ভোট দিতে পারবেন না জেনেও ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। আশায় ছিলেন, শেষ মুহূর্তে নাটকীয় কোনও পরিবর্তন হবে। ভোট দিতে পারবেন তিনি। কিন্তু তা হয়নি। ফলে ভোট হলেও এ বার আঙুলে ভোটের কালি পড়েনি। অগত্যা, হতাশ হয়েই বাড়ি ফিরতে হয়েছে কুলটি বিধানসভার বরাকরের বাসিন্দা রাজোদেবী মণ্ডলকে। ভোট না দিতে পারার আক্ষেপ চেপে রাখতে পারেননি তিনি। ভোটকেন্দ্র ছাড়ার আগে বললেন, ‘‘এ বার আঙুলে ভোটের কালি পড়ল না। অতীতে যা হয়নি, এ বারের ভোটে তাই হল।’’ ক্ষুব্ধ রাজোর মতো অনেকেই। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনের জেরে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে এমন অনেকের নাম, যাঁরা অতীতে নিয়ম করে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। ভোট মানে তাঁদের কাছে উৎসব। এ বার গণতন্ত্রের উৎসবে তাঁরা কেবল দর্শক।
ভোট দিতে না পারা এক প্রৌঢ়ের কথায়, ‘‘সবাই ভোট দিচ্ছে, আমি বাদ পড়লাম। গণতন্ত্রের অধিকার হরণ করা হল।’’ কুলটি বিধানসভার বরাকর আদর্শ বিদ্যালয়ের ভোটার রাজোদেবী। তিনি বলেন, ‘‘ভোট দিতে এসেছিলাম। তালিকায় নাম বাদ পড়ায় ভোট দিতে পারলাম না। সব নথি জমা করার পরেও আমার নাম বাদ পড়েছে। খুব সমস্যায় পড়েছি। ওরা বলছে আবার ফর্ম পূরণ করতে হবে। তার পরে ভোটার তালিকায় নাম উঠলে তবে ভোট দিতে পারব। হঠাৎ কী এমন হল যে আমাদের ভোট দিতে দেওয়া হল না?’’
বারাবনির সালানপুর ব্লকের ভোটার সুকুমার দে-র আক্ষেপ,‘‘আমি এ বার নির্বাচনে ভোট দিতে পারলাম না। নাম বাদ পড়েছে এসআইআরে। আমরা ছোটো থেকে এখানেই থাকি। বাবা হিন্দুস্থান কেব্লস কারখানায় কাজ করত। ফর্ম পূরণ করেছি, সব নথি দিয়েছি। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে এবং আমি এক সঙ্গে নথি জমা দিয়েছিলাম। স্ত্রী, ছেলে, মেয়ের নাম তালিকায় থাকলেও আমার নাম বাদ গিয়েছে। শুনানি থেকে শুরু করে যেখানে বলেছে সেখানেই সমস্ত নথি দিয়েছি। তা সত্ত্বেও নাম উঠল না। ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হল। এমন ঘটনা যে ঘটবে তা কোনও দিন কল্পনাতেও ছিল না।’’
ভোটের কথা উঠতেই রীতিমতো ঝাঁঝিঁয়ে উঠলেন সালানপুরের হিন্দুস্তান কেব্লস কলোনির বাসিন্দা দীপক মল্লিক। বললেন, ‘‘কী করে ভোট দেব? ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গিয়েছে। পরিবারের আট জন সদস্যের মধ্যে এক জনের নাম তালিকায় উঠেছে। আমার স্ত্রী ছাড়া কারও নাম ভোটার তালিকায় নেই।’’ তাঁরও দাবি, ‘‘সমস্ত নথিপত্র দেওয়ার পরেও আমাদের পরিবারের সাত জনের নাম বাদ পড়েছে। ভোট না দিতে পারায় খারাপ লাগছে। দীর্ঘ ২০ বছরের বেশি এখানে বাস করছি। সবাই ভোট দিল, আমরা পারলাম না। খুব খারাপ লাগছে। আমাদের ভোটাধিকার কেড়ে কার কী লাভ হল?’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)