জমি নিয়ে বিবাদের জেরে ভাইকে খুনের অভিযোগ উঠল দাদার বিরুদ্ধে। গুরুতর জখম হয়েছেন নিহতের স্ত্রী-ও। বর্ধমানের মেমারির বড়পলাশনে এই ঘটনায় অভিযুক্তেরা পলাতক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম নাসের মোল্লা (৫৮)। তাঁর স্ত্রী কোহিনুর বিবি ভর্তি রয়েছেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁদের ছেলে বকুল মোল্লা জানান, শনিবার দুপুরে তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তাঁদের শৌচাগারের উপর দিয়ে জোর করে বিদ্যুতের তার নিয়ে যাচ্ছিল জ্যাঠা জিবাদ মোল্লা। সেই নিয়ে বিবাদ শুরু হয়। বকুল অভিযোগ করেন, খবর পেয়ে তিনি বাড়িতে গেলে তাঁকে মারধর করে ঘরের ভিতরে আটকে রাখা হয়। এর পরে জিবাদ ও তার স্ত্রী-ছেলেরা মিলে নাসের ও কোহিনুরকে শাবল, লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। প্রতিবেশীরা ছুটে এলে তারা পালিয়ে যায়।
বকুল জানান, গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁর বাবা ও মাকে প্রথমে মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখান থেকে তাঁদের রেফার করা হয় বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পরেই চিকিৎসকেরা নাসের মোল্লাকে মৃত বলে জানান। রবিবার দেহের ময়না-তদন্ত হয়। কোহিনুর বিবি জরুরি বিভাগে ভর্তি রয়েছেন।
নিহতের আত্মীয় সাবির মোল্লা রবিবার বর্ধমান হাসপাতালে দাঁড়িয়ে দাবি করেন, জমি-জায়গা নিয়ে দুই ভাইয়ের বিবাদ অনেক দিনের। খুঁটিনাটি বিষয় নিয়েই তাঁদের মাঝে-মধ্যে ঝামেলা হত। শনিবারও ঝামেলা বাধলে তা থেকে এই পরিণতি হয় বলে দাবি করেন তিনি। বকুল কাঁদতে-কাঁদতে বলেন, ‘‘আমাকে ঘরে বন্ধ করে রেখেছিল। জানলা দিয়ে দেখলাম, আমার বাবা-মাকে নির্মম ভাবে মারল ওরা। কিছুই করতে পারলাম না।’’
পুলিশ জানায়, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুনের কোনও লিখিত অভিযোগ হয়নি। তবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।