পুলিশকর্তার দাবি, আদৌ লাঠি চালানো হয়নি। অথচ পুলিশের লাঠিতে দুই টিএমসিপি সমর্থক আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠার পরেই কাটোয়া থানার এক কনস্টেবলকে ‘ক্লোজ’ করে দেওয়া হল।
বুধবার কাটোয়া কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচন চলাকালীন গণ্ডগোল বাধে। বাকি বর্ধমানে সমীকরণ পাল্টে গেলেও কাটোয়া এখনও কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এ বারও কলেজের ৪২টি আসনের সব ক’টিই দখল করেছে ছাত্র পরিষদ। এই নিয়ে তারা টানা ৩২ বার ওই কলেজে জিতল।
কিন্তু ফলাফল বেরোনোর অনেক আগেই গোলমাল বেধে যায়। কাটোয়া কলেজ মোড়ের আগে ডাকবাংলো রোডে ছাত্রছাত্রীদের পরিচয়পত্র পরীক্ষার জন্য ‘চেক পয়েন্ট’ হয়েছিল। সেখানে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের দাবি, অনিন্দ্যবাবু টিএমসিপি সমর্থকদের উদ্দেশে প্ররোচনামূলক কথাবার্তা বলাতেই তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। বাধ্য হয়ে পুলিশকে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়। টিএমসিপি-র কাটোয়া শহর সভাপতি স্বাগত চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, “পুলিশ আচমকা লাঠিচার্জ শুরু করে। আমাদের দু’জন আহত হয়ে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।”
অনিন্দ্যবাবু প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে ওই ঘটনার পরেই টিএমসিপি নির্বাচন বয়কট করে প্রার্থী ও এজেন্টদের বের করে নিয়ে চলে আসে। বর্ধমানের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) প্রশান্ত চৌধুরী অবশ্য লাঠিচার্জের অভিযোগ মানতে চাননি। তাঁর দাবি, “ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের প্ররোচনামূলক কথায় একটি ছাত্র সংগঠন উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। পুলিশ লাঠিচার্জ করেনি। তবে উত্তেজিত ছাত্রদের হাতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হেনস্থা রুখতে গিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছে। সেই পুলিশকর্মীকে চিহ্নিত করে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।”
পুলিশ যদি লাঠি না-ই চালিয়ে থাকে, কনস্টেবলকে কোন অপরাধের সাজা দেওয়া হল? অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান। তবে কাটোয়া শহর তৃণমূল সভাপতি অমর রাম ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সঙ্গে পুলিশকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর দাবি, “পুলিশের একাংশ ছাত্র পরিষদ তথা কংগ্রেসের হয়ে পক্ষপাত করেছে।” তবে কি তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন বেকায়দায় পড়ে যাওয়াতেই পুলিশের উপরে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে? জেলা পুলিশের এক কর্তা শুধু বলেন, “শাসকদলের ছাত্র সংগঠন পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। তদন্তের কারণেই কাটোয়া থানার ওই কর্মীকে চিহ্নিত করে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।”
ছাত্র পরিষদ নেতা শেখ সোলেমানের টিপ্পনী, “আইনরক্ষা করতে গিয়ে পুলিশকর্মীই ফাঁদে পড়ে গিয়েছেন!” এসএফআইয়ের জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অয়ন প্রামাণিকের মতে, “নিরপেক্ষ থাকতে গিয়েই ওই পুলিশকর্মীকে শাস্তি পেতে হল।” জেলায় এবিভিপি-র সাধারণ সম্পাদক শুভ্র চট্টোপাধ্যায়ের কটাক্ষ, “তৃণমূলের দাসত্ব না করলে নিচুতলার পুলিশকর্মীদের যে শাস্তির মুখে পড়তে হবে, তা প্রমাণ হয়ে গেল।”