শুরু হল ২৭তম জেলা গ্রন্থমেলা। এ বার গ্রন্থমেলা হচ্ছে আসানসোল আদালত চত্বর সংলগ্ন মেলা ময়দানে। পদযাত্রা, বাউল গান ও আলোচনার মধ্যে দিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় এই মেলার উদ্বোধন হয়। এই মেলার আয়োজক হল রাজ্য সরকারের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার পরিষেবা বিভাগ এবং রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন।
মেলার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবু টুডু। উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে একটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশ করেন মলয়বাবু। এ দিন বিকেলে আসানসোল রবীন্দ্র ভবন চত্বর থেকে শুরু হয়ে ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ শীর্ষক একটি পদযাত্রা মেলা প্রাঙ্গণে এসে উপস্থিত হয়। সন্ধ্যায় উদ্বোধনী মঞ্চে গান করেন হারাধন দাস বাউল ও অর্পিতা গোস্বামী।
এ দিন গ্রন্থমেলার উদ্বোধনে মলয়বাবু দাবি করেন, “বামফ্রন্ট সরকার বরাকর থেকে অন্ডাল পর্যন্ত কোনও উন্নয়নের কাজই করেনি। এই প্রথম আসানসোলে জেলা গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হল।” এ দিন মেলার মঞ্চ থেকে তিনি জানান, চলতি আর্থিক বছরে আসানসোলে জেলা জজ আদালত তৈরি করা হবে। আসানসোলে শ্রম ভবন তৈরির কাজ খুব দ্রুত শেষ করা হবে। বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান ও মেদিনীপুরএই ৫টি জেলার কাজ হবে এই শ্রম ভবন থেকে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে আসানসোলে একটি হিন্দি মাধ্যম ও ইংরেজি মাধ্যম কলেজ চালু করা হবে বলেও এ দিন জানান তিনি। দেবু টুডুও বলেন, “এই প্রথম আসানসোলের মানচিত্রে জেলা গ্রন্থমেলা ঢুকল। এটা খুবই গৌরবের বিষয়।”
জেলা সভাধিপতির এই দাবি অবশ্য মানতে চাননি গ্রন্থমেলার সঙ্গে যুক্ত অনেকেই। বার্নপুরের একটি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক তথা গ্রন্থমেলার দু’বারের সম্পাদক অমিয় মুখোপাধ্যায়ের দাবি, আসানসোল মহকুমায় এর আগে বেশ কয়েক বার গ্রন্থমেলা হয়েছে। ১৯৮৬ সালে রানিগঞ্জ পুরসভার পার্কে জেলার প্রথম গ্রন্থমেলা হয়েছিল। এর পর ১৯৯০ এবং ১৯৯৫ সালে হিরাপুরে থানা মাঠে, ১৯৯৬ সালে রানিগঞ্জে, ২০০৪ সালে জামুড়িয়াতে এই গ্রন্থমেলা আয়োজিত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, “শুক্রবার গ্রন্থমেলার মঞ্চে মূলত রাজনৈতিক বক্তব্যই রাখা হয়েছে।” যদিও রাজনৈতিক বক্তব্য রাখার বিষয়টি মানতে চাননি মলয়বাবু। তিনি বলেন, “আমি মন্ত্রী হিসেবে সরকারি কাজের পরিসংখ্যান তুলে ধরেছি।” তাঁর দাবি, এর আগে জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জে গ্রন্থমেলা আয়োজিত হলেও আসানসোল শহরে এই মেলা হয়নি।
গ্রন্থমেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, এ বার মোট ৭৬টি বইয়ের স্টল থাকছে। মেলা চলবে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতি দিনই সন্ধ্যায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। থাকছে লিটল ম্যাগাজিনের স্টল। এই মেলা থেকে প্রধানত জেলার গ্রন্থাগারগুলি বই কিনে থাকে। লিটল ম্যাগাজিন কর্মী বাসুদেব মণ্ডল ও একটি সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর সম্পাদক অসিতবরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “মেলা ময়দানের এলাকা বেশ বড়। তাই আমাদের সুবিধাই হচ্ছে। আসানসোল বইমেলাও যদি এই মাঠে করা হয় তাহলে ভালই হবে।” প্রথম দিনেই মেলায় ভাল ভিড় জমেছিল।