Advertisement
E-Paper

চালকল মালিকেরা ধান কিনবেন না সরাসরি

গত বার চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনেছিলেন চালকল মালিকেরা। ফলে, এক দিকে ধান না কেনার অভিযোগ করেছিলেন চাষিরা। আবার জোর করে ধান কিনতে বাধ্য করে চালকলের কর্মী-মালিকদের মারধর করার অভিযোগও উঠেছিল চাষিদের বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে ধান কেনার প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল জেলায়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৬ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৩৭
কাটোয়ায় শুরু হয়েছে ধান কেনার শিবির। —নিজস্ব চিত্র।

কাটোয়ায় শুরু হয়েছে ধান কেনার শিবির। —নিজস্ব চিত্র।

গত বার চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনেছিলেন চালকল মালিকেরা। ফলে, এক দিকে ধান না কেনার অভিযোগ করেছিলেন চাষিরা। আবার জোর করে ধান কিনতে বাধ্য করে চালকলের কর্মী-মালিকদের মারধর করার অভিযোগও উঠেছিল চাষিদের বিরুদ্ধে। সবমিলিয়ে ধান কেনার প্রকল্প কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছিল জেলায়। খাদ্য নিয়ামক দফতরেরও দাবি, সহায়ক মূল্যে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছতেই পারেনি জেলা প্রশাসন। এ বার তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে চাষিদের ক্ষোভ আটকাতে সরকারের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সংস্থাকে ধান কিনতে মাঠে নামাতে চাইছে বর্ধমান জেলা প্রশাসন।

আপাতত ঠিক হয়েছে, এ বছর চালকল মালিকেরা সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে ধান কিনবেন না। তবে, সরকার নিযুক্ত অত্যাবশকীয় পণ্য নিগম, কনফেড, বেনফেডের মতো সংস্থার সঙ্গে জেলার ১৮৬টি চালকল যুক্ত হয়েছে। তাঁরা ওই সংস্থার থেকে ধান নিয়ে ক্যুইন্টাল প্রতি ২০ টাকার বিনিময়ে চাল করে ফের সংস্থার হাতে তুলে দেবে। ইতিমধ্যে জেলার দু’টি জায়গায় ধান কেনা শুরুও করেছে খাদ্য নিয়ামক দফতর।

মঙ্গলবার জেলা প্রশাসনের একটি সভায় ঠিক হয়েছে, ১ ডিসেম্বর থেকে পুরো জেলা জুড়ে শিবির করে কিংবা প্রাথমিক কৃষি উন্নয়ন সমিতির মাধ্যমে সহায়ক মূল্যে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কেনা হবে। এখন খোলা বাজারে প্রতি ক্যুইন্টাল ধান বিক্রি হচ্ছে ১১৮০ থেকে ১২০০ টাকা দরে। সেখানে সহায়ক মূল্যে ক্যুইন্টাল প্রতি চাষিরা দাম পাবেন ১৪১০ টাকা। ঠিক হয়েছে, চাষিরা ৩০ ক্যুইন্টালের বেশি ধান ওই শিবিরে বিক্রি করতে পারবেন না। গত বারও চাষি প্রতি ৩০ ক্যুইন্টাল ধান বিক্রির নিয়ম ছিল। যদিও চাষির নাম করে ফড়েরা চালকলে হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে জেলা চালকল মালিক সমিতির কর্তা আব্দুল মালেক বলেন, “এখন বাজারে চালের চাহিদা রয়েছে। খোলা বাজারে ধানের দাম প্রতি ক্যুইন্টাল ১২০০ টাকা। মাঠের সব ধান উঠে গেলে চাহিদা কমে যাবে। খোলা বাজারে দামও কমে যাবে। তখন বাজারে ফড়েরা চলে আসবে, সরকারকে দেখতে হবে ফড়েরা যেন বাজারে নিয়ন্ত্রক না হয়।”

Advertisement

জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, “ফড়েদের দৌরাত্ম্য ঠেকানো ও চাষিদের ক্ষতি আটকানোর জন্যেই মাঠ থেকে ধান উঠতেই আমরা শিবির করতে শুরু করে দিয়েছি। প্রতিটি ব্লকে একটা, প্রয়োজনে আরও বেশি শিবির খোলা হবে।’’ তাঁর দাবি, এ বার আর চালকল মালিকরা নয়, সরকারের সংস্থাগুলিকে ধান কেনার জন্য শিবির করবে। মুখ্যমন্ত্রীর কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার জানান, বর্ধমান জেলায় ৬ লক্ষ টন ধান সহায়ক মূল্যে কেনার জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy