কবিতীর্থ চুরুলিয়ায় নজরুলের বসতবাড়ি পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। সংগ্রহশালা, প্রমীলা মঞ্চ, সমাধিস্থলের সংস্কার হবে। নজরুলের জন্মভিটেকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করতে চলতি মাসের প্রথমেই এই কাজ শুরু করছে পর্যটন দফতর। কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার চন্দন কোনার জানান, মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে কাজ শুরু হবে। দ্রুত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, চলতি মাসে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে সংস্কার কাজের ‘ভার্চুয়াল’ উদ্বোধন করার কথা। সেখানে উপস্থিত থাকতে পারেন জেলার মন্ত্রী, বিধায়করাও। জৈষ্ঠ মাসে কবির জন্মদিন উপলক্ষে মেলা আয়োজিত হবে। রেজিস্ট্রার বলেন, ‘‘আমরা চাই মেলার আগে মঞ্চের কাজ শেষ হয়ে যাক। তা হলে অনুষ্ঠান আয়োজনে সুবিধা হবে।’’
কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে পূর্বতন চুরুলিয়া নজরুল অ্যাকাডেমি কবির জন্মভিটেতে কবির বসতবাটি সহ স্থাবর-অস্থাবর সমস্ত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়কে দানপত্রের মাধ্যমে হস্তান্তর করে। এর পর ২০২২ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে কবির জন্মভিটেকে নজরুল তীর্থ হিসাবে গড়ে তোলার কথা ঘোষণা করেন। পশ্চিমবঙ্গ হেরিটেজ় কমিশন নজরুলের বসতবাটি, প্রমীলার সমাধিস্থল, নজরুল সমাধিক্ষেত্র (ঢাকায় নজরুলের সমাধিস্থল থেকে মাটি এনে প্রমীলার সমাধির পাশে মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে), চুরুলিয়ায় ভট্টাচার্য কালী মন্দির (এখানে নজরুল যেতেন) ও রানিগঞ্জের সিহারসোল রাজ উচ্চ বিদ্যালয়কে (এখানে নজরুল পড়েছেন) হেরিটেজ় ঘোষণা করে। মুখ্যমন্ত্রী পর্যটন দফতরকে পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়নের দায়িত্ব দেন। হেরিটেজ় কমিশন মনীশ চক্রবর্তীকে উন্নয়নের নকশা তৈরি করে বিস্তারিত রিপোর্ট (ডিটেল প্রজেক্ট রিপোর্ট) জমা দিতে বলে। এরপর মনীশ বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিলে রাজ্য সরকার পর্যটন দফতরকে প্রথম দফায় এক কোটি ৫৩ লক্ষ বাইশ হাজার আটশো তিনশো টাকার কাজের বরাত দেয়। ঠিক হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে সমস্ত কাজ করবে পর্যটন দফতর।
১৯৫৮ সালে চুরুলিয়া নজরুল অ্যাকাডেমি নজরুলের বসতবাড়ি (খড়, মাটির) ভেঙে প্রথমে একতলা ও পরে দোতলা পাকা বাড়ি তৈরি করে অ্যাকাডেমির কার্যালয় তৈরি করে। পাশে কবিকক্ষ নামাঙ্কিত সংগ্রহশালা (নজরুলের সচিত্র জীবনী দেওয়ালে লেখা, তাঁর ব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী আছে), অদূরে প্রমীলা মঞ্চ, তাঁর কাছাকাছি প্রমীলার সমাধিস্থল, নজরুলের সমাধিক্ষেত্র, নজরুল স্মৃতিসৌধ — সব তৈরি করেছে অ্যাকাডেমি। প্রথম পর্যায়ে নজরুলের পরিবর্তিত বসতবাড়িটি আবার পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। সংগ্রহশালা, প্রমীলা মঞ্চ, সমাধিস্থলেরও সংস্কার করা হবে।
কবির জন্মভিটে ঘিরে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন কবির নাতি অরিন্দম কাজী। অরিন্দমের কথায়, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী অন্তর থেকে কবির জন্মভিটেকে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র পরিণত করতে চাইছেন। প্রশ্ন হল, যাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা ঠিকঠাক করছেন কিনা। এর বেশি কিছু বলার নেই।’’ পূর্বতন চুরুলিয়া নজরুল অ্যাকাডেমির প্রাক্তন সভাপতি পিকে দে সরকার জানান, এর মাধ্যমে নজরুলপ্রেমীদের দীর্ঘ দিনের স্বপ্নপূরণ হতে চলেছে। নজরুল অ্যাকাডেমির প্রাক্তন প্রচার সচিব দীপু কাজির প্রতিক্রিয়া, ‘‘কবির স্থাবর-অস্থাবর জিনিস বিশ্ববিদ্যালয়কে হস্তান্তরের পরে নজরুল অ্যাকাডেমির আর কোনও অস্তিত্ব নেই। এখন কাজ ভাল ভাবে হলেই খুশি।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)