এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া মানেই তাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তা বলা যাবে না। বুধবার এ কথা জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের এই কথায় খানিক স্বস্তি পাচ্ছেন তাঁরা, জানাচ্ছেন নাম বাদ পড়া ভোটারদের অনেকে। তবে তাঁদের দাবি, সব রকম নথি দেওয়া হলেও, অনেকের নাম ভোটার তালিকায় ওঠেনি। সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখা দরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েও, বৈধ ভোটারদের অন্তর্ভুক্তির দাবি তুলেছে তৃণমূল ও সিপিএম।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিম বর্ধমানে শুধু কাঁকসা ব্লকেই দু’হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের অনেকেই ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। তবে এ বার তাঁরা ভোট দিতে পারেননি। এই পরিস্থিতিতে, ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন নাম বাদ যাওয়া ভোটারেরা। রাজবাঁধের অলোকরঞ্জন সরকারের স্ত্রী সুমিতা সরকারের নাম রয়েছে বাদ যাওয়ার তালিকায়। অলোকরঞ্জন জানান, তাঁর স্ত্রী দীর্ঘদিনের ভোটার। এসআইআরে প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’, তার পরে নাম বাদ যায় তাঁর। গত ৪ এপ্রিল ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও কোনও নিষ্পত্তি হয়নি। অলোকরঞ্জন জানান, বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী। তা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ পড়ল, বুঝে উঠতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘‘আমি কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে চাকরি করতাম। স্ত্রীর নাম বাদ যাওয়ার পরে যে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল, আজ তা একটু কমেছে। তবে সব নথি থাকা সত্ত্বেও কেন নাম বাদ গেল, সেটিও ভাবার বিষয়। ভোটার তালিকায় যাতে ফের নাম ওঠে, তা দেখা প্রয়োজন।’’
কাঁকসার ত্রিলোকচন্দ্রপুর গ্রামের কল্পনা রুইদাসের নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা দিনমজুরের কাজ করি। এখন যদি সরকারের সব সুবিধা পাওয়া থেকে আমাদের বাদ দিয়ে দেওয়া হয়, আমাদের বেঁচে থাকা মুশকিল হয়ে পড়বে। তবে আজ কোর্টের নির্দেশ জেনে ভাল লাগল। আশা করি, সব সমস্যা মিটে যাবে।’’
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন সিপিএমের পশ্চিম বর্ধমান জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অলোক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘‘এই রায়কে স্বাগত জানাচ্ছি। তবে যত ক্ষণ না সব বৈধ ভোটারেরা ভোটার তালিকায় স্থান পাচ্ছেন, লড়াই চলবে।’’ তৃণমূলের কাঁকসা ব্লক সাধারণ সম্পাদক পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমাদের দল প্রথম থেকেই বৈধ ভোটারদের জন্য লড়াই করে আসছে। আজ সুপ্রিম কোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, তাতে বৈধ ভোটারদের দুশ্চিন্তা কমবে। তবে আমাদের দাবি, তাঁদের নাম তালিকায় তুলতে হবে।’’
বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা বলেন, ‘‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাবে না। সুপ্রিম কোর্ট আজ সে কথার মান্যতা দিল। যাঁরা প্রকৃত বৈধ ভোটার, তাঁদের নথিপত্র দেখে অবশ্যই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেবে সরকার।’’ এ দিন আসানসোলে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল অবশ্য বলেন, ‘‘আগের রাজ্য সরকার ভোটব্যাঙ্কের রাজনীতির জন্য বহু অনুপ্রবেশকারীকে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার সুযোগ দিয়েছে। নতুন সরকার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসাবে চিহ্নিত করা হবে, তাঁদের বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)