E-Paper

‘কাঁটা’ দ্বন্দ্ব, সিঁদুরে মেঘ দেখছে তৃণমূল

বর্তমান ব্লক তৃণমূল সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শেখ জাকির হোসেনের মধুর সম্পর্কের কথা এলাকায় কারও অজানা নয়।

কাজল মির্জা

শেষ আপডেট: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার করছেন না। উল্টে বলছেন, ‘প্রার্থীকে আগের থেকেও বেশি ভোটে জেতাব’। কিন্তু গলসিতে তৃণমূলের অন্দরে কোন্দলের কথা অজানা নয় কারও। এ বার বিধানসভা ভোটে সেই কাঁটা উপড়ে প্রার্থী অলোক কুমার মাঝিকে তৃণমূল আইনসভায় পাঠাতে পারবে কিনা, তা নিয়ে চর্চা চলছে সর্বত্রই। তৃণমূলের অন্দরেও এ নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, এক পক্ষের ডাকা কর্মসূচিতে অন্যপক্ষের অনুপস্থিতি ইতিমধ্যেই দলের নজরে এসেছে।

গত বার গলসি থেকে জিতেছিলেন তৃণমূলের নেপাল ঘড়ুুই। এ বার এই কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে জামালপুরের বিদায়ী বিধায়ক অলোককে। দলের অন্দরে গুঞ্জন, অলোককে দু’পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য করার চেষ্টায় দল কসুর করেনি। কিন্তু এই চাল কতটা কাজ দেবে তা নিয়ে ধন্ধ রয়েই গিয়েছে দলের অন্দরে।

গলসিতে তৃণমূলের অন্দরের চিত্র ঠিক কেমন?

বর্তমান ব্লক তৃণমূল সভাপতি জনার্দন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জেলা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা তথা প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শেখ জাকির হোসেনের মধুর সম্পর্কের কথা এলাকায় কারও অজানা নয়। জাকিরকে সরিয়ে জনার্দনকে ব্লক সভাপতি করার পরেই দু’জনের দূরত্ব বাড়তে থাকে। তার পরে বারবার সামনে এসেছে দুই গোষ্ঠীর কোন্দল। সম্প্রতি বড় কোনও অশান্তি না হলেও দু’জনকে এক মঞ্চে খুব কমই দেখা গিয়েছে। গত বিধানসভা ভোটের আগে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠায় ঝুঁকি না নিয়ে জনার্দন-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অলোককে জামালপুরে পাঠিয়ে তাঁর পরিবর্তে প্রার্থী করা হয়েছিল নেপালকে। কিন্তু গত পাঁচ বছরে কোন্দল কমা তো দূরের কথা, দু’পক্ষের রেশারেশিতে বন্ধ হয়েছে একের পর এক তৃণমূল কার্যালয়। গোষ্ঠী সংঘর্ষও হয়েছে একাধিক বার।

দলীয় সূত্রের খবর, গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে জাকিরের সম্পর্কে চিড় ধরায় অলোককে গলসি থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় জামালপুরে। তা হলে কেন অলোককে ফিরিয়ে আনা হল গলসিতে? তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, সব সমস্যা মিটে গিয়েছে। এক সঙ্গে লড়াই করার কথা বলেছেন সকলেই। সেই কারণেই গলসিতে প্রার্থী করা হয়েছে অলোককে।

তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রার্থী ঘোষণার পরেও দলের চিত্রের তেমন বদল হয়নি। উল্টে ভোট যত এগিয়ে আসছে, দুই গোষ্ঠীর বিবাদ তত বাড়ছে। নেতৃত্বের একাংশের দাবি, দলের ব্লক সভাপতির ডাকে কর্মিসভায় অলোক থাকলেও গরহাজির ছিলেন জাকির ও তাঁর অনুগামীরা। আবার অলোককে নিয়ে জাকির কর্মিসভা ও প্রচার করলেও সেখানে দেখা যায়নি ব্লক সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের। এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অনেকে। যদিও জাকিরের বক্তব্য, “দ্বন্দ্ব নিয়ে প্রচার করে ভুল বার্তা ছড়ানো হচ্ছে। দলে কোনও কোন্দল নেই।’’ অলোকের প্রার্থিপদ নিয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া, ‘‘এটি সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। দলের প্রতীকে যিনি দাঁড়াবেন, তাঁকেই আমরা জেতাব।” ব্লক সভাপতিরও দাবি, “কোনও গোষ্ঠী-কোন্দল দলে নেই। আগের বার দলীয় প্রার্থীকে আমরা জিতিয়েছি। অলোককেও বহু ভোটে জেতাব।” আর অলোক বলছেন, ‘‘তৃণমূলের ব্যানারে কর্মসূচি হচ্ছে। দু’জায়গায় কর্মিসভা হয়েছে। আমি দু’জায়গাতেই আমি গিয়েছি। দলের কর্মীরা নিজের মতো করে এখন প্রচার করছে। বড় মিছিল ও সভা হলে সকলেই থাকবে। কোনও দ্বন্দ্ব নেই।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Galsi TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy