নার্সিংহোম জানিয়ে দিয়েছিল, বিলের টাকা না মেটালে ভর্তি থাকা সদ্য প্রসূতি মেয়েকে ছাড়া হবে না। সেই টাকা জোগাড় করতে না পেরে মেয়েটির বাবা আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ। এই নিয়ে হইচই শুরু হওয়ার পরেই আত্মহত্যায় প্ররোচনা ও অতিরিক্ত টাকার দাবি করার অভিযোগে পুলিশ শনিবার আটক করে বর্ধমানের নবাবহাটের পিজি নার্সিংহোমের তিন জন অংশীদার ও এক কর্মীকে। এ বার ওই চার জনকে গ্রেফতারও করা হল। ধৃতদের রবিবার আদালতে হাজির করানো হলে বিচারক তিন জন অংশীদার শেখ জয়নাল, মুন্সি মহম্মদ হাফিজুল কবীর ও আব্দুল লতিফকে দু’দিনের পুলিশ হেফাজত এবং কর্মীকে দু’দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলার শিকারিপাড়া থানার মলুটি গ্রামের বাসিন্দা চুমকি লেটকে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছিল। সদ্য মা হওয়া ওই যুবতীকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল রামপুরহাট হাসপাতালে। হাসপাতাল তাঁকে ‘রেফার’ করে দেয় বর্ধমান মেডিক্যালে। অভিযোগ, দালালচক্রের হাতে পড়ে চুমকিকে বর্ধমান মেডিক্যালের বদলে ওই নার্সিংহোমে ভর্তি করান তাঁর বাবা তপন লেট (৪৬)। বিল হয়েছিল ৪২ হাজার টাকার। জোগাড় হয়েছিল ১৩ হাজার টাকা। মেয়েকে অন্যত্র সরাতে গেলে প্রাণ সংশয় হতে পারে বলে ভয় দেখানো হয়েছিল নার্সিংহোমের তরফে। মঙ্গলবার রাতে গ্রামের ধারের একটি গাছে গলায় দড়ি দেন তপনবাবু। তাঁর পরিবারের দাবি, টাকা জোগাড় করতে না পেরে এবং মেয়েকে নিয়ে দুশ্চিন্তার জেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি। যদিও ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে মৃতের পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেনি।
পুলিশ সূত্রের খবর, বর্ধমান ১ পঞ্চায়েত সমিতির জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ সঞ্জয় কোনার শনিবার রাতে বর্ধমান থানায় ওই নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) দ্যুতিমান ভট্টাচার্য বলেন, “কর্মাধ্যক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে চার জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নার্সিংহোমের মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বিশদে জানা হবে।’’ সঞ্জয়বাবুর কথায়, “আমার এলাকা বেলকাশ পঞ্চায়েতের একটি নার্সিংহোমের অমানবিক কাণ্ডের কথা খবরের কাগজে দেখলাম। নৈতিকতার খাতিরে বর্ধমান থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।”