ইসিএলের অধিগৃহীত জমি থেকে মাটি কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে অন্ডালের কালীপুর, দক্ষিণখণ্ড ও ভাদুর মৌজায়। বিষয়টি নিয়ে বিএলএলআর দফতরকে তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অন্ডালের বিডিও।
কালীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর এলাকার কিছু জমি অধিগ্রহণ করেছে ইসিএল। কিন্তু, সেই সব জমির কিছু অংশ এখনও সংস্থার নামে নথিভুক্ত হয়নি। সেই সুযোগ নিয়ে ব্যক্তিগত জমির পরচা দেখিয়ে ব্লক অফিস থেকে মাটি কাটার অনুমতি বের করছে কিছু লোকজন। তার পরে অধিগৃহীত জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। প্রতি লরি ৬০০ টাকা হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে সেই মাটি। বিরোধীদের একটি অংশের অভিযোগ, শাসকদলের একাংশ বিষয়টির পিছনে থাকায় প্রশাসন সব জেনেও চুপ করে রয়েছে। স্থানীয় এক সিপিএম নেতার দাবি, খনি লাগোয়া এলাকায় তিন ফুটের বেশি মাটি কাটা নিষিদ্ধ। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে। এর ফলে এলাকার ক্ষতি হতে পারে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, ওই এলাকার দখল নিয়ে আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত খনি শ্রমিক সংগঠনের নেতা গুরুদাস চক্রবতীর সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল নেতা অলোক মণ্ডলের অনুগামীদের বিরোধ রয়েছে। অলোকবাবুর শিবিরের দাবি, গুরুদাসবাবুর অনুগামী হিসেবে পরিচিত ইসিএলের কর্মী দয়াময় ঘোষের ভরসায় স্থানীয় বাসিন্দা আশিস ঘোষেরা এই মাটি কাটার কাজে জড়িত। অলোকবাবুর দাবি, দলের কাছে ও অন্ডাল থানায় মৌখিক ভাবে এ বিষয়ে অভিযোগ করা হয়েছে।
আইএনটিটিইউসি নেতা গুরুদাসবাবু সাফ জানান, কোনও সদস্যের দুর্নীতির দায় সংগঠন নেবে না। দয়াময়বাবু যদিও বলেন, ‘‘আমি কোনও মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত নই। দরকার হলে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’’ আশিসবাবুও মাটি কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, প্রায় ২৩ বছর আগে ইসিএল এই এলাকায় জমি নিয়েছিল। কিন্তু জমিদাতাদের মধ্যে ৩৩ জন এখনও চাকরি পাননি। তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা ইসিএলকে জানিয়ে ওই জমিগুলি চাষযোগ্য করার জন্য মাটি সমান করছে। এর সঙ্গে মাটি কেটে পাচারের কোনও সম্পর্ক নেই। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যাঁরা চাকরি পাননি তাঁরা জীবিকা নির্বাহের জন্য ওই জমিতে চাষ করতে চাইছেন। আগেও কয়েকটি ক্ষেত্রে ইসিএল ছাড় দিয়েছিল। এ বারও আমরা ইসিএলকে বিষয়টি মানবিক ভাবে দেখার অনুরোধ করেছি।’’
মাটি কাটার অভিযোগ নিয়ে দলের এমন কোন্দলে অস্বস্তিতে তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের জেলা (শিল্পাঞ্চল) কার্যকরী সভাপতি ভি শিবদাসন বলেন, “কয়েক দিন আগে অন্ডালের কয়েক জন নেতা আমার কাছে এসে বিষয়টি জানিয়েছেন। দলীয় স্তরে তদন্ত করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” অন্ডালের বিডিও মানস পাণ্ডা বলেন, ‘‘বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিএলএলআরও-কে ব্যবস্থা নিতে বলেছি।’’ বিএলএলআর দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দফতরের পরির্দশককে এলাকায় ঘুরে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
ইসিএলের সিএমডি-র কারিগরি সচিব নীলাদ্রি রায় বলেন, ‘‘ওই এলাকায় অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিষয়ে এখনও আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রশাসনকে সব রকম সহযোগিতা করা হবে।’’