বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘আঞ্চলিক বিজ্ঞান কংগ্রেসের’ উদ্বোধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘মমতা লাও, দেশ বাঁচাও’ বলে বিতর্কে জড়ালেন রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। শুক্রবার দুপুরে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসের প্রেক্ষাগৃহে মন্ত্রীর ওই মন্তব্যের পরেই গবেষক থেকে শিক্ষকেরা উষ্মা প্রকাশ করেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রীর ব্যাখা, ‘‘আজ বাংলা যা ভাবে, ভারত তা কাল ভাবে। এখন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাত ধরেই বিজ্ঞানে নতুন মাত্রা আসবে। সেই ভাবনা থেকেই বিজ্ঞানকে বাঁচাতে মমতাকে দরকার বলে মনে হয়েছে।’’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই সাহা বলেন, ‘‘ঐতিহ্যবাহী স্থান, জলাশয়, প্রাচীন পুরাকীর্তিকে বাঁচিয়েও কী ভাবে নগরোন্নয়ন করা সম্ভব, সেই বিষয়ে বিজ্ঞান কংগ্রেসের গবেষকরা সুচিন্তিত মতামত রাখবেন বলে মনে করি। গ্রামকে নতুন করে গড়তে, মৎস্য, কৃষিতে নতুন উদ্ভাবনী শক্তির ব্যবহার নিয়েও বিজ্ঞান কংগ্রেস দিশা দেখাতে পারে।’’ ওই অনুষ্ঠানে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়, হরিচাঁদ গুরুচাঁদ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরাও হাজির ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা হাজির ছিলেন।
জেলাশাসক প্রিয়াঙ্কা সিংলার দাবি, ‘‘আমরা জেলা প্রশাসন থেকেও বিজ্ঞান কংগ্রেস করেছি। জেলা থেকে মোবাইল-ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা করা হয়েছে।’’ ছিলেন পুলিশ সুপার কামনাশিস সেন, বিধায়ক (বর্ধমান দক্ষিণ) খোকন দাস। মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কি জানি, এ রাজ্যে কতগুলি উচ্চশিক্ষা দফতরে বা কতগুলি স্কুলে গবেষণাগার চালু রয়েছে? আমরা কিন্তু এ সব তাকিয়েও দেখি না। মুখ্যমন্ত্রী ব্যাপক ভাবে নজর দিয়েছেন।’’ এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘এমনিতেই শুধু ভারতবর্ষ নয়, সারা বিশ্ব আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এরপরে যদি বিজ্ঞানে আমরা এগিয়ে যাই, তাহলে ভারতবর্ষের মানুষ বলবেন, ‘মমতা লাও, দেশ বাঁচাও’। ভারতবর্ষের মানুষকে বাঁচান, এটাই হবে আগামী দিন।’’
এই মন্তব্যেই বেধেছে বিতর্ক। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে গবেষকদের অনেককেই বলতে শোনা গিয়েছে, ‘‘বিজ্ঞান কংগ্রেসের মতো সভায় রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে বক্তব্য রেখে পুরো অনুষ্ঠানটাকেই হালকা করে দিলেন মন্ত্রী।’’ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ভাস্কর গোস্বামী বলেন, ‘‘মন্ত্রী প্রশাসন ও দলীয় বিষয় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গুলিয়ে ফেলেছেন। এটা শুধু দুর্ভাগ্যজনক নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মানেরও প্রশ্ন।’’ আর এক শিক্ষক অভয় মণ্ডলও বলেন, ‘‘বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সামনে এ ধরনের কথাবার্তা বাঞ্ছনীয় নয়। এতে ভুল বার্তা যায়।’’
বিজেপির মুখপাত্র সৌম্যরাজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, ‘‘স্থান-কাল-পাত্র দেখে কথা বলাটাই নিয়ম। কিন্তু তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা সব জায়গাতেই মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণা দেখতে পান। সেটা করতে গিয়েই ঐতিহ্য নষ্ট করে ফেলেন।’’ যদিও রাজ্য তৃণমূলের মুখপাত্র দেবু টুডুর পাল্টা দাবি, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে রাজ্য এগিয়ে চলেছে। বিজ্ঞানও এগোচ্ছে। সে জন্য বিভিন্ন রাজ্যের মানুষ দেশের ভার আমাদের নেত্রীর হাতে দেখতে চাইছেন। এটা বলায় অন্যায়ের কী আছে?’’