E-Paper

জয়ের অঙ্ক মেলাতে নাম বাদেই ভরসা

বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। বিজেপির দাবি, এসআইআরের হিসাবে বর্ধমান উত্তরের দলীয় প্রার্থী সঞ্জয় দাস ‘এগিয়ে’।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৯
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

খসড়া, প্রথম চূড়ান্ত তালিকা ও ৯ এপ্রিল প্রকাশিত তালিকা—তিনটে পর্যায়ে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হয়েছে। তাতে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভায় বাদ গিয়েছে ৩৯,৩৭৫ জনের নাম। বর্ধমান উত্তর ও ভাতার বিধানসভাতেও ৩০ হাজারের বেশি নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপির দাবি, ২০২১ সালের বিধানসভা ও ২০২৪ সালের লোকসভায় যে ব্যবধানে তৃণমূল জিতেছে, তার মোট ব্যবধানের চেয়েও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। ফলে জয় এ বার তাদেরই। আবার তৃণমূলের দাবি, যত ভোটারই বাদ যাক, এসআইআর নিয়ে ক্ষুব্ধ মানুষ তাঁদের দিকেই।

বর্ধমান দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত। বিজেপির দাবি, এসআইআরের হিসাবে বর্ধমান উত্তরের দলীয় প্রার্থী সঞ্জয় দাস ‘এগিয়ে’। আর ‘হাড্ডাহাড্ডি’ লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ভাতারে। ভূত আর ভুয়ো ভোটার সরিয়ে এ বার ঠিক ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে বলেও তাঁদের দাবি। যদিও তৃণমূল মনে করছে, এসআইআর নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে নির্বাচন কমিশন ‘নির্যাতন কমিশন’ হয়েছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে অন্য দলের ভোটারেরাও এ বার তাঁদেরদিকে ভিড়বেন।

শহরের ৩৫টি ওয়ার্ড নিয়ে বর্ধমান দক্ষিণ বিধানসভা। বাম আমলে শিল্পমন্ত্রী নিরুপম সেনের এই বিধানসভা ২০১১ সালেই তৃণমূলের হাতে যায়। পুরসভা হাতছাড়া হয় ২০১৩ সালে। তারপর থেকে এটি তৃণমূলের একপ্রকার নিশ্চিত আসন। গত লোকসভায় একাধিক শহরে বিজেপির কাছে তৃণমূল ধরাশায়ী হলেও বর্ধমান দক্ষিণে সাত হাজারের বেশি ভোটে জেতে। কিন্তু এসআইআর বদলে দিচ্ছে কিছু হিসাব। মৃত, দু’বার নাম থাকা, নিখোঁজ ও স্থানান্তরিত ভোটার হিসাবে ২৩,৪২৪ জনের নাম বাদ গিয়েছে। বিবেচনাধীন ভোটার থেকে আরও ১৪,৪৫৮ জনের নাম বাদ গিয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৯,৩৭৫ জনের নাম বাদ যাওয়ায় বিধানসভা ‘টালমাটাল’।

তৃণমূল প্রার্থী খোকন দাসের দাবি, “এক দিকে, নির্বাচন কমিশন আর বিজেপির অত্যাচার। অন্য দিকে শহরের উন্নয়ন। ৩৫টি ওয়ার্ডেই আমরা জিতব।’’ বিজেপির প্রার্থীর দাবি, “ভূতের দাপাদাপি বন্ধ হচ্ছে। ফলে, জয় নিশ্চিত।”

বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রেও বিধানসভা ভোটের চেয়ে লোকসভায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি ভোটে জিতেছে তৃণমূল। জয়ের ব্যবধান ২৩,৯৭৭। সেখানে নাম বাদ গিয়েছে ৩০,১২২ জন ভোটারের।

বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের দাবি, “তৃণমূলের জয়ের ব্যবধানই বলছে কত ভূত আর ভুয়ো ভোটার লুকিয়ে ছিল। এসআইআরের পরে সেই ব্যবধান মুছে গিয়েছে।” ওই কেন্দ্রের বাসিন্দা, জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি গার্গী নাহার পাল্টা, “বিজেপি ও কমিশন গায়ের জোরে নাম বাদ দিয়েছে। ওই ভোটারেরা ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। ফল বেরোলে দেখা যাবে অনেকেই যোগ্য। প্রচুর নতুন ভোটারের নাম উঠেছে। বিজেপির কমিশন থাকলে, আমাদের কাছে মানুষ আছে।”

জোর তরজা ভাতারেও। বিজেপি প্রার্থী সৌমেন কার্ফার দাবি, যত নাম বাদ গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট যে তৃণমূল জিতবে না। তৃণমূল প্রার্থী শান্তনু কোঁয়ারের দাবি, “যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা কাদের ভোটার, এটা কি বলা যায়! চক্রান্ত করে নাম বাদ দেওয়া বিজেপির ক্ষেত্রেই বুমেরাং হয়ে গিয়েছে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bardhaman SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy