Advertisement
E-Paper

নামী কোম্পানির জলের বোতল কিনে এক ঢোক খেতেই রক্তবমি প্রৌঢ়ের! মিষ্টি দোকানির কাণ্ডে চাঞ্চল্য বর্ধমানে

বর্ধমানে মিষ্টির দোকান থেকে কেনা জলের বোতল থেকে জলপান করে সঙ্কটজনক অবস্থা এক ব্যবসায়ীর। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:১৯
Bardhaman Packaged Drinking Water Case

অসুস্থ হয়ে ওই ব্যক্তি এখন কলকাতার একটি হাসপাতালে রয়েছেন। —নিজস্ব ছবি।

প্রচণ্ড তেষ্টা পাচ্ছিল। বাইক দাঁড় করিয়ে নামী কোম্পানির স্টিকার দেওয়া একটি জলের বোতল কিনেছিলেন প্রৌঢ়। কিন্তু প্লাস্টিকের সিল এবং ছিপি খুলে এক ঢোক গলায় ঢালতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। খানিক বাদে শুরু হয় রক্তবমি। পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের ঘটনা। যে মিষ্টির দোকান থেকে ওই জলের বোতল কেনা হয়েছিল, তার দোকানদারের কাছ থেকে ‘চাঞ্চল্যকর তথ্য’ পেল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ৫৬ বছর বয়সি জয়জিৎ মহন্তের বাড়ি জামালপুর থানার দোলতলায়। সোমবার দুপুরে বাইক নিয়ে কাজে বেরিয়েছিলেন ওই ব্যবসায়ী। জামালপুরের হালাড়ামোড়ে বাইক দাঁড় করিয়ে একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকেছিলেন পানীয় জল কিনতে। দোকানদার নামী কোম্পানির জলের বোতল ধরিয়ে দেন। টাকা মিটিয়ে বোতলের প্লাস্টিকের সিল খুলে এক ঢোক জল খান প্রৌঢ়। সঙ্গে শুরু হয়ে যায় সমস্যা। জয়জিতের দাদা বিশ্বজিৎ মহন্ত বলেন, ‘‘২ লিটার পানীয় জলের একটি বোতল কিনেছিল ভাই। খানিকটা জল খাওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়ে ও। রক্তবমি শুরু হয়ে যায়। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসতে শুরু করে।’’ এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় কলকাতার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে জয়জিতের।

পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে, নামী কোম্পানির জলের বোতল ভরে ছানা কাটানোর বিষাক্ত তরল রাসায়নিক ভরা ছিল। দোকানদার ও-ই বোতলই ভুল করে বিক্রি করেছিলেন। জামালপুর থানার ওসি-র নেতৃত্বে হালাড়ার মিষ্টির দোকানে যায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে দোকানদার প্রণব সরকার তাঁর ভুল স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, সিল করা জলের বোতলে ছানা কাটানোর রাসায়নিক (মিল্ক অ্যান্টি ফাঙ্গাস অ্যাসিড) রাখা ছিল। একই রকম রাসায়নিকের আরও একটি বোতল ওই দোকান থেকে বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।

জলের মতো দেখতে মিল্ক অ্যান্টি ফাঙ্গাস অ্যাসিড অত্যন্ত বিষাক্ত। খালি পেটে ওই অ্যাসিড মাত্র পাঁচ ফোঁটা খেয়ে ফেললে মৃত্যু হতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এমন রাসায়নিক ছানা কাটানোর জন্য অনেক মিষ্টির দোকানদার ব্যবহার করেন। ওই রাসায়নিক ব্যবহারে দীর্ঘ দিন ছানা তাজা থাকে। কিন্তু ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তা-ই প্রশাসনের নজর এড়াতে নামী কোম্পানির জলের বোতল ব্যবহার করে ওই তরল রাখছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। বর্ধমানের প্রৌঢ়কে তারই একটি বোতল বিক্রি করা হয়েছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বিষয়টি। তবে পরিবারের লোকজন এখনও লিখিত অভিযোগ করেননি। তাঁরা রোগীকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন। তাঁদের অভিযোগ পেলে পৃথক ভাবে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।

Bardhaman Drinking water
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy