Advertisement
E-Paper

বাদশাকে বহিষ্কার না করার আর্জি নিয়ে একজোট নেতারা

কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলরের পাশে দাঁড়ালেন অন্যেরা। তৃণমূল সূত্রের খবর, রবিবার ওই বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশাকে দলে রাখার স্বপক্ষে সওয়াল করতে শোনা যায় অন্য কাউন্সিলরদের। আজ, সোমবার রাতে জেলায় দলের পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরের উপর থেকে বহিষ্কারের খাঁড়া তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হবে বলেও শহরের একাংশ তৃণমূল নেতার দাবি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ ০১:৩৬

কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় অভিযুক্ত কাউন্সিলরের পাশে দাঁড়ালেন অন্যেরা। তৃণমূল সূত্রের খবর, রবিবার ওই বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশাকে দলে রাখার স্বপক্ষে সওয়াল করতে শোনা যায় অন্য কাউন্সিলরদের। আজ, সোমবার রাতে জেলায় দলের পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করে ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের ওই কাউন্সিলরের উপর থেকে বহিষ্কারের খাঁড়া তুলে নেওয়ার চাপ দেওয়া হবে বলেও শহরের একাংশ তৃণমূল নেতার দাবি।

রবিবার শিক্ষামন্ত্রী তথা দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও কথা বলেছেন রাজ কলেজের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক তারকেশ্বর মণ্ডলের সঙ্গে। পার্থবাবু বলেন, ‘‘ওই শিক্ষকের কাছ থেকে কী হয়েছিল, তার বিস্তারিত জবাব চাওয়া হয়েছে।’’ তারকেশ্বরবাবুও বলেন, ‘‘শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছে। উনি বিস্তারিত ঘটনা জেনেছেন।”

শনিবার দুপুরে বর্ধমানের লাকুর্ডি জলকলের ভিতর তৃণমূলের এক কাউন্সিলরের উদ্যোগে পিকনিক ছিল। সেই পিকনিকে রাজ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তারকেশ্বর মণ্ডল ও তৃণমূলের কাউন্সিলর শেখ বসির আহমেদ দু’জনেই নিমন্ত্রিত ছিলেন। স্থানীয় সূত্রের খবর, ওই দিন দুপুরে তারকেশ্বরবাবু পিকনিক থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, আর উল্টো দিক থেকে পিকনিকে ঢুকছিলেন ওই কাউন্সিলর। রাস্তায় দু’জনের দেখা হয়ে যায়। অভিযোগ, রাজ কলেজের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রথমে দু’এক কথা তারপরেই তারকেশ্বরবাবুকে চড় মারেন ওই কাউন্সিলর। পরে রাজ কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদপন্থী পড়ুয়াদের নিয়ে বর্ধমান থানায় বিক্ষোভ দেখান তারকেশ্বরবাবু। সেখানে আইসি প্রিয়ব্রত বক্সির হাতে অভিযোগও জমা দেন। তৃণমূল সূত্রে জানা যায়, এরপরেই রাজ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ফোনে তারকেশ্বরবাবুকে ওই অভিযোগ তুলে নিতে বলেন। অনুরোধ মেনে নেন তারকেশ্বরবাবু। কিন্তু অভিযোগ তুলে নেওয়ার পিছনে ‘রহস্য’ কী, তা শনিবার তারকেশ্বরবাবুর কাছ থেকে জানা যায়নি। বারবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

তবে রবিবার সন্ধ্যায় তারকেশ্বরবাবু সেই রহস্য ফাঁস করে দেন। এ দিন তিনি বলেন, “ওই ঘটনার পরেই দল দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ওই কাউন্সিলর যে বল-ভরসায় অন্যায় কাজ করে যাচ্ছিলেন, সেই শিকড়টাই তো দল উপড়ে দিল। সেখানে আমার মতো শিক্ষিত লোকের আর ঘাঁটানোর দরকার কী, এই ভেবেই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছি।”

কিন্তু দলের ব্যবস্থা নেওয়া এক ভাবে মেনে নেননি অন্য কাউন্সিলরেরা। তাঁদের অনেকেই এ দিন বহিষ্কৃত নেতাকে দলে ফেরানোর জন্য একজোট হন। এ দিন দুপুরে এ নিয়ে বৈঠকও করেন। সেখানে আলোচনা হয়, দল ভুল খবর পেয়ে এ রকম কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, অভিযোগকারী তার সমস্ত অভিযোগ কিছুক্ষণের মধ্যেই থানা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। যাতে অভিযোগকারী স্বীকার করে নিয়েছেন, এ ধরণের কোনও ঘটনাই ঘটেনি। তাহলে কোন দোষে শেখ বসির আহমেদ ওরফে বাদশাকে বহিষ্কার করা হবে, সে প্রশ্নও ওঠে। ঠিক হয়, ওই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অরূপবাবুর কাছে আর্জি জানাতে কলকাতা যাবেন কাউন্সিলরদের একাংশ। দলের বর্ধমান জেলার পর্যবেক্ষক অবশ্য বলেন, “সোমবার জেলার নেতাদের সঙ্গে কথা হবে। তারপরে এ নিয়ে কিছু বলতে পারব।” আর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বলেন, “দল যা ভাল বুঝবে, সেটাই করবে।”

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy