এখনও মাটির বাড়িতে বাস করেন বহু মানুষ। বর্ষার সময়ে সমস্যার অন্ত থাকে না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বেশির ভাগ দুঃস্থ মানুষেরই বাড়ি জোটেনি বিদবিহার পঞ্চায়েতে। এই অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র। তাঁর অভিযোগ, যে কয়েক জন বাড়ি পেয়েছেন, তাঁরা তৃণমূলের লোকজন। বিদবিহার পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, তৃণমূলের গোপাল সরকারের অবশ্য দাবি, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা বা বাংলা আবাস যোজনায় অনেকেই বাড়ি পেয়েছেন। নিয়ম মেনেই বাড়ি দেওয়া হয়েছে।
অজয়ের পাশে কাঁকসা ব্লকের এই পঞ্চায়েতের বেশির ভাগ মানুষই কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। কম-বেশি ২০টি ছোট-বড় গ্রাম রয়েছে পঞ্চায়েত এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, উন্নয়নের ছোঁয়া পড়েনি এই জনপদে। আবাস যোজনায় দুর্নীতি হয়েছে। ২০২২-এ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় আবেদন জানানোর কাজ চলাকালীন পোর্টালে সমস্যার কারণে এই পঞ্চায়েতের কেউ ঘরের জন্য আর্জি জানাতে পারেননি। বিজেপির গলসি বিধানসভার ৫ নম্বর মণ্ডল সভাপতি শচীন বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বেশির ভাগ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আত্মীয়-স্বজনদের নামে বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল। এ নিয়ে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ করা হয়। তার পরেই বিদবিহার পঞ্চায়েতের আবাস যোজনার পোর্টাল বন্ধ হয়ে যায়।ফলে তখন কারও বাড়ি জোটেনি। এখনও তাঁরা মাটির ঘরে বাস করেন। বৃষ্টি হলে অনেকের বাড়িতে জলপড়ে। শচীনের অভিযোগ, ‘‘পঞ্চায়েতের তরফে একটি ত্রিপলও দেওয়া হয় না। মানুষের কথা ভাবে না পঞ্চায়েত।’’
কয়েক দিন আগে এই এলাকায় প্রচারে এসে গলসির বিজেপি প্রার্থী রাজু পাত্র দাবি করেন, এলাকার বহু মানুষ তাঁর কাছে আবাস যোজনায় ঘর চেয়ে দরবার করছেন। বেশির ভাগ মানুষ এখনও মাটির ঘরে বাস করেন। তাঁর অভিযোগ, ‘‘তৃণমূল আমলে সবকিছুতেই দুর্নীতি হয়েছে। নিজেদের লোককে বাড়িঘর পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা প্রকৃত উপভোক্তাদের পাশে থাকব।’’ সরব সিপিএমও। দলের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর আমন্ত্রিত সদস্য বীরেশ্বর মণ্ডলের অভিযোগ, ‘‘শুধু ওই এলাকায় নয়, কাঁকসা ব্লকের প্রায় প্রতিটি পঞ্চায়েত এলাকাতেই আবাস প্রকল্পে দুর্নীতি করেছেতৃণমূল। প্রকৃত উপভোক্তারা বঞ্চিত হয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি।’’
বিদবিহার পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮-এ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় প্রায় ১৭০০ উপভোক্তা বাড়ি পেয়েছিলেন। ২০২২-এ পোর্টালের সমস্যা থাকায় এই এলাকার বাসিন্দারা আবেদন জানানোর সুযোগ পাননি। পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জানান, বাংলা আবাস যোজনায় ইতিমধ্যেই প্রথম দফায় ৩০০ জনের মধ্যে ১০৩ জনকে বাড়ি দেওয়া হয়েছে। ফোনে আবেদন করেছিলেন এমন ৪৫ জনের মধ্যে ৪২ জনের বাড়ি তৈরির অনুমোদন এসেছে। তাঁর দাবি, এই এলাকায় আবাস যোজনার কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপি উন্নয়ন দেখতে পায় না। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় বরাদ্দ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আমাদের রাজ্য সরকারের তরফে বাংলার আবাস যোজনায়বাড়ি দেওয়া হচ্ছে। নিয়ম মেনেই সেই কাজ হচ্ছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)