E-Paper

ভোটের আগেকুলটিতে চর্চায়সেই জলপ্রকল্প

আসানসোল পুরসভার বিরোধী নেত্রী বিজেপির চৈতালি তিওয়ারির দাবি, এই প্রকল্পের জন্য দু’টি ভাগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৪৩ কোটি ও ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

সৌমিত্র গঙ্গোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ০৯:২৯
চলছে প্রকল্পের কাজ। নিজস্ব চিত্র

চলছে প্রকল্পের কাজ। নিজস্ব চিত্র

প্রায় এক দশকের চাপান-উতোর শেষে সম্পূর্ণ হয়েছে জলপ্রকল্পের কাজ। কিন্তু এখনও সেই প্রকল্প থেকে সব বাড়িতে জল পৌঁছয়নি কুলটিতে। বিধানসভা ভোটের আগে এ বারও তাই এলাকায় চর্চায় জলপ্রকল্প। কেন এখনও সব বাড়িতে জল দেওয়া গেল না, সে নিয়ে চলছে রাজনৈতিক তরজা।

কেন্দ্রীয় সরকারের ‘অমরুত’ প্রকল্পে কুলটিতে তৈরি হয় ওই জলপ্রকল্প। ২০১৮ সালে শেষ হয়েছে প্রকল্পের কাজ। খরচ হয়েছে প্রায় ২৩৯ কোটি টাকা। কুলটি বিধানসভা এলাকায় থাকা আসানসোল পুরসভার ২৮টি ওয়ার্ডের সর্বত্র এই প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ হওয়ার কথা। সে জন্য ১৮টি উচ্চ জলাধার তৈরি করা হয়েছে। নদ থেকে পাম্পিং স্টেশন ও জলাধারে জল তোলার জন্য প্রায় ৬২ কিলোমিটার পাইপলাইন পাতা হয়েছে। বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার জন্য আরও প্রায় সাড়ে তিনশো কিলোমিটার পাইপলাইন পাতা হয়েছে।

আসানসোল পুরসভার বিরোধী নেত্রী বিজেপির চৈতালি তিওয়ারির দাবি, এই প্রকল্পের জন্য দু’টি ভাগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ১৪৩ কোটি ও ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। আসানসোলের গত পুরবোর্ডের আমলে এর ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়। কিন্তু বাকি কাজ বর্তমান বোর্ড করতে পারেনি। এ ছাড়া, প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের জন্য আরও ১৪২ কোটি টাকা এসেছে। মোট প্রায় ২২৫ কোটি টাকার সঙ্গে, নতুন এই বরাদ্দ যোগ হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল কুলটির ৪৮ হাজার বাড়িতে পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া। কিন্তু প্রায় বাকি ২৫ শতাংশ কাজ সম্পূর্ণ করতে পারেনি তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা।

এলাকার বিজেপি বিধায়ক অজয় পোদ্দার দাবি করেন, ভোটের আগে পাইপ পড়ে, কিন্তু শেষমেশ জল মেলে না এলাকার একাংশে। ওই পাইপ দেখিয়ে তৃণমূল ভোট নেওয়ার চেষ্টা করে, অভিযোগ তাঁর। তাঁর দাবি, ‘‘তিনটি নদ রয়েছে— বরাকর, দামোদর ও অজয়। কিন্তু কোনও চেকড্যাম তৈরি করতে পারেনি তৃণমূলের সরকার। মানুষকে শুধু ভাঁওতা দেওয়াই ওদের কাজ।’’ তিনি জানান, কেন্দ্রীয় এই প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি পানীয় জলের সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি তিনি বিধানসভায় তুলেছিলেন। সংযোগ দেওয়ার জন্য বাসিন্দাদের কারও কাছে তিন হাজার, কারও কাছে আট হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, অভিযোগ তাঁর।

তৃণমূল নেতা তথা পুরসভার বরো চেয়ারম্যান চৈতন্য মাজির পাল্টা অভিযোগ, জল নিয়ে রাজনীতি বিজেপি করে। জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। এখনও পাইপলাইনের কাজ সম্পূর্ণ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘অমরুত প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপের কাজ চলছে। এখনও জলপ্রকল্পের কাজ একশো শতাংশ সম্পূর্ণ হয়নি। ৮০ শতাংশের বেশি কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। কিছু জায়গায় সমস্যা হচ্ছে। সেগুলো কাটিয়ে পদ্ধতিগত ভাবে কাজ করা হচ্ছে।’’ তাঁর আরও দাবি, বিজেপি এ নিয়ে রাজনীতি করার চেষ্টা করলেও, কুলটির মানুষ তা বিশ্বাস করবে না।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

kulti West Bengal Assembly Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy