পূর্ব বর্ধমানের মেমারিতে ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের দেওয়াল ধসে বিপত্তি। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ আচমকাই জাতীয় সড়কের পাশের দেওয়াল ধসে পড়ে। তার ঠিক আগের মুহূর্ত পর্যন্ত ওই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলেছে। তবে একেবারে ধসে পড়ার মুহূর্তে সেখানে কোনও গাড়ি ছিল না। ফলে বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। আপাতত ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। বিকল্প হিসাবে সার্ভিস রোড দিয়ে গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
মেমারির সরডাঙা এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের অন্তর্গত। সেই রাস্তার বর্ধমানমুখী লেনের দেওয়াল ধসে পড়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, মাস দশেক আগেই এই জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ শেষ হয়েছিল। অভিযোগ, নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয় সড়ক নির্মাণে। সেই কারণেই এই পরিণতি। এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, দিনের আলোয় এই ঘটনা ঘটায় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। রাতের অন্ধকারে হলে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।
আরও পড়ুন:
বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজে ছাইয়ের স্তর ব্যবহার করা হয়েছিল। তা ধীরে ধীরে বসে যাচ্ছিল। ইটের গাঁথনিতেও ফাটল দেখা দিয়েছিল। সকালে যখন ওই রাস্তা দিয়ে একের পর এক ট্রাক, লরি, ডাম্পার যাচ্ছিল, তখনই ইটের ‘ব্লক’-সহ দেওয়ালের প্রায় ৪০ ফুট লম্বা অংশ হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ে। তৎক্ষণাৎ ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। জেলার ডিএসপি (ট্রাফিক) আশিস মণ্ডল বলেন, “জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়েছে। একটা লেন বন্ধ রেখে গাড়িগুলিকে সার্ভিস রোড দিয়ে বার করে দেওয়া হচ্ছে। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’’ দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প অধিকর্তা (কলকাতা) প্রশান্ত শ্রীবাস্তব বলেছেন, “পরিদর্শনকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করবে। কেন এটা ঘটল, তদন্ত হবে।”
বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও চলছে। মেমারির বিধায়ক মধুসূদন ভট্টাচার্য কেন্দ্রকে একহাত নিয়ে বলেছেন, “এই হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাজের নমুনা। বড় বিপদ ঘটলে তার দায় কে নিত? নিম্নমানের কাজ যে হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।” বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলার সভানেত্রী স্মৃতিকণা বসু তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “গোটা দেশে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ রাস্তা বানাচ্ছেন। কোথাও এমন ঘটনা ঘটেনি। এখানে কেন ঘটল, সেটা ভাবার বিষয়। তদন্তে সব জানা যাবে।”