Advertisement
E-Paper

মদত পেয়েই বাড়ছে ছাত্র-দৌরাত্ম্য

কিছুদিন আগেই তোলাবাজি, দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠায় রাজ্য শিক্ষা দফতরের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে। তারপরেও বাগে আনা যাচ্ছে না ছাত্রদের।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০১৬ ০৭:২৯
শিক্ষকদের পাঠানো সেই চিঠি।—নিজস্ব চিত্র।

শিক্ষকদের পাঠানো সেই চিঠি।—নিজস্ব চিত্র।

কিছুদিন আগেই তোলাবাজি, দুর্নীতির নানা অভিযোগ ওঠায় রাজ্য শিক্ষা দফতরের নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে। তারপরেও বাগে আনা যাচ্ছে না ছাত্রদের। পরীক্ষার হলে ঢুকে গোলমাল থেকে জলের লাইন কেটে দেওয়া, এমনকী, শিক্ষকদের হুমকি দিতেও পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা— এমনই অভিযোগ রাজ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের।

তাঁদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারকেশ্বর মণ্ডলের মদতেই কলেজের একাংশ ছাত্র প্রায় প্রতিদিনই গোলমাল পাকাচ্ছে। ১০ জুন, ওই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে সরানোর নির্দেশ আসার পর থেকেই এমনটা চলছে বলেও তাঁদের দাবি। শিক্ষামন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসনের কর্তাদের এ নিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন তাঁরা। যদিও অভিযোগ শুনে তারকেশ্বরবাবু হাসতে হাসতে বলেন, ‘‘পৃথিবীটাই তো আমার মদতে চলেছে! আসলে ছাত্র নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে এবং কলেজ চালাতে না পেরে এখন ফের আমার ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছে। যে যা খুশি অভিযোগ করলেই হল!”

বর্তমানে কলেজের দায়িত্বে থাকা নিরুপমা গোস্বামী বলেন, “এ ব্যাপারে যা বলার পরিচালন সমিতির সভাপতি বলবেন। আমাদের মুখ খোলা নিষেধ রয়েছে।” পরিচালন সমিতির সভাপতি সুভাষ সোম বলেন, “কলেজের ছাত্ররা সিসিটিভি, জলের পাইপ লাইন কেটে দিয়েছে বলে শুনেছি। পরিচালন সমিতির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। সেখানে ছাত্র সংসদের প্রতিনিধিও থাকবেন।”

সপ্তাহখানেক আগেই নিরুপমাদেবীর দায়িত্ব নেওয়ার দিনে কলেজে পুলিশ ঢুকেছে কেন, সেই অভিযোগে বিক্ষোভ-ঘেরাও করেন ছাত্রদের একাংশ। গোলমাল থামাতে আসরে নামতে হয় টিএমসিপি-র রাজ্য সভাপতি জয়া দত্তকেও। তিনি সাফ বলেছিলেন, ‘‘শিক্ষক নিগ্রহ করে রাজনীতি একেবারেই চলবে না।’’ তারপরেও কলেজে ছাত্রদের একাংশের বিরুদ্ধে জলের লাইন কেটে নেওয়া, সিসিটিভি-র লাইন কেটে দেওয়া, পরীক্ষার হলে ঢুকে নিয়মিত গোলমাল পাকানোর অভিযোগ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। তাঁদের দাবি, কলেজের প্রশাসনিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিচতে তাঁরা জানিয়েছেন, ছাত্র সংসদের বেশ কিছু সদস্য পরীক্ষা হলে ঢুকে সমস্যা তৈরি করছে। এ নিয়ে শিক্ষকেরা ওই সব সদস্যদের কিছু বলতে গেলে তাঁদের কলেজের দোতলার বারন্দা থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চাশ জন শিক্ষকের সই-সম্বলিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৬টি সিসিটিভির মধ্যে ১১টির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের পরীক্ষা চলাকালীন পানীয় জলের সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। পরে কলেজ কর্তৃপক্ষের নজরে বিষয়টি এলে বর্ধমান পুরসভার সাহায্য নিয়ে জলের ব্যবস্থা করা হয়। ‘কার্যক্ষমতাহীন’ ছাত্র সংসদের বেশ কিছু ছাত্র প্রতিনিধি (সিআর) কলেজের ভিতর ঢুকে পরীক্ষা হলে গিয়ে নির্দিষ্ট কিছু পরীক্ষার্থীকে ‘অনৈতিক সুবিধা’ পাইয়ে দিচ্ছে বলেও শিক্ষকদের অভিযোগ। তাঁদের দাবি, ছাত্রদের কিছু বলতে গেলেই কলেজের দোতলার বারান্দা থেকে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বলা হচ্ছে, ‘বারান্দা থেকে ফেলে দিয়ে আত্মহত্যা করতে গিয়েছিল বলে রটিয়ে দেওয়া হবে’। এমনকী, পড়ুয়াদের আচরণের প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে দীর্ঘক্ষণ ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল বলেও তাঁদের দাবি। রাজ কলেজের এক শিক্ষক বলেন, “শুক্রবার সকালেও কলেজের শৌচাগারের দরজা ভাঙা হয়েছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কে থাকবে, তার জন্য ছাত্র সংসদের এত মাথা ব্যাথা কেন?”

তবে ঘটনার পিছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ কলেজের ছাত্র সংসদের সম্পাদক বিশ্বজিৎ সিংহ। তাঁর কথায়, “বুধবারের পর থেকে আমি কলেজে পা রাখিনি। আমার নির্দেশে সংসদের প্রতিনিধিরাও কলেজে যাননি। তারপরেও এই ধরনের অভিযোগ করে শিক্ষকরা ষড়যন্ত্র করছেন।” রাজ কলেজের শিক্ষকেরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, এই চিঠির প্রতিলিপি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য সভানেত্রীকেও পাঠানো হবে। এ দিন টিএমসিপি-র রাজ্য সভানেত্রী জয়া দত্ত বলেন, “আমাদের সংগঠনের কোনও সদস্য দ্বারা এক জন শিক্ষক বা শিক্ষিকা অসম্মানিত হয়েছেন এমন প্রমান মিললে তাঁকে সংগঠনের ভিতর রাখা হবে না।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy