E-Paper

সিদ্দিকুল্লার সভায় ভিড়, চুপ বিক্ষুব্ধেরা

সিদ্দিকুল্লার নাম ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার আহমেদ ঘনিষ্ঠ কুসুমগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বাবুল খানের নেতৃত্বে সিদ্দিকুল্লার অনুগামীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে।

সুদিন মণ্ডল

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫০
মিছিলে সিদ্দিকুল্লা। নিজস্ব চিত্র

মিছিলে সিদ্দিকুল্লা। নিজস্ব চিত্র

কয়েক ঘণ্টাতেই বদলে গিয়েছে ছবিটা। কয়েক দিন আগেও মন্তেশ্বরের বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর ঘনিষ্ঠদের ডাকা মিছিলে মেরেকেটে লোক হত ৪০-৫০। সিদ্দিকুল্লাকে তৃণমূল ফের প্রার্থী করার পরেই মালডাঙা, কুলুট, রাইগ্রাম, জামনার মতো অনেক এলাকায় প্রার্থীর সমর্থনে মিছিলে কয়েকশো তৃণমূল সমর্থক পা মেলান। অন্য দিকে, নিস্তরঙ্গ দেখিয়েছে আহমেদ শিবিরকে। যদিও শোনা যাচ্ছে, নির্দল প্রার্থী দাঁড় করানো-সহ বেশ কিছু বিকল্পের কথা ভাবছেন আহমেদ-ঘনিষ্ঠরা। আহমেদ এ সব নিয়ে কুলুপ আঁটলেও সিদ্দিকুল্লার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, ‘‘দলে থেকে দলবিরোধী কাজ করা যাবে না। প্রয়োজন হলে থেকে দল থেকে বেরিয়ে যেতে পারে।’’

সিদ্দিকুল্লার নাম ঘোষণার পরেই মঙ্গলবার আহমেদ ঘনিষ্ঠ কুসুমগ্রাম অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বাবুল খানের নেতৃত্বে সিদ্দিকুল্লার অনুগামীদের মারধরের অভিযোগ ওঠে। লাঠি চালিয়ে অশান্তি থামাতে হয় পুলিশকে। বাবুলের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার ওই ঘটনা নিয়ে সিদ্দিকুল্লার প্রতিক্রিয়া, ‘‘ওদের কার্যকলাপ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে।’’

আহমেদ ও তাঁর অনুগামী ব্লক তৃণমূল সভাপতি কুমারজিৎ পানের ঘনিষ্ঠদের দাবি, সিদ্দিকুল্লাকে প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে পারেননি মন্তেশ্বরের মানুষ। প্রশ্ন উঠেছে, এ বার প্রার্থীর প্রচারে কি দেখা যাবে তাঁদের। আপাতত সেই সম্ভাবনা নেই বলেই মনে করছে আহমেদ শিবির। একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে, বেশ কয়েকটি সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। প্রথমটি হল, নির্দল প্রার্থী দাঁড় করিয়ে দলকে বার্তা দেওয়া যে, মন্তেশ্বরে সংগঠনের রাশ এখনও রয়েছে আহমেদের হাতে। দ্বিতীয় সম্ভাবনা, কংগ্রেসে প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি আহমেদ এবং ব্লক তৃণমূল সভাপতি।

সিদ্দিকুল্লা ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত মন্তেশ্বর ব্লক তৃণমূলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি, বর্তমান জেলা পরিষদের সদস্য আজিজুল হক, পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আতিকুর রহমান, লালন শেখ, জেলা পরিষদ সদস্য তন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ব্লক নেতৃত্বের একাংশ ভয় দেখিয়ে এত দিন বিধায়কের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছিল কর্মীদের। মন্তেশ্বরের মানুষ এখন বুঝেছেন দল সিদ্দিকুল্লার সঙ্গেই রয়েছে। তাঁদের উপরে হামলা হলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে। ভয় কাটতেই দলে দলে কর্মীরা সিদ্দিকুল্লার মিছিলে যোগ দিচ্ছেন।

এ দিন মন্তেশ্বর বিধানসভার অন্তর্গত মেমারি ২ ব্লকের সাতগেছিয়া বাজারে মিছিল ও পথসভা করেন সিদ্দিকুল্লা। সিদ্দিকুল্লা তাঁর বিরোধী গোষ্ঠীকে সতর্ক করে বলেন, ‘‘৬৫-৭০ জন প্রার্থী পরিবর্তন হয়েছে। অনেক বিধায়ক-মন্ত্রী টিকিট পাননি। তাই বলে দলের ক্ষতি করবেন? দলের খেয়ে-পরে শরীর চিকচিকে করেছেন, বাড়িঘর ভাল হয়েছে, এত দিন ধরে দলের সঙ্গে থেকে সব রকম সুযোগ নিয়েছেন, ভোটের সময়ে বলছেন, দলের প্রার্থীকে চেনেন না। এ সব ভণ্ডামি দলে থেকে চলবে না। সোজা ভাবে কাজ করলে ভাল, না হলে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। নেতৃত্ব সব লক্ষ্য রাখছেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Manteshwar Siddiqullah Chowdhury TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy