Advertisement
E-Paper

জলের অভাবে শুকোচ্ছে ধান, মুশকিলে কৃষকেরা

এক দিকে অতিবৃষ্টি, আর এক দিকে অল্পবৃষ্টি— দুইয়ের ফাঁদে পড়ে জেরবার আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা। তাঁদের দাবি, জলের অভাবে মাঠের ধান শুকিয়ে যাচ্ছে, খেত জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তার উপর আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের ভিতর দিয়ে সরাসরি যে সেচখাল রয়েছে, সেখান থেকেও দু’মাস ধরে এক ফোঁটা জল মিলছে না বলে তাঁদের অভিযোগ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৫ ০১:১৫
ফেটেছে জমি।—নিজস্ব চিত্র।

ফেটেছে জমি।—নিজস্ব চিত্র।

এক দিকে অতিবৃষ্টি, আর এক দিকে অল্পবৃষ্টি— দুইয়ের ফাঁদে পড়ে জেরবার আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের বিস্তীর্ণ এলাকার চাষিরা। তাঁদের দাবি, জলের অভাবে মাঠের ধান শুকিয়ে যাচ্ছে, খেত জমিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। তার উপর আউশগ্রাম ও মঙ্গলকোটের ভিতর দিয়ে সরাসরি যে সেচখাল রয়েছে, সেখান থেকেও দু’মাস ধরে এক ফোঁটা জল মিলছে না বলে তাঁদের অভিযোগ। সেচ দফতরের গুসকরা ডিভিশনের আধিকারিকের কাছে এ নিয়ে চিঠিও পাঠিয়েছেন তাঁরা। দফতরের আধিকারিক গৌতমকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় চাষিদের দাবি মেনে চাষের জমির বর্তমান অবস্থা দেখতেও যান। ফিরে তিনি বলেন, ‘‘ওই সেচ খাল দিয়ে কেন জল আসছে না তা খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।”

চাষিরা জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে অতিবৃষ্টির জেরে জেলার অন্য অনেক জায়গার মতো আউশগ্রামের উক্তা-পিচকুরি, গোবিন্দপুর, বেরেন্ডা, মঙ্গলকোটের কেশবপুর, পালাপড়া, বরুলিয়া এলাকার বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। নষ্ট হয়ে যায় বহু ধানজমিও। ফলে বেশির ভাগ চাষিদেরই নতুন করে দ্বিতীয় বার জমিতে ধানের চারা বুনতে হয়। কিন্তু এ বার আর বৃষ্টি পাননি তাঁরা। স্থানীয় চাষি ইশা শেখ, আব্বাসউদ্দিন মল্লিকেরা বলেন, “একে একটুও বৃষ্টি নেই, তারপর সেচখাল একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে। এক বার বেশি জলের জন্য ধান নষ্ট হয়েছে। সেই ধাক্কা সামলানোর আগেই ফের জলের অভাবে ধান শুকিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” চাষিদের দাবি, জলের অভাবে ধান গাছ হলুদ হয়ে পড়েছে। কৃষি দফতরেরও আশঙ্কা, এ রকম অবস্থা চলতে থাকলে গাছে ঝলসা রোগ দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

চাষিদের দাবি, জলের অভাবে প্রায় পাঁচ হেক্টর জমির ধান শুকিয়ে যাচ্ছে। জমি শক্ত হয়ে গিয়ে খেত জমি দিয়ে রীতিমতো ধুলো উড়ছে। জলের অভাবে ধান গাছ বড়ও হচ্ছে না। এ দিকে আবার লো ভোল্টেজের কারণে পাম্পও চলছে না বলে অভিযোগ ওই সব এলাকার চাষিদের। ফলে ভূগর্ভস্থ জলও নিয়মিত জমিতে দিতে পারছে না তাঁরা। চাষিদের আশঙ্কা, ফলনের মুখে জলের অভাব হওয়ায় ধানের পুষ্টিতে ঘাটতি দেখা দেবে। স্থানীয় চাষি সামাদ মল্লিক, সাজাহান শেখ, সুমন শেখদের অভিযোগ, “খেত জমির পাশ দিয়ে ডিভিসি-র সেচ খাল গিয়েছে। ফি বছর ওই সেচখাল দিয়ে জল আসে। কিন্তু এ বছর টানা ৫৫ দিন সেচখাল জল পাওয়া যায়নি। আবার লো ভোল্টেজের কারণে পাম্পও নিয়মিত চালানো যাচ্ছে না।” ওই এলাকার চাষিরা বলেন, “গত বার ধানের দাম পাইনি, এক বার ক্ষতি স্বীকার করে ফের ধানের চারা লাগিয়েছি। এর পরে জলের অভাবে ধান গাছ নষ্ট হয়ে গেলে আমাদের যে কী হবে বুঝতে পারছি না।”

Advertisement
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy