E-Paper

কর্মতীর্থ বন্ধ কেন, সরব বিরোধীরা

কর্মহীনদের দিশা দেখাতে রাজ্যের প্রত্যেক ব্লকে গড়া হয়েছিল কর্মতীর্থ ভবন। সেখানে অল্প টাকায় দোকান নিয়ে কর্মহীনরা ব্যবসা করে রোজগার করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

প্রণব দেবনাথ

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০০:৪৫
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটের মুখে বেকারদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্পে মাসিক ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই আবহে বন্ধ পড়ে থাকা কর্মতীর্থগুলি নিয়ে সরব হয়েছেন বিরোধী থেকে শুরু করে সাধারণ বাসিন্দারা।

কর্মহীনদের দিশা দেখাতে রাজ্যের প্রত্যেক ব্লকে গড়া হয়েছিল কর্মতীর্থ ভবন। সেখানে অল্প টাকায় দোকান নিয়ে কর্মহীনরা ব্যবসা করে রোজগার করার সুযোগ পেয়েছিলেন। কাটোয়া মহকুমায় পাঁচটি ব্লকে একটি করে কর্মতীর্থ ভবন গড়া হয়েছিল। সেগুলি ঘটা করে উদ্বোধন করেছিলেন মন্ত্রীরা। বেকার ছেলেরা ভবনে দোকান কিনে ব্যবসাও শুরু করেছিলেন। কিন্তু, ব্যবসা না চলায় ধীরে ধীরে সকলেই দোকান বন্ধ করে দেন। কর্মতীর্থ ভবনগুলি কার্যত ভূতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে এখন। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, কর্মতীর্থগুলি চালুর উদ্যোগ নেই। টাকা ঢেলে বেকার ছেলেরা বিপাকে পড়েছেন।

তৃণমূল ক্ষমতায় আসার বছর দুয়েকের মধ্যে কাটোয়া-গীধগ্রাম রাস্তার পাশে ধান জমির উপরেই কৈথন গ্রামে বিশাল জায়গা জুড়ে গড়া হয়েছিল কাটোয়া ১ ব্লকের কর্মতীর্থ ভবন। আধুনিক দ্বিতল ওই ভবনে সব রকমের সুবিধা রয়েছে। সেখানে প্রায় ৪৫টি বড় দোকান সভাকক্ষ ও ক্যান্টিন রয়েছে। যাঁরা দোকান কেনেন, তাঁদের দাবি, সারাদিনে যা আয় হতো তা দিয়ে বিদ্যুতের খরচও উঠত না। ফলে বাধ্য হয়ে দোকান বন্ধ করে দেন। কর্মতীর্থ ভবনে গিয়ে দেখা যায়, দেওয়াল জুড়ে গজিয়েছে গাছ। জানালার কাচ ভেঙে গিয়েছে। অভিযোগ, রাতে সেখানে মদ্যপেরা আড্ডা জমায়। ভবনের দ্বিতলে পড়ে থাকে মদের বোতল।

কৈথন গ্রামের কয়েক জন বাসিন্দা বলেন, “সরকারের দূরদৃষ্টির অভাবেকর্মতীর্থগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বেশির ভাগ কর্মতীর্থই গড়া হয়েছিল লোকালয় থেকে অনেক দূরে, ধান জমির পাশে। সেখানে যেতে চান না ক্রেতারা।” কর্মতীর্থে দোকান পাওয়া অনেকেই তৃণমূলের সমর্থক। এই উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ায় তাঁরাও ক্ষুব্ধ। তাঁদেরই এক জন বলেন, ‘‘অনেক আশা করে দোকান নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলাম। কিন্তু মাছি তাড়ানো ছাড়া কাজ কিছুই ছিল না।’’ আর এক যুবক বলেন, ‘‘কর্মতীর্থের স্থান নির্বাচন ভুল ছিল। আমার অনেক টাকা নষ্ট হল।’’

বিজেপির কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা সভাপতি স্মৃতিকণা বসু, কাটোয়ার কংগ্রেস নেতা জগদীশ দত্ত ও সিপিএম নেতা প্রকাশ সরকারের দাবি, “কর্মহীনদের দিশা দেখাতে সরকার রাজ্য জুড়ে কোটি কোটি টাকা খরচ করে কর্মতীর্থ করলেও তা কাজে আসেনি। তাই ভোটের আগে বেকারদের মন পেতে ভাতার কথা ঘোষণা করেছে সরকার।”

জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান তথা মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, “কারা দোকান নিয়েও ব্যবসা করছেন না, কেন করছেন না, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। বিরোধীরা বাজার গরম করতে চাইলেও লাভ হবে না।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Mamata Banerjee

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy