E-Paper

ভোল বদলে বাঘ, বনবাংলোয় সাজবে রমনাবাগান

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রমনাবাগানে চারটে চিতা, সাদা সজারু (রাজ্যের আর কোনও চিড়িয়াখানাতে নেই), দুটি ভালুক, চিতল,বার্কিং ডিয়ার, স্পটেড ডিয়ার মিলিয়ে ১১৫টি হরিণ রয়েছে।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুশান্ত সরকার

শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৩ ১০:১০
বর্ধমানের রমনাবাগান পরিদর্শন। নিজস্ব চিত্র

বর্ধমানের রমনাবাগান পরিদর্শন। নিজস্ব চিত্র

বর্ধমান মিনি জু থেকে পাঁচ বছর আগে ‘বর্ধমান জিওলজিক্যাল পার্ক’ হয়ে উঠেছিল রমনাবাগান। তবে নাম পরিবর্তন হলেও চরিত্রগত কোনও পরিবর্তন হয়নি। রবিবার রাজ্যের জ়ু অথরিটির সদস্য-সচিব সৌরভ চক্রবর্তীকে নিয়ে রমনাবাগান পরিদর্শন করেন বনমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। পরে বর্ধমানের সার্কিট হাউসে বন দফতরের কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন। ছ’মাসের মধ্যে পরিকল্পনা অনেকটাই সফল হবে বলে দাবি করেছেন বনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘‘এখানে ছোট চিড়িয়াখানা তৈরি করা হবে। পরিকাঠামোগত উন্নতি করার পরে বাঘ, সিংহ, গন্ডার আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়াও পাখি ও সাপের জন্য অনেকগুলি খাঁচা (এনক্লোজার) করা হবে।’’ রমনাবাগানের ভিতরে ডিয়ার পার্ক করা হবে বলেও জানান তিনি। সৌরভ বনমন্ত্রীকে জানান, রাঁচি, রায়গড় ও মহারাষ্ট্র থেকে বাঘ, সিংহ আনা হবে। সেই মতো কেন্দ্রীয় জ়ু অথরিটির অনুমতি চাওয়া হয়েছে।

১৪.৩১ হেক্টর জমিতে রমনাবাগান গড়ে উঠেছে। ১৯৬০ সালে বন দফতরের হাতে আসে সেটি। ১৯৭৮ সালে সেখানে তৈরি হয় ডিয়ার পার্ক। পরবর্তীতে আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য হরিণের পাশাপাশি কুমির, চিতাবাঘ আনা হয়। তখন ডিয়ার পার্কের নাম বদলে হয় ‘বর্ধমান মিনি জু’। বন দফতর সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় জ়ু অথরিটির পরামর্শে রমনাবাগানের ভোল বদলে দিতে চাইছে সরকার। ঠিক হয়েছে, গাঙ্গেয় সমভূমি এলাকার পশুপাখিদের এখানে রাখা হবে ও প্রকৃতি পর্যবেক্ষণে জোর দেওয়া হবে। রমনাবাগানের ভিতর পাখিদের জন্য চারটে খাঁচাও তৈরি করা হবে। দেশীয় পাখিদের (টিয়া, ময়না, চন্দনা) রাখা হবে সেখানে। সাপেদের জন্য পৃথক জায়গা থাকবে। এ ছাড়াও গাঙ্গেয় সমভূমিতে দেখা যায়, এমন শেয়াল, হায়না ও নেকড়েদের সংরক্ষণে জোর দেওয়া হয়েছে।

বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, রমনাবাগানে চারটে চিতা, সাদা সজারু (রাজ্যের আর কোনও চিড়িয়াখানাতে নেই), দুটি ভালুক, চিতল,বার্কিং ডিয়ার, স্পটেড ডিয়ার মিলিয়ে ১১৫টি হরিণ রয়েছে। রয়েছে পাঁচটা কুমির, গোটা তিনেক ময়ূর ও চারটে বাজ। উদ্ধার হওয়া বেশ কয়েকটি বাঁদরও আছে এখানে। কিন্তু দর্শকদের জন্য ভাল বসার জায়গা কিংবা পানীয় জলের বন্দোবস্ত নেই। চিড়িয়াখানার ভিতরে রাস্তার হালও ভাল নয়। মন্ত্রী বলেন, ‘‘ঢালাই রাস্তা, বয়স্কদের জন্য ছোট গাড়ির ব্যবস্থা হবে। বন-বাংলো তৈরি হবে। বর্ধমানকে ঘিরে আমাদের অনেক আশা রয়েছে।’’

জেলা বনাধিকারিক নিশা গোস্বামীকে তিনি বলেন, ‘‘টাকা রয়েছে। পরিকাঠামো সংক্রান্ত কাজগুলি দ্রুত করে ফেললেই পশু-পাখি চলে আসবে। কাজ ফেলে রাখবেন না।’’ ডিএফও বলেন, ‘‘কিছু দিনের মধ্যেই বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy