E-Paper

বাড়তি ভোট কার বাক্সে, চর্চা

রাজনৈতিক দলগুলি মনে করছে, এসআইআর পরবর্তী সংশোধিত ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৯:২৩
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

গত লোকসভা ভোটের তুলনায় ১০.৮৩% এবং শেষ বিধানসভা নির্বাচনের থেকে ৭.৬৮% বেশি ভোট পড়েছে বুধবার। জেলায় শেষ পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮৩ শতাংশ। ভোটের বিপুল হার নিয়ে চর্চা চলছে জেলার সর্বত্র। অঙ্ক কষছে রাজনৈতিক দলগুলিও।

তৃণমূলের শাসনকালে জেলায় কোনও নির্বাচনে ৯০% ভোট পড়েনি। ২০১৪ লোকসভায় পড়েছিল ৮৭.১৬ শতাংশ ভোট। সেটাই ছিল সর্বোচ্চ হার। ২০১৪-২০২১ পর্যন্ত বিধানসভা ধরে ভোটদানের গতিপ্রকৃতি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, গত লোকসভা ও শেষ বিধানসভা নির্বাচনে খণ্ডঘোষে ৯০ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছিল। এত দিন সেটাই ছিল জেলায় সর্বোচ্চ। এ বার খণ্ডঘোষে ভোট পড়েছে ৯৪.৯০%। বুধবারের ভোটে খণ্ডঘোষকেও পিছনে ফেলেছে আউশগ্রাম (৯৫.২১%)। এই কেন্দ্রে শেষ কয়েকটি নির্বাচনে গড়ে ৮৭ শতাংশের কাছাকাছি ভোট পড়েছিল। আউশগ্রাম, খণ্ডঘোষ ছাড়াও জেলায় এ বারের নির্বাচনে ৯৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে গলসি, জামালপুর, বর্ধমান উত্তর, মেমারি, ভাতার, রায়না, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। কম ভোট পড়েছে বর্ধমান দক্ষিণ (৯০.৮৩%), কাটোয়া (৯২.৩৯%), কেতুগ্রামে (৯৩.১৩%)। কমিশনের রিপোর্ট বলছে, এই তিন কেন্দ্রে ভোটের হার তুলনামূলক কম দেখালেও গত লোকসভা-বিধানসভার থেকে তা ১০-১১ শতাংশ বেশি।

রাজনৈতিক দলগুলি মনে করছে, এসআইআর পরবর্তী সংশোধিত ভোটার তালিকায় মৃত, স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে। ভোটারের সংখ্যা কমে যাওয়ায় ভোটদানের শতকরা হার বেড়েছে। তৃণমূল মনে করছে, পরিযায়ী শ্রমিকেরা, অসুস্থ মানুষজন এবং ভোট নিয়ে সাধারণত উদাসীন থাকেন এমন মানুষজনও এ বার এসআইআর-আতঙ্কে বুথমুখী হয়েছেন। শুধু গ্রামে নয়, শহরেও এই চিত্র দেখা গিয়েছে। সে কারণে বর্ধমান শহরে, যেখানে গড়ে ৭৯ শতাংশ ভোট পড়ে, সেখানে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে বুধবার। বিজেপির দাবি, পরিযায়ী শ্রমিকদের সংগঠিত ভাবে জেলায় আনা হয়েছে। বুথে ভূতের উপদ্রব কমাতে বাহিনী, জেলা প্রশাসন সক্রিয় ছিল। বুথে গেলে অশান্তি হবে, এই শঙ্কায় যাঁরা থাকতেন, তাঁরাও এ বার ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এই সব কারণে ভোটের হার বেড়েছে।

বিজেপির বর্ধমান সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা মনে করেন, “গত ১৫ বছরে তৃণমূল এমন কাজ করেনি, যার জন্য মানুষ হঠাৎ উৎসাহী হয়ে তাদের ভোট দেবেন। মানুষ তৃণমূলের থেকে পরিত্রাণ পেতে চাইছেন। সে কারণেই সব অনীহা কাটিয়ে ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েছেন তাঁরা।” সিপিএম মনে করছে, বাড়তি ভোট স্থিতাবস্থা-বিরোধী। দলের জেলা সম্পাদক সৈয়দ হোসেনের আশা, ‘‘সামগ্রিক ভাবে জেলায় বামেদের ভোট বাড়বে। শ্রমজীবী মানুষের সমর্থন বাড়ছে।’’ এ সব দাবি প্রত্যাশিত ভাবেই উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু মানুষ এবং মহিলারা ঢেলে ভোট দিয়েছেন।

দলের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলামের বিশ্বাস, “বাড়তি ভোটের পুরোটাই এসআইআর-ভীতিজনিত ভোট। এই ভোটের পুরোটাই আমাদের। বিজেপি বা অন্য কোনও বিরোধী দল এই ভোটে ভাগ বসাতে পারবে না। সবাই জানেন এসআইআর নিয়ে একমাত্র মুখ্যমন্ত্রীইলড়াই করেছেন।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bardhaman TMC BJP CPIM

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy