স্কুলের ঘর ও আলমারির তালা ভেঙে আয়-ব্যয়ের কাগজপত্র হাতাতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। সে সব না পেয়ে মিড-ডে মিলের পোস্ত, সর্ষের তেল ও নানা রকমের মশলা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা। যাওয়ার আগে আমেজ করে চা-বিস্কুটও খায়। শনিবার রাতে ঘটনাটি ঘটে মেমারির দেবীপুরের আলিপুর ইউনাইটেড নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলে। সংলগ্ন দেবিপুর স্টেশন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ-সহ বেশ কয়েকটি ঘরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখা যায় রবিবার। খবর পেয়ে তদন্তে যায় পুলিশ।
নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সোমা সাহার দাবি, ‘‘আগামী ৪ অগস্ট বিদ্যালয়ে অডিট হওয়ার কথা। সম্ভবত তারই নথি চুরি করতে এসেছিল দুষ্কৃতীরা। কিন্তু কাজের জন্য সে সব নথি আমার কাছে থাকায় সেগুলি নিতে পারেনি। দু’টি কম গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে গিয়েছে তারা।’’
প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা হয় ওই স্কুলে। ছ'টি শ্রেণিতে রয়েছে ২৩৮ জন পড়ুয়া। শিক্ষক রয়েছেন পাঁচ জন। স্থানীয়দের দাবি, এ দিন স্কুলের বাইরে মিড-ডে মিলের চাল পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের সন্দেহ হয়। ভিতরে ঢুকে দেখেন, স্কুলের ঘরের দরজা খোলা। চায়ের পাতা, বিস্কুটের প্যাকেট ছড়িয়ে রয়েছে। কাপে চা খাওয়ার চিহ্নও স্পষ্ট দেখা গিয়েছে।
প্রধান শিক্ষিকার দাবি, ‘‘সোমবার স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবারে পোস্ত দেওয়ার কথা ছিল। সে কারণে পোস্ত আনা হয়েছিল। এ ছাড়া, এক লিটার সর্ষের তেলের প্যাকেট এবং নানা ধরনের মশলা একটি আলমারিতে রাখা ছিল। চা-বিস্কুট খাওয়ার পরে, পোস্ত এবং ওই সব মশলা নিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা।’’
এ দিন বিকেলে মেমারি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন সোমা। ওই স্কুলের পাশের হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের ঘর-সহ একাধিক ঘরের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখা যায় এ দিন। ওই স্কুলের টিচার ইন-চার্জ মহম্মদ আকবর হোসেন বলেন, ‘‘একাধিক ঘরের তালা ভাঙা হয়েছে। ভাঙা হয়েছে আলমারি। তবে কিছু খোয়া যায়নি বলেই মনে হচ্ছে।’’ আজ, সোমবার স্কুল খোলার পরে গোটা বিষয়টি বোঝা যাবে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, ‘‘সিসি ক্যামেরার হার্ড ডিস্ক নিয়ে পালিয়েছে চোরেরা।’’
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, বিদ্যালয় চত্বরে কিছু সমাজবিরোধী আড্ডা দেয়। তারা এই দুষ্কর্মে জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টির প্রতি নজর দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা। পুলিশের ধারণা, অডিট-সংক্রান্ত নথি চুরি করার জন্যে দুষ্কৃতীরা নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলে ঢুকেছিল। পালানোর সময়ে সিসি ক্যামেরা নজরে পড়ায় তার হার্ড ডিস্ক নেওয়ার জন্য পাশের হাই স্কুলে ভাঙচুর
চালায় তারা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)