তিন দিনের ‘জব ফেয়ার ও কেরিয়ার কাউন্সেলিং’ শুরু হয়েছে আউশগ্রামের একটি বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে। উদ্যোক্তাদের আশা, অন্তত ২০০ পড়ুয়া নিয়োগপত্র পাবেন এই অনুষ্ঠান থেকে। ওই পলিটেকনিক কলেজের অন্যতম কর্ণধার মলয় পিটের দাবি, ‘‘রাজ্যের বিভিন্ন জেলা যেমন বীরভূম, বাঁকুড়া, হুগলি, বর্ধমানের বিভিন্ন পলিটেকনিক কলেজকে আমরা এই জব ফেয়ারে পড়ুয়াদের পাঠিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে বলেছিলাম। পাঁচ হাজারের মতো সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, ফিটার, গ্রাইন্ডার, টেক্সটাইল প্রভৃতি বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা এতে যোগ দিয়েছিলেন।’’ শনিবার থেকে শুরু হওয়া ওই অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের তরফে আরও জানানো হয়েছে, পলিটেকনিক ও আইটিআই পাশ করা এবং চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়াদের তাৎক্ষণিক ইন্টারভিউ নিয়ে হাতে হাতে নিয়োগপত্র দিতে হাজির হয়েছে প্রায় ৩০টি সংস্থা। তাঁদের আরও দাবি, শনিবার ১২টি ও রবিবার ১৮টি সংস্থা পড়ুয়াদের ক্যাম্পাসিংয়ে ডেকেছে। আপাতত চূড়ান্ত ভাবে ডাক পেয়েছেন ৪০জন। কিন্তু অন্তত ২০০ জন এই জব ফেয়ার থেকে নিয়োগপত্র পাবেন বলেও তাঁদের আশা। বর্ধমান জেলা পরিষদের কর্মাধক্ষ্য গোলাম জার্জিসও বলেন, “গত দু’বছর ধরে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে এই মেলা শুরু হয়েছে। তবে এ বারই ছাত্রছাত্রীদের সরসারি ইন্টারভিউতে হাজির করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ তাঁর দাবি, ‘‘পরের বছর এখান থেকে নিয়োগপত্র পাবেন আরও অনেকে।’’ আউশগ্রামের অভিরামপুরে এনএস পলিটেকনিক কলেজ প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চার মন্ত্রী, স্বপন দেবনাথ, উজ্বল বিশ্বাস, চন্দ্রনাথ সিংহ ও মলয় ঘটক। ছিলেন গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান বুর্ধেন্দু রায়, কাউন্সিলার মল্লিকা চোঙদার-সহ আরও অনেকে। কারিগরি মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস বলেন, “আমরা বছরে পাঁচ লক্ষ বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছি। এই কাজে রাজ্যে একটি প্রযিুক্তগত শিক্ষার পরিকাঠামো তৈরি হবে।’’ তাঁর আরও দাবি, ‘‘আমরা গত চার বছরে রাজ্যে ১১০টি আইটিআই তৈরি করছি। তার মধ্যে ৭০টি চালু হয়ে গিয়েছে। ৪৩টি পলিটেকনিক কলেজও চালু করা হয়েছে।” মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ বলেন, “বেকার যুবক যুবতীদের ভিড় দেখলে খুব খারাপ লাগে। তার মধ্যে আমরা এইটুকু কর্মসংস্থান করতে পেরেছি বলে আনন্দ হচ্ছে।” পড়ুয়াদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “হতাশ হবেন না, নিজেদের লড়াই চালিয়ে যান। আমরা আপনাদের পাশে রয়েছি।”