E-Paper

সঙ্ঘের কাছে পাশ করলে তবেই প্রার্থী

বিজেপি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় স্তর থেকে তো বটেই জেলার নেতারাও প্রার্থীদের নাম জমা দিয়েছেন।

সৌমেন দত্ত

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:০৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রার্থী হওয়ার জন্য নাম জমা পড়ছে বিভিন্ন স্তরে। সমীক্ষকেরাও বিধানসভা ঘুরে কারা কারা প্রার্থী হতে পারেন, তার তালিকা করছেন। গত কয়েকটি ভোটে বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়ে সঙ্ঘ সরাসরি মাথা ঘামায়নি। কিন্তু এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে সঙ্ঘের যাচাইয়ের পরেই প্রার্থী চূড়ান্ত হবে বলে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে। সেই কারণে সঙ্ঘের অন্দরে প্রার্থী যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির মাথায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় স্তরের এক নেতা। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, যে সব আসনে জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, সেখানেই সঙ্ঘ নিচুতলা পর্যন্ত সংযোগ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। শুধু প্রার্থী-যাচাই নয়, কী ভাবে প্রচার হবে, তার পরিকল্পনাও সঙ্ঘ করছে। সূত্রের খবর, প্রার্থীর বয়স ৬৫ বছরের নীচে রাখার পরামর্শ দিয়েছে সঙ্ঘ।

বিজেপি সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় স্তর থেকে তো বটেই জেলার নেতারাও প্রার্থীদের নাম জমা দিয়েছেন। সাংসদ, বিভাগের নেতা ও দলের শীর্ষ নেতারাও বিধানসভা ধরে ধরে কে প্রার্থী হলে ভাল হয়, তা জানিয়েছেন। সেই সব নাম নিয়ে বিজেপি সমীক্ষা করছে। অন্তত পাঁচটি পেশাদার সমীক্ষক দলকে দিয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। সমীক্ষকদের তরফেও বেশ কয়েক জনকে বিজেপির প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তাতে অন্য রাজনৈতিক দলের প্রাক্তন বিধায়কেরাও আছেন। সমীক্ষকরা প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মূলত এলাকায় ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা, দলের সকলকে নিয়ে চলার ক্ষমতা আছে কি না দেখছেন। বিজেপি সূত্রে দাবি, গত বিধানসভা ভোটের প্রার্থীরা এ বারেও তালিকায় রয়েছেন। সমীক্ষকরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তাঁদের বাড়িতে গিয়ে আলোচনাও করেছেন।

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিধানসভাগুলিকে চারটে স্তরে ভাগ করা হয়েছে। ১) নিশ্চিত ২) প্রবল সম্ভাবনা ৩) সম্ভামনাময় ৪) সম্ভাবনাহীন। পূর্ব বর্ধমানে বিজেপির নিশ্চিত আসন নেই। কিন্তু বর্ধমান দক্ষিণ, কাটোয়া, পূর্বস্থলী উত্তর ও গলসি আসনকে ‘সম্ভাবনা প্রবল’ বলে মনে করছে দল। আর সম্ভামনাময় আসন হিসাবে ধরে রেখেছে, জামালপুর, মেমারি, কালনা, পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভাকে। বিজেপির নেতারা জানিয়েছেন, আসনের গুরুত্ব বুঝে প্রার্থী ও প্রচারের পরিকল্পনা করার বার্তা দিয়েছে সঙ্ঘ। সব আসনে ঝাঁপানোর প্রয়োজন নেই বলেও জানিয়েছে। বিজেপির এক নেতা বলেন, “প্রতিটি স্তরকে উন্নীত করার নির্দেশ রয়েছে। যেমন সম্ভাবনাহীন আসনকে সম্ভাবনায়, সম্ভাবনাময় আসনকে প্রবল সম্ভাবনাতে আবার প্রবল সম্ভাবনাকে নিশ্চিত আসনে নিয়ে যেতে হবে। সেই অনুসারে প্রার্থী বাছাই হবে।”

সব সমীক্ষা রিপোর্ট জমা পড়ার পরে প্রতিটি বিধানসভা ধরে তিন জন করে প্রার্থীর নাম জেলা সঙ্ঘের কাছে যাবে। তারা নিজস্ব পদ্ধতিতে তা যাচাই করে কেন্দ্রীয় স্তরে পাঠাবে। সেখানেও এক দফা যাচাই হবে। কেন্দ্রীয় সংস্থাও তালিকায় থাকা নামগুলি নিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দেবে। সঙ্ঘের যাচাই-পর্বের পরে প্রার্থী নির্বাচন চূড়ান্ত হবে। বিজেপির এক শীর্ষ নেতা বলেন, “প্রবল সম্ভাবনা ও সম্ভামনাময় আসনগুলিতে সঙ্ঘের যাচাইয়ে উত্তীর্ণ না হলে দল প্রার্থী করবে না, এটা হলফ করে বলা যায়।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bardhaman West Bengal Assembly Election 2026

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy