Advertisement
E-Paper

তহবিল খরচ নিয়ে প্রশ্ন, পুস্তিকায় জবাব সাংসদের

সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করা নিয়ে প্রচারে কাজিয়া বেধেছে সিপিএম-তৃণমূলে। তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, আসানসোলে সাংসদ তহবিলের পুরো টাকা খরচই করতে পারেননি সিপিএমের বংশগোপাল চৌধুরী। বংশগোপালবাবু আবার পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তাঁর কোটার টাকা অনুমোদন করার পরেও তা খরচ হয়নি তৃণমূল পরিচালিত আসানসোল ও কুলটি পুরসভা এবং এডিডিএ-র ব্যর্থতায়।

সুশান্ত বণিক

শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০১৪ ০১:১৮
প্রচারে বংশগোপাল। নিজস্ব চিত্র।

প্রচারে বংশগোপাল। নিজস্ব চিত্র।

সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ করা নিয়ে প্রচারে কাজিয়া বেধেছে সিপিএম-তৃণমূলে।

তৃণমূল অভিযোগ তুলেছে, আসানসোলে সাংসদ তহবিলের পুরো টাকা খরচই করতে পারেননি সিপিএমের বংশগোপাল চৌধুরী। বংশগোপালবাবু আবার পাল্টা অভিযোগ করেছেন, তাঁর কোটার টাকা অনুমোদন করার পরেও তা খরচ হয়নি তৃণমূল পরিচালিত আসানসোল ও কুলটি পুরসভা এবং এডিডিএ-র ব্যর্থতায়। এর স্বপক্ষে প্রমাণ দিতে পরিসংখ্যান-সহ একটি পুস্তিকাও প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্প্রতি প্রায় সব ক’টি কর্মিসভাতেই তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, গত পাঁচ বছরে উন্নয়ন খাতে পাওয়া সাংসদ তহবিলের টাকার পুরোটা খরচ করতে পারেননি আসানসোলের সাংসদ বংশোগোপাল চৌধুরী। এই অভিযোগ প্রথম তোলেন আসানসোলের বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। তাঁর দাবি, “গত তিন বছর ধরে আসানসোলের যাবতীয় উন্নয়ন হয়েছে রাজ্য সরকারের টাকায়। সাংসদ নিজের তহবিলের টাকার পুরোটা খরচই করতে পারেননি।” তৃণমূলের তরফে এমনও অভিযোগ তোলা হয়েছে, উন্নয়ন খাতে পাওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে বংশোগোপালবাবু বৈষম্য করেছেন। যেহেতু আসানসোল ও কুলটি পুরসভায় তৃণমূল ক্ষমতায় রয়েছে, তাই এই দুই জায়গায় সাংসদ তহবিলের টাকা খরচের ক্ষেত্রে সাংসদের অনীহা নজরে এসেছে বলে তৃণমূল নেতাদের দাবি। এ নিয়ে সরব হয়েছেন আসানসোল কেন্দ্রের এ বারের তৃণমূল প্রার্থী দোলা সেনও। তাঁর কথায়, “উন্নয়ন খাতে ব্যয় করার জন্য সাংসদ তহবিলের কয়েক কোটি টাকা ফেরত চলে গিয়েছে। এখানকার সিপিএম সাংসদ সেই টাকার পুরোটা খরচ করতে পারেননি।” তাঁর আরও দাবি, এই টাকা জনগণের। আসানসোলের উন্নয়নের জন্য খরচ হলে আখেরে লাভ হত এই লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দাদের।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই অভিযোগের জবাব দিতে একেবারে তথ্য, পরিসংখ্যান-সহ পুস্তিকা ছাপিয়ে আসরে নেমেছেন গত ন’বছরের সাংসদ, এ বারের প্রার্থী বংশোগোপাল চৌধুরী। কবে, কোথায়, কোন খাতে, কার মাধ্যমে সাংসদ তহবিলের টাকা দেওয়া হয়েছে, তা বিশদে ছেপে প্রকাশ করা হয়েছে। আসানসোলে দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে সেই পুস্তিকা প্রকাশ করে বিভিন্ন এলাকায় কর্মী-সদস্যদের হাতে পৌঁছে দিয়েছে সিপিএম। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে বংশোগোপালবাবুর পাল্টা দাবি, “সাংসদ তহবিলের টাকা খরচ না হওয়ার পিছনে আমার কোনও হাত নেই। আমি সময়মতো সেই টাকা অনুমোদন করে পাঠিয়েছি। তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ড এবং এডিডিএ-র অসহোযোগিতায় সেই টাকা খরচ হয়নি।” তাঁর বিরুদ্ধে টাকা খরচের ব্যাপারে বৈষম্যের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁর বক্তব্য, “গত পাঁচ বছরে আসানসোল পুরসভার উন্নয়নের জন্য সাংসদ তহবিল থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা খরচ করেছি। কুলটি পুরসভাতেও প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করেছি। এ ছাড়া আলাদা ভাবে হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও একাধিক স্কুলের উন্নয়নের জন্যও তহবিলের টাকা অনুমোদন করেছি।” বংশগোপালবাবুর দাবি, এই সব তথ্য সরকার প্রকাশ করেছে। সেগুলিই বই আকারে তাঁরা ছেপেছেন। সে সব দেখলেই বাসিন্দারা কোনটি সত্য, কোনটি মিথ্যা বুঝতে পারবেন, দাবি বাম প্রার্থীর।

susanta banik
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy