Advertisement
E-Paper

Madhyamik Exam 2021: রোজগারের তাড়নায় ভিনরাজ্যে ছাত্রেরা, টেস্ট পরীক্ষায় অনুপস্থিত অনেকেই, চিন্তায় স্কুল

মঙ্গলবার স্কুলের মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা শুরুর দিন ছাত্রই অনুপস্থিত ছিল। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছেন, তাঁদের  ছ’মাস আগেই  কেউ পাড়ি দিয়েছে কেরলে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ ডিসেম্বর ২০২১ ২২:৩৩
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

প্রায় আড়াই বছর লকডাউন থাকায় অভাবের তাড়নায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পড়ুয়ারা ভিনরাজ্যে শ্রমিকের পাড়ি দিয়েছে। তেমনই কিছু ছাত্রছাত্রী আবার চাষের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। সে কারণেই মঙ্গলবার পূর্ব বর্ধমানের কয়রাপুর গ্রামের বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ হাইস্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় গরহাজির ছিল অনেকে। অনুপস্থিত পড়ুয়াদের মধ্যে বেশিরভাগই ছাত্র। দীর্ঘ লকডাউনের তাদের সংসারে অভাব-অনটনে ঋণগ্রস্ত হয়েছে । তাই ঋণ পরিশোধ করার জন্যই পরিবারের ছেলেদের ভিনরাজ্যে রোজগারের জন্য কাজে পাঠানো হয়েছে বলে জানান অবিভাবকরা।

মঙ্গলবার স্কুলের মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষা শুরুর দিন ছাত্রই অনুপস্থিত ছিল। স্থানীয়দের একাংশ জানাচ্ছেন, তাঁদের ছ’মাস আগেই কেউ পাড়ি দিয়েছে কেরলে। আবার কেউ চেন্নাইতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে চলে গিয়েছে। নতুন করে ছাত্র টানতে ফের বাড়ি বাড়ি প্রচারে শিক্ষকরা নামবেন বলে স্কুল সূত্রের খবর।

আউশগ্রামের কয়রাপুর বিদ্যাসাগর বিদ্যাপীঠ স্কুলে প্রায় ৫০০ জনের বেশি ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করে। আর মাধ্যমিকে রয়েছে ৮৩ জন পড়ুয়া। স্কুলে শিক্ষক ও অশিক্ষক নিয়ে মোট ১৮ জন কর্মী। স্কুলের শিক্ষক সমীর কুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। স্কুল খোলার পরেই আমরা এলাকায় মাইক নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে ঘুরে প্রচার করেছি। কিন্তু মাধ্যমিক টেস্ট পরীক্ষার শুরুর দিনে দেখছি ছাত্রীদের তুলনায় ছাত্রদের অনুপস্থিত থাকার সংখ্যাটাই বেশি। অনেকেই ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছে কাজের সন্ধানে। তাই মনে হচ্ছে তারা স্কুলে আসতে পারেনি।’’

ওই শিক্ষক আরও বলেন, ‘‘করোনার প্রভাবে যদি এবারও মাধ্যমিক পরীক্ষা না হয় তখন টেস্ট পরীক্ষার রেজাল্ট দেখবে। তাই পরীক্ষাটা দেওয়া খুব জরুরি ছিল। আমরা ফের অভিভাবকদের খবর পাঠিয়েছি। ফিরে আসলে ফের তাদের স্কুলেই আলাদা টেস্ট পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’’ আর এক শিক্ষক জানান, গ্রামে স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক গরীব পরিবার তাদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে কাজে লাগিয়ে দেয়। সচেতনতার অভাবের কারণেই এমনটা ঘটছে।

কয়রাপুরের বাসিন্দা শেখ আলাউদ্দিন বলেন, ‘‘আমার দুই ছেলে। তার মধ্যে ছোট ছেলে কয়রাপুর স্কুলে মাধ্যমিকে করত। আমি মুরগির দোকান করে কষ্ট করেই ছেলেদের লেখাপড়া শেখাচ্ছিলাম। কিন্তু লকডাউনের পর আমার দোকান বন্ধ হয়ে যায়। বাড়ি করতে গিয়ে ঋণে জড়িয়ে পড়তে হয়েছিল। তাই ছেলেদের চেন্নাই পাঠিয়েছিলাম।’’ পাশাপাশি তাঁর মন্তব্য, ‘‘সরকার থেকে পড়াশুনা করার জন্য খরচ জোগায় ঠিকই। কিন্তু রোজগার না থাকলে পেট চালাব কী করে?’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy