প্ল্যাটফর্মে নাটক থেকে মাইকে নিয়মিত ঘোষণা— ট্রেনে আলাপ হওয়া সহযাত্রীর কাছ থেকে খাবার বা পানীয় না নেওয়ার জন্য প্রচার চালানো হয় নানা ভাবে। চলন্ত ট্রেনে মাদক মেশানো খাবার খেয়ে সর্বস্ব খোয়ানোর ঘটনা তবু ঘটেই চলেছে। রবিবারও বর্ধমান স্টেশনে অচেতন অবস্থায় পাঁচ যুবককে উদ্ধার করল রেলপুলিশ।
ডাউন কালকা মেলের অসংরক্ষিত কামরার যাত্রী ছিলেন ওই পাঁচ যুবক। তাঁদের মধ্যে রোহিত কুমার, সুরেশ কুমার ও বসন্ত রানাওয়াতের বাড়ি ঝাড়খণ্ডে। সফিরুল শেখ কালনার পাথরডাঙা ও নবকুমার প্রধান মঙ্গলকোটের চাকুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁরা জানান, কানপুর স্টেশন পেরোনোর পরে তিন-চার জন যুবক ট্রেনে উঠে তাঁদের সঙ্গে ভাব জমায়। পরে তাদের দেওয়া ঠান্ডা পানীয় ও বিস্কুট খেয়ে অচেতন হয়ে পড়েন তাঁরা। সহযাত্রীরা খবর দিলে রেলপুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। সফিরুলেরা জানান, তাঁদের সব জিনিসপত্র খোয়া গিয়েছে।
ট্রেনে মাদক মেশানো খাবার খাইয়ে অচেতন করে লুঠপাট নতুন নয়। গত কয়েক বছরে নানা স্টেশন থেকে এই ধরনের বহু যাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। আরপিএফ সূত্রে জানা যায়, এক দল দুষ্কৃতী যাত্রী সেজে উঠে এই কাণ্ড করে। তারা প্রথমে সহযাত্রীর সঙ্গে আলাপ জমায়। তার পরে গল্প-আড্ডার ফাঁকে সঙ্গে আনা মাদক মেশানো পানীয় বা বিস্কুট খেতে দেয়। যাত্রীর যাতে সন্দেহ না হয় সে জন্য অনেক সময় হকারের কাছ থেকে চা বা খাবার কেনে। সেক্ষেত্রে তা সহযাত্রীর হাতে দেওয়ার সময়ে আঙুলের ফাঁকে রাখা মাদক মিশিয়ে দেয়। যাত্রী অচেতন হলেই জিনিসপত্র নিয়ে নেমে যায় তারা।
বারবার এমন ঘটনা ঘটতে থাকায় বছর কয়েক আগে আরপিএফ সচেতনতামূলক প্রচার চালানো শুরু করে। স্টেশনে নাটক করে, পোস্টার সাঁটিয়ে, মাইকে ঘনঘন ঘোষণা করে, যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে এই প্রচার করা হয়। ট্রেনে আলাপ হওয়া কারও কাছ থেকে কোনও খাবার না নেওয়া, হকারের কাছ থেকে সরাসরি খাবার কিনে খাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। পূর্ব রেলের আসানসোল ডিভিশনে আরপিএফের যাত্রী সুরক্ষা পর্যবেক্ষক তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘শনিবারও আসানসোল স্টেশনে নাটক করা হয়েছে। লাগাতার প্রচারে যাত্রী সচেতনতা খানিকটা হলেও বেড়েছে। তবে দূরপাল্লার ট্রেনগুলির যাত্রীদের আরও সতর্ক হতে হবে।’’