দলে অর্ন্তদ্বন্দ্বের জন্য কাউকে বরো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিতে পারছে না তৃণমূল। এর জেরে নাকাল হচ্ছেন বাসিন্দারা। বৃহস্পতিবার এমনই অভিযোগ করলেন আসানসোলের সিপিএম নেতা বংশগোপাল চৌধুরী।
বংশগোপালবাবুর অভিযোগ, ‘‘শাসক দলকে জানিয়েছি, আমরা বরো চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব না। কারণ, সংখ্যার বিচারে আমরা পিছিয়ে। তা সত্ত্বেও অন্তর্দ্বন্দ্ব ও দলের একাংশের ব্যবসায়িক মনোভাবের জন্য তৃণমূল কাউকে বরো চেয়ারম্যান পদে বসাতে পারছে না। এর জেরে ট্রেড লাইসেন্স মিলছে না। বাসিন্দরা নাকাল হচ্ছেন।’’ তিনি জানান, ১৪৬ বছরের রানিগঞ্জ পুরসভাকে বিলুপ্ত করে আসানসোল পুরনিগমে যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে পরিষেবার মান বাড়বে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে তার উল্টো ঘটছে। পুরভোটের এক মাস আগে থেকে বাসিন্দারা পরিষেবা পেতে হয়রান হচ্ছেন। জলপ্রকল্প রক্ষণাবেক্ষনের অভাবে পর্যাপ্ত জল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রানিগঞ্জের একাংশের মানুষ। এ ছাড়াও পরিষেবা সংক্রান্ত নানা সমস্যা রয়েছে বলে তাঁর দাবি। রানিগঞ্জে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি বন্ধ হয়েছে ২০১১ সালে। বংশগোপালবাবুর অভিযোগ, কারখানার সম্পত্তি লুঠ করতে শাসক দলের লোকেরা ষড়যন্ত্র করে সম্প্রতি কারখানটিতে আগুন লাগিয়েছিল। সেই ঘটনার কোনও তদন্ত কমিটি গঠন বা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়নি।
তৃণমূলের আসানসোল জেলা সভাপতি ভি শিবদাসন অবশ্য বলেন, ‘‘২০০৯ সালে আসানসোল পুরসভায় মেয়র পারিষদ ঠিক করতে চার মাস ও বরো চেয়ারম্যান ঠিক করতে পাঁচ মাস সময় লেগেছিল। এ বার দেড় মাসের মধ্যে মেয়র পারিষদেরা দায়িত্ব নিয়েছেন। জানুয়ারির মাঝামাঝি বরো চেয়ারম্যানদের শপথগ্রহণ হবে। অন্তর্দ্বন্দ্বের কোনও প্রশ্ন নেই।’’ বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তাঁর দাবি। মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারির প্রতিক্রিয়া, ‘‘আমি মেয়র হওয়ার পরে বংশগোপালবাবুর সঙ্গে বেশ কয়েক বার দেখা হয়েছে। প্রতি বারই তো উনি আমার কাজের প্রশংসা করেছেন।’’