স্কুলের দখল হয়ে যাওয়া জমি ফেরত পেতে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি দিয়েছেন দুর্গাপুরের নেপালিপাড়া হিন্দি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক কলিমুল হক। তাঁর অভিযোগ, ‘‘এর আগে প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। থানায় বিক্ষোভ দেখিয়েছে পড়ুয়ারা। কিছু হয়নি। তাই শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি।’’ মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের জমি দখলের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্গাপুরের কোকআভেন থানার লোবারহাট এলাকায় এই হাই স্কুল গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের সংস্থা দুর্গাপুর প্রজেক্টস লিমিটেড (ডিপিএল)১৯৮৫ সালে প্রায় ৪ একর জমি দেয়। তার মধ্যে প্রায় দেড় একর জমি দখল করে বেআইনি ঝুপড়ি গড়ে উঠেছে বলে স্কুলের অভিযোগ। স্কুলে বর্তমানে চার হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী রয়েছে। পঞ্চম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত প্রতিটি শ্রেণিতে ৪টি করে বিভাগ রয়েছে। প্রতি বিভাগে গড়ে ১৪০-১৫০ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শ্রেণিকক্ষ ৩২টি। তাতে ঠিকমতো স্থান সঙ্কুলান হয় না বলে দাবি স্কুল কর্তৃপক্ষের।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘রোবোটিক ক্লাসরুম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গবেষণাগার নির্মাণ করা হবে। সে জন্য শিক্ষা দফতর থেকে ছ’টি এবং একটি বেসরকারি সংস্থার সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থে দু’টি, মোট আটটি শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হবে। প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘আমাদের হাতে বর্তমানে যে জায়গা আছে, সেখানে নতুন কোনও পরিকাঠামো নির্মাণ আর সম্ভব নয়। তাই, নতুন শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করতে গেলে দখল হওয়া জায়গা ফেরত চাই।’’ অভিযোগ, স্কুলের ওই জায়গায় প্রায় ১০০ ঘর নির্মাণ হয়েছে। এক বার নির্মাণ কাজ শুরু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দখলদারদের বাধায় কাজ বন্ধ হয়ে যায়। সেখানকার বাসিন্দাদের অনেকের প্রশ্ন, ‘‘আমাদের বাবা-মা এখানে বাস করতেন। আমরা জানি, সরকারি জমি। উচ্ছেদ হলে আমরা যাব কোথায়?’’ স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাত্র দু’টি ঘর সরে গেলেও কাজ শুরু করা সম্ভব। তাঁদের অন্যত্র ঘর তৈরি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েও লাভ হয়নি।
এপ্রিলে এক দিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা কোকআভেন থানায় গিয়ে বিক্ষোভ দেখায়। থানায় লিখিত অভিযোগও করা হয়। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেয়। প্রধান শিক্ষক জানান, আর্থিক বরাদ্দহয়েছে। ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন হয়ে গিয়েছে। শুধু জায়গার অভাবে কাজ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‘স্কুলের পরিকাঠামো নির্মাণ থমকে গিয়েছে জায়গার অভাবে। দ্রুত কাজ না হলে ছাত্রছাত্রীরা বঞ্চিত হবে। তাই সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে চিঠি পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছি।’’ মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,ইতিমধ্যে অভিযোগ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)