E-Paper

তৃণমূলে স্বস্তি লাইন দেখে, তোপ বিরোধীর

কোথাও ব্লক অফিস, কোথাও কমিউনিটি হল, কোথাও কিসান মান্ডিতে শিবির বসেছে। কালনা শহরের পুরশ্রী হলেও চলছে শিবির। সেই মতো এলাকাও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।

কেদারনাথ ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:২০
কালনা ১ ব্লকে যুব সাথীর লাইনে।

কালনা ১ ব্লকে যুব সাথীর লাইনে। — নিজস্ব চিত্র।

স্বনির্ভর প্রকল্পের বিশেষ শিবিরে লম্বা লাইন ছিল প্রথম দিনই। বেলা যত বেড়েছে, ভিড়ও বেড়েছে। তবে সব থেকে বেশি আগ্রহ ছিল যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে। ভোটের আগেই এই প্রকল্পের সুবিধা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেকার তরুণ, যুবকদের লাইনে দাঁড়াতে দেখে হাসি চওড়া হয়েছে তৃণমূল নেতাদেরও। বিরোধীদের দাবি, সবই ভোটের প্রলোভন।

কোথাও ব্লক অফিস, কোথাও কমিউনিটি হল, কোথাও কিসান মান্ডিতে শিবির বসেছে। কালনা শহরের পুরশ্রী হলেও চলছে শিবির। সেই মতো এলাকাও ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। কালনা ১, পূর্বস্থলী ১, ২ ব্লকের শিবিরের কাছাকাছি তৃণমূলের সহায়তা ডেস্ক রয়েছে। সেখানে নেতা-কর্মীরাই ফর্ম পূরণ করে দিচ্ছেন। রয়েছেন মন্ত্রী, বিধায়কের মতো জনপ্রতিনিধিরাও। কালনা শহরে শিবিরে দাঁড়ানো বেকার তরুণ, তরুণীদের হাতে গোলাপ দিতেও দেখা গিয়েছে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। লাইনে দাঁড়ানো কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের দাবি, এপ্রিল থেকে দেড় হাজার টাকা করে অ্যাকাউন্টে ঢুকলে এআই নিয়ে প্রশিক্ষণ নেবেন। কেউ উচ্চশিক্ষা বা চাকরির প্রশিক্ষণের কাজে টাকা খরচ করবেন বলে জানিয়েছেন।

২০১৩ সালে গ্র্যাজুয়েট কালনার নিভুজিবাজারের বাসিন্দা রতন প্রামাণিক বলেন, ‘‘বহু চেষ্টা করেও চাকরি পাইনি। মাসে সরকারের সাহায্যে দেড় হাজার টাকা পেলে হাতখরচ কিছুটা উঠবে।’’ পূর্বস্থলী ১ ব্লকের গৌরব ঘুরুই ২০১৮ সালে স্নাতক হয়েছেন। তাঁর ইচ্ছা কৃত্তিম মেধা নিয়ে পড়াশোনা করার। এই টাকায় সেই ইচ্ছে পূরণ হবে, আশা তাঁর। নবদ্বীপ বিদ্যাসাগর কলেজের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী রিয়া দেবনাথ বলেন, ‘‘প্রথম দিনই ফর্ম পূরণ করে দিয়েছি। টাকা পেলে উচ্চশিক্ষার কাজেই লাগাব।’’

কালনার এক তৃণমূল নেতা বলেন, ‘‘গত বিধানসভা ভোটে লক্ষ্মীর ভান্ডারের ভাল প্রভাব পড়েছিল। যুবসাথী নিয়ে প্রথম দিনই যে উন্মাদনা দেখেছি, তা ঠিকঠাক প্রচারে আনতে পারলে এ বারেও চিন্তা নেই।’’ জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও একাধিক শিবির ঘোরেন এ দিন। তাঁর অবশ্য দাবি, ‘‘ভোটের দিকে তাকিয়ে এই প্রকল্প নয়। তবে নিঃসন্দেহে বেকার তরুণ, তরুণীদের আস্থা সরকারের প্রতি বাড়বে।’’ রাজ্যের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্বপন দেবনাথও বলেন, ‘‘যুবসাথী ছাড়াও খেতমজুরদের ভাতা, চাষিদের বিদ্যুৎ বিল মুকুবের জন্য হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা উপকৃত হবেন। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ।’’

বিরোধীরা যদিও এ সবে কান দিতে নারাজ। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য রাজীব ভৌমিক বলেন, ‘‘সামনে ভোট বলেই এই সব প্রকল্প। আগেও এক বার কয়েক লক্ষ মানুষের বেকার ভাতা দেওয়ার জন্য আবেদন জমা নিয়েছিল এই সরকার। দিয়েছিল স্বল্প সংখ্যক।’’ সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য সুকুল শিকদারের দাবি, ‘‘রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই। বেকারদের মার খেয়ে, অপমানিত হয়েও ভিন্‌ রাজ্যে পড়ে থাকতে হচ্ছে কাজের জন্য। ভোটারদের প্রলোভিত করার জন্যই এই প্রকল্প।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

TMC Government Schemes

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy