দিন পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২%। এ রাজ্যের অগ্রগতিও প্রায় ৯৯%। এখন এখানে আপলোড হওয়া ফর্মগুলির পুনর্যাচাই চলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ০৬:২৭

—প্রতীকী চিত্র।

এসআইআরের কাজে সময়সীমা বাড়ানোর প্রয়োজন হলে, জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে যুক্তি-সহ তা প্রস্তাব আকারে পাঠাতে পারবেন কোনও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)। প্রয়োজন যুক্তিগ্রাহ্য হলে, তা খতিয়ে দেখতে পারে দিল্লির নির্বাচন সদন। শুক্রবার এসআইআর-অগ্রগতি নিয়ে ১২টি রাজ্যের সিইও-র সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশন-কর্তারা। সূত্রের দাবি, সেই বৈঠকে এর পাশাপাশি মৃত্যু হওয়া বিএলও-দের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে, সিদ্ধান্ত হয়েছে ভোটার-তথ্য যাচাইয়ে কমিশনের সফটওয়্যারের কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর।

এসআইআরের সব ক’টি পর্যায়ের সময়সীমা সাত দিন করে বাড়িয়েছে কমিশন। এত দিন উত্তরপ্রদেশ অনেকটা পিছিয়ে থাকলেও, তাদের অগ্রগতি এ দিন পর্যন্ত বেড়ে হয়েছে প্রায় ৯২%। এ রাজ্যের অগ্রগতিও প্রায় ৯৯%। এখন এখানে আপলোড হওয়া ফর্মগুলির পুনর্যাচাই চলছে। পাশাপাশি, ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিএলও-দের সময় দেওয়া হয়েছে কোনও ত্রুটি সংশোধনের জন্য। ফলে সময় বৃদ্ধি এ রাজ্যের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে কি না, তা এখনই বলা না গেলেও, কমিশন সেই সম্ভাবনা খোলা রাখল এ দিনের বৈঠকে। তবে এ রাজ্যের ক্ষেত্রে তেমনটা ঘটলে, তা যে প্রধানত যাচাই এবং ত্রুটিমুক্ত করার কাজের জন্যই হবে, তা নিয়ে একপ্রকার নিশ্চিত আধিকারিকেরা। কমিশন জানিয়েছে, এ দিন পর্যন্ত প্রায় ৫৪.৫৯ লক্ষ ফর্ম অসংগৃহীত। সেগুলির মধ্যে মৃত প্রায় ২৩.৭১ লক্ষ, ঠিকানা বদল প্রায় ১৯.০৮ লক্ষ, ডুপ্লিকেট প্রায় ১.২৬ লক্ষ, অনুপস্থিত প্রায় ১০.১৫ লক্ষ এবং অন্যান্য প্রায় ৩৮ হাজার।

পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে এসআইআর চলাকালীন বেশ কয়েক জন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের ক্ষতিপূরণের দাবিও সামনে আসছে। সূত্রের খবর, এ দিন কমিশন সিইও-দের জানিয়েছে, সংশ্লিষ্টদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। ময়না তদন্ত বা প্রশাসনিক রিপোর্ট পেলেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ শুরু হবে। যদিও কমিশন সূত্র জানাচ্ছে, এ রাজ্যে এখনও জেলাগুলি থেকে তেমন মৃত্যুর প্রশাসনিক রিপোর্ট তাদের কাছে এসে পৌঁছয়নি।

কমিশনের অন্দরের খবর, আপলোড হওয়া ফর্মগুলির বৈধতা যাচাইয়ের জন্য ইতিমধ্যেই বিশেষ সফটওয়্যার (ফ্যাক্ট-চেক) ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে কয়েকটি বিশেষ ক্ষমতা যুক্ত করা হয়েছে। এ বার ওই মাধ্যমে মুখের ছবি মিলিয়ে দেখা (ফেস-রেকগনিশন), জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের যাচাই এবং সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় থাকা আধারের যাচাই করা যাবে। অর্থাৎ, মূল সব নথিগুলিরই বৈধতা কমিশনের ওই মাধ্যমে যাচাই করা যাবে। এ রাজ্যে নথি তৈরি নিয়েও নানা জায়গা থেকে বিভিন্ন অভিযোগ পাচ্ছিল কমিশন। সেই দিক থেকে এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।

অন্য দিকে, এ দিনই সিইও দফতরে রাজ্যের আরও দুই আইএএস অফিসারকে নিয়োগ করা হয়েছে। ২০১৬ ব্যাচের আইএএস বন্দনা পোখরিয়াল এবং ২০১৭ ব্যাচের দিব্যা মুরুগেসানকে যুগ্ম-সিইও হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে কমিশন। এই দু’টি পদ খালি ছিল। এ দিনই বীরভূমের সিউড়িতে রাজনৈতিক দল এবং আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। পর্যবেক্ষকের সামনে গুচ্ছ অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলি। সুব্রত পরে বলেন, “কিছু অভিযোগ এসেছে, প্রত্যেকটিই খতিয়ে দেখা হবে।” তিনি জানান, মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি মাপকাঠিতে ফের খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। কিছু কিছু বুথে জেলা আধিকারিকদের ব্যক্তিগত ভাবেও খোঁজ নিতে বলা হয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Special Intensive Revision Election Commission of India West Bengal government Chief Electoral Officer

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy