E-Paper

অভিষেকের নিশানায় দুই বিেজপি প্রার্থী

দলের খারাপ ফলের কথা বুঝতে পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণকে অভিষেক অস্ত্র করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৮
পূর্বস্থলীর সভায় প্রার্থীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

পূর্বস্থলীর সভায় প্রার্থীদের সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজস্ব চিত্র ।

সভার শুরু থেকেই বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে সুর চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার পূর্বস্থলীর মাদরা মাঠে পূর্বস্থলী উত্তর, দক্ষিণ ও কাটোয়ার প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা ছিল। মঞ্চে উঠেই প্রথমে রোদ মাথায় সভাস্থল ভরিয়ে রাখার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন অভিষেক। তার পরেই সরাসরি আক্রমণ করেন পূর্বস্থলী ও কাটোয়ার বিজেপি প্রার্থীদের।

অভিষেক বলেন, ‘‘কাটোয়ার কারুলিয়া গ্রামে রাতে অন্ধকারে রেশনের চাল পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন রেশন ডিলার রুনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী বসন্ত বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই রুনা হলেন বিজেপি প্রার্থী গোপাল চট্টোপাধ্যায়ের মামা ও মামি। পরের দিন ডিলারের বাড়িতে সরকারি আধিকারিকেরা তদন্তে গেলে গোপাল চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বাধা দিয়ে চুরির ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে চান। পুলিশ ডিলার ও তাঁর স্বামীকে থানায় নিয়ে যায়। তখন থেকেই শোনা যায় এই প্রার্থীকে লোক ‘চালচোর গোপাল’ বলে ডাকে।’’ এটাই বিজেপির আসল চেহারা বলে দাবি করেন তিনি। নবদ্বীপের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন গোপাল। অভিষেকের অভিযোগ, কোনও দিন স্কুলের ধারেকাছে যাননি তিনি। বিজেপি কর্মীরাই গোপালের নাম লেখা দেওয়ালে গোবর লেপে দিচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। এক সময়ের জেলা সভাপতি গোপালের পাল্টা দাবি, ‘‘ওঁকে চ্যালেঞ্জ করতে চাই যে গ্রামে চাল চুরির ঘটনার কথা বলেছেন, সেই গ্রামে আসুন। এক জন লোকও যদি বলে চাল চুরি হয়েছিল, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। ওঁর ক্ষেত্রেও একই শর্ত থাকবে।’’ তাঁর দাবি, মালদহের একটি স্কুলে বহু বছর চাকরি করেছেন। এখন নবদ্বীপে চাকরি করছেন। কোথাও, কেউ এমন অভিযোগ করেননি। দলের খারাপ ফলের কথা বুঝতে পেরে ব্যক্তিগত আক্রমণকে অভিষেক অস্ত্র করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

আর এক প্রার্থী কৃষ্ণ ঘোষকে নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। বলেন, ‘‘২০২৪-এর লোকসভার সময় এই বিজেপি প্রার্থীর নামে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ উঠেছিল। বাড়ি ঘেরাও হয়েছিল। দলের কর্মীরা বিক্ষোভে নামেন। জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা মণ্ডলের বিরুদ্ধে মণ্ডল সভাপতি নির্বাচনে স্বজনপোষণের অভিযোগ করে মণ্ডলহাটে বিজেপির কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এই সব লোক, যাঁদের দলের কেউ মানেনা, তাঁদের চৈত্র সেলের মতো আপনাদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছে। মাথায় চাপিয়ে দিচ্ছে।’’ কৃষ্ণর জবাব, ‘‘বিজেপি একটা পরিবার। হারবেন জেনে অবাস্তব অভিযোগ করছেন।’’

সিপিএম ও বিজেপিকে জুড়েও নানা অভিযোগ করেন তিনি। দাবি করেন, তামাঘাটা, পাটুলি, ঝাউডাঙা এলাকায় ভাগীরথীর ভাঙনে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কেন্দ্র সরকার টাকা দেয়নি। সমস্ত এলাকায় পাথর দিয়ে ভাঙন রোধের কাজ করা হয়েছে। কেন্দ্র ১০ বছরে কিছু করেনি। রাজ্য সরকার দু’মাস আগে ভাঙন রোধের জন্য ফেব্রুয়ারিতে ৯’কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ভোটের পরে কাজ শুরু হবে বলেও জানান তিনি। তিন বিধানসভা জুড়ে কী কী কাজ হয়েছে তার খতিয়ানও দেন। অভিষেক বলেন, ‘‘বর্ধমান যে ভাবে আগেও সংগঠিত হয়ে তৃণমূলকে জিতিয়েছ, আগামী দিনে যেন এর ব্যতিক্রম না হয়।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Purbasthali Abhishek Banerjee BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy