বিডিওর নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনের একাংশ সম্পূর্ণ ভাবে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে বলে অভিযোগ করলেন মেমারির বিজেপি প্রার্থী মানব গুহ। তাঁর দাবি, কমিশনের নিয়োগ করা ভিডিয়ো-গ্রাহকেরা তৃণমূলের ‘চর’। সভা শেষে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তোলা হচ্ছিল। শুধু তা-ই নয়, বাড়ির মালিকের অনুমতি নিয়ে লাগানো প্রচারের ফ্লেক্স, ব্যানার খুলে নেওয়া হচ্ছিল। প্রতিবাদ করতে কমিশন-নিযুক্ত কর্মীরা ফের সেগুলি লাগিয়ে দেন। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের কাজে বাধা দিয়ে বিজেপি প্রার্থী ‘দাদাগিরি’ করছেন। এলাকায় অশান্তি তৈরি করচে চাইছেন।
বৃহস্পতিবার দিনভর মেমারিতে বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ঠান্ডাযুদ্ধ চলে। প্রথম ঘটনাটি ঘটে মেমারি ১ ব্লকের রাধাকান্তপুর ২ পঞ্চায়েতের মগরা ও শঙ্করপুর এলাকায়। ছড়িয়ে পড়া ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, কমিশন-নিযুক্ত কর্মীদের উপরে ‘চাপ’ তৈরি করছেন বিজেপি প্রার্থী। তার পরেই বিভিন্ন বাড়ির দেওয়াল থেকে খুলে নেওয়া ব্যানার-ফ্লেক্স কমিশনের ওই সব কর্মীরা ফের লাগিয়ে দিচ্ছেন। তৃণমূলের অভিযোগ, কমিশনের গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে নির্বাচনে নিযুক্ত কর্মীদের ধমক ও হুঁশিয়ারি দিতে দেখা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থীকে। তিনি বাধ্য করছেন, কমিশনের কর্মীদের ফের ব্যানার-ফ্লেক্স লাগাতে।
বক্তব্য অস্বীকার করেননি বিজেপি প্রার্থী। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন এমন সব লোকজনকে কাজে লাগাচ্ছে, যাঁদের কোনও পরিচয়পত্র নেই। তাঁরা সম্পূর্ণ ভাবে তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন। তৃণমূলের পোস্টার-ব্যানার থাকছে। উল্টো দিকে, বাড়ির মালিকের অনুমতি নিয়ে টাঙানো বিজেপির পোস্টার-ব্যানার খুলে নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “আমরা একটা দলকে হাতেনাতে ধরেছি। বিডিও-র অনুমতি নিয়ে রাজ্যে এই প্রথম নির্বাচন কমিশনের নিযুক্ত তৃণমূলের খোচরগুলি, যাঁরা ব্যানার-ফ্লেক্স খুলে নিয়ে চলে যাচ্ছিল, তাঁদেরকে দিয়েই আবার নির্দিষ্ট জায়গায় সেগুলি লাগানো হয়েছে।”
পরের ঘটনাটি ঘটে ওই দিন রাতে দলুইবাজার ২ পঞ্চায়েতের পাল্লা বাজারে। বিজেপির অভিযোগ, পথসভা শেষ হওয়ার পরে দলীয় প্রার্থী ব্যক্তিগত কথাবার্তা বলছিলেন। তারও ভিডিয়ো করা হচ্ছিল। তখন সেই ব্যক্তিকে ধরা হয়। জানা যায়, ১৮-১৯ বছরের একটি ছেলে ওই ভিডিয়ো করছিলেন। প্রশ্ন উঠেছে, যাঁর ভোটার তালিকাতেই নামই ওঠেনি, তাঁকে কী ভাবে বিডিও কার্যালয় ভোটের কাজে ব্যবহার করল। শুধু তা-ই নয়, কমিশনের দেওয়া পরিচয়পত্র দেখেও তাঁর সঠিক তথ্য মেলেনি। দীর্ঘ ক্ষণ আটকে রাখার পরে ওই যুবককে বিজেপি মেমারি থানার হাতে তুলে দিয়েছে।
বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, “বিডিও অফিসের কিছু খোচর প্রতিদিন আমার পিছনে ক্যামেরা লাগিয়ে রাখছে। পাল্লাবাজারে এমনই এক যুবককে ধরা হয়। যার ভোটার তালিকায় নাম নেই। পরিচয়পত্রটিও সম্ভবত ভুয়ো। ব্যক্তিগত মুহূর্তও ক্যামেরাবন্দি করা হচ্ছে।” তাঁর দাবি, “বিডিও ব্যক্তিগত ভাবে আমার কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। সেই মুহূর্তটি আমার সমাজ মাধ্যমে রয়েছে। এ রকম চলতে থাকলে যে কোনও দিন বিডিও দফতরের লোকজনের বিপদ হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, “সব জেনেও বিডিও কিছু করছেন না। আমরা কমিশনের কাছে অভিযোগ জানাব, বিডিও-র নেতৃত্বে তাঁর অফিসের একাংশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছেন।”
এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে বার বার ফোন করা হলেও যোগাযোগ করা যায়নি বিডিও-র সঙ্গে। মেসেজেরও জবাব আসেনি। যদিও জেলা নির্বাচনী কার্যালয় সূত্রের দাবি, কোনও দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। তবে প্রার্থীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি কেন তোলা হচ্ছিল কেন, তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। যিনি ছবি তুলছিলেন তাঁকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেমারির তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদার বলেন, “বিজেপি প্রার্থী হেরে যাবেন বুঝতে পারছেন। তা-ই কমিশনের উপরে হম্বিতম্বি করছেন। প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত কমিশনের।”
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)