E-Paper

কে করবে পাকা সেতু, প্রচারে দড়ি টানাটানি

সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক জাহানারা খান জানান, বিধানসভায় দরবারডাঙায় স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব বহু বার রেখেছেন।

নীলোৎপল রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৪
বার্নপুরে সাঁকো।

বার্নপুরে সাঁকো। নিজস্ব চিত্র।

জেলার খনি শিল্পাঞ্চলে অজয় ও দামোদর নদের উপরে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ফের ভোটের সব দলের প্রচারে থাকছে জামুড়িয়ায় অজয়ের দরবারডাঙা ও আসানসোল দক্ষিণের হিরাপুরে দামোদরে ঈশ্বরদা ঘাটে সেতুনির্মাণের প্রসঙ্গ।

প্রতি বছর অজয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করা হয়। সেটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষার শুরু থেকে প্রায় তিন মাস যাতায়াত বন্ধ থাকে। কয়েক মাস নৌকায় যাতায়াত চলে। পশ্চিম বর্ধমান জেলা বণিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অজয় খেতানের দাবি, “দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে দু’-দু’বার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে স্থায়ী সেতুর আর্জি জানানো হয়েছিল। কিন্তু দু’বারই মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই তহবিলে টাকা না থাকায় পাকা সেতু করা যাবে না।” তিনি বলেন, “পাকা সেতু তৈরি হলে বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের মধ্যে বাণিজ্য আরও উন্নত হবে।” দরবারডাঙার মধুসূদন সোমণ্ডল জানান, এপারের অনেক চাষির বীরভূমে জমি আছে। বীরভূমের খয়রাশোল ও লাগোয়া ঝাড়খণ্ডের নলার প্রায় একশোটি গ্রাম থেকে কৃষকেরা জামুড়িয়া বাজারে আনাজ নিয়ে আসেন। বীরভূমের রাম সোমণ্ডল, পবন মণ্ডলদের কথায়, “খয়রাশোল এবং নলার একটি বড় অংশ কলেজ থেকে হাসপাতাল— রানিগঞ্জ বা আসানসোলের উপর নির্ভরশীল। বর্ষায় নৌকা না চললে বিপাকে পড়তে হয়।”

সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক জাহানারা খান জানান, বিধানসভায় দরবারডাঙায় স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রস্তাব বহু বার রেখেছেন। কিন্তু কোনও সরকার উদ্যোগী হয়নি। এ বারও প্রচারে এটিতে গুরুত্ব দিয়েছেন। বিজেপি প্রার্থী বিজন মুখোপাধ্যায় ও কংগ্রেস প্রার্থী তরুণ গঙ্গোপাধ্যায়ের আশ্বাস, তাঁরা রাজ্যে ক্ষমতায় এসে দরবারডাঙায় সেতু করবেন।‌ তৃণমূল প্রার্থী হরেরাম সিংহ বলেন, “এ বার জিতেই এই কাজ করব।”

একই পরিস্থিতি হিরাপুরেও। দামোদরে আড়াই দশকের মধ্যে একে একে কুখড়াকুড়ি, ঈশ্বরদা, সাবুরবাঁধ, ভুতাবুড়ি ঘাটে চারটি অস্থায়ী সেতু দিয়ে বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও পুরুলিয়ার একাংশের মানুষ যাতায়াত করেন। ‘দামোদর বিহারীনাথ সেতুবন্ধন কমিটি’র সম্পাদক, বাঁকুড়ার তিলুড়ির বাসিন্দা চন্দন মিশ্র জানান, শালতোড়া ব্লকের পুরো, মেজিয়া, ছাতনা ও পুরুলিয়ার সাঁতুড়ির একাংশ গ্রাম ছাড়াও হিরাপুরের হিরাপুর, বার্নপুর-সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া ওই এলাকার একটি বড় অংশ বার্নপুর ও আসানসোলের উপর নির্ভরশীল। কয়েকশো‌ ঠিকাকর্মী ইস্কোয় চাকরি করেন। অনেক গ্রামের কৃষক আনাজ নিয়ে বার্নপুর এবং লাগোয়া এলাকায় যান। বার্নপুরের গৌতম সরকার জানান, নদ পেরিয়ে বাঁকুড়া প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। কিন্তু বছরে তিন মাস রানিগঞ্জের প্রায় দ্বিগুণ রাস্তা পেরোতে হচ্ছে।‌ ঈশ্বরদা ঘাট পর্যন্ত পাকা রাস্তা আছে। তাইএই অস্থায়ী সেতুটি পাকা করা হলে ভাল হয়।

আসানসোল দক্ষিণের কংগ্রেস প্রার্থী সৌভিক মুখোপাধ্যায় ও সিপিএম প্রার্থী শিল্পী চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকার দায়ী করে বলেন, “এই দুই দলকে ক্ষমতা না সরালে পাকা সেতু হবে না।” আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের দাবি, “সেতু করতে গেলে নিয়ম অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সরকারকে ৬০ শতাংশ এবং রাজ্য সরকারকে ৪০ শতাংশ টাকা দিতে হয়। রাজ্যের কাছে বহু বার যৌথ ভাবে, না হলে কেন্দ্রীয় সরকারকে একা কাজটি করার অনুমতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। এই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি।”

আসানসোল উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক ও আসানসোল দক্ষিণের প্রার্থী তাপস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তাহারে সেতু তৈরির কথা রয়েছে। তাপসের দাবি, “কেন্দ্রীয় সরকারএই রাজ্যে বিভিন্ন নদীতে সেতু তৈরিতে সাহায্য করেনি। এ বার নির্বাচনী ইস্তাহারে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিজেদের উদ্যোগে পাকা সেতু করা হবে।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Damodar River Bridge

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy