বাবা মিনিবাসের চালক। মা বাড়ি-বাড়ি ঘুরে জিনিস বিক্রির কাজ করেন। অর্থ বড় প্রতিবন্ধকতা। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই চেজ় বক্সিংয়ের আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে সোনা জিতে আনার শপথ নিচ্ছেন মেয়ে।
অগস্টে কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে বসেছিল অষ্টম জাতীয় চেস বক্সিং প্রতিযোগিতা। বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় দু’শো প্রতিযোগী যোগ দেন সেখানে। সিনিয়র উইমেন্স ১৮-৪০ বছর (৪৪ কেজি) বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোনা জেতেন দুর্গাপুরের শিল্পা বর্ধন। তার সূত্রেই ১২-১৫ ডিসেম্বর তুরস্কে আয়োজিত তৃতীয় অ্যামেচার বিশ্ব চেস বক্সিং প্রতিযোগিতায় দেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ মিলেছে।
দুর্গাপুর গভর্নমেন্ট কলেজের কলা বিভাগে স্নাতকের ছাত্রী শিল্পা। সেই সঙ্গে গাঁধী মোড়ের এক বেসরকারি আইটিআই কলেজ থেকে দু’বছরের ইলেকট্রিসিয়ানের উপরে কোর্স করছেন। শিল্পা জানান, তিনি অ্যাথলিট ছিলেন। প্রশিক্ষক শীর্ষেন্দু বেরার অনুপ্রেরণায় চেস বক্সিং শুরু করেন। সে জন্য একই সঙ্গে দাবা ও বক্সিং শিখতে হয়েছে তাঁকে। এক রাউন্ড বক্সিং, পরের রাউন্ডে রিংয়ের মধ্যেই দাবা— এটাই খেলার নিয়ম। চার বছর প্রশিক্ষণ শেষে প্রথম বার কলকাতায় জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় নামেন। প্রথম চেষ্টাতেই বাজিমাত।
কিন্তু মুশকিল হয় তার পরেই। ২৮ অগস্ট ‘চেস বক্সিং অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল’-এর তরফে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, তুরস্কের প্রতিযোগিতায় যোগ দেওয়ার খরচ হিসাবে শিল্পাকে দেড় লক্ষ টাকা জোগাড় করতে হবে। তার আগে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে। বিপাকে পড়েন শিল্পা। ভাই স্বরূপ একাদশ শ্রেণিতে পড়ে। বাবা নেপালবাবু ও মা বীণাদেবীর পক্ষে এত টাকা এখন জোগাড় করা সমস্যার বিষয়।
রেজিস্ট্রেশন পর্ব মিটেছে ২২ সেপ্টেম্বর। তার খরচ দিয়েছেন বেসরকারি আইটিআই কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ বার দেড় লক্ষ টাকা জোগাড়ের চেষ্টায় নেমেছেন শিল্পা। ওই কলেজের কর্ণধার সুব্রত মিত্র জানান, আরও সাহায্য করা যায় কি না, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেছেন তাঁরা। শিল্পার কলেজের সহপাঠীরাও টাকা জোগাড়ে উদ্যোগী হয়েছেন। স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে সাহায্য চেয়েও আবেদন করেছেন শিল্পা। পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শিপ্রা সরকার জানান, ইতিমধ্যে তিনি পুরসভার সংশ্লিষ্ট দফতরে সেই আর্জি পাঠিয়ে দিয়েছেন। শিল্পা বলেন, ‘‘দেশের হয়ে সোনা জেতাই আমার এখন পাখির চোখ। সবার সহযোগিতায় আমি ঠিক সফল হব।’’