Advertisement
E-Paper

ভিন্‌ রাজ্যের ফুলকপি আসায় দাম মিলছে না, দাবি স্থানীয় চাষিদের

ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসা ফুলকপি ঢুকে পড়েছে শহরের বাজারে। সে কারণে এ বার তাঁরা তেমন দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি দামোদরের পাড়ে ফুলকপি ফলানো চাষিদের। তাঁরা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে ফুলকপি বিক্রি করে যে দাম মেলে, এ বার তার থেকে অনেক কম দামেই ফুলকপি বেচে দিতে হচ্ছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০১৫ ০১:৪৬
দামোদরের চরে ফুলকপি চাষ। নিজস্ব চিত্র।

দামোদরের চরে ফুলকপি চাষ। নিজস্ব চিত্র।

ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসা ফুলকপি ঢুকে পড়েছে শহরের বাজারে। সে কারণে এ বার তাঁরা তেমন দাম পাচ্ছেন না বলে দাবি দামোদরের পাড়ে ফুলকপি ফলানো চাষিদের। তাঁরা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে ফুলকপি বিক্রি করে যে দাম মেলে, এ বার তার থেকে অনেক কম দামেই ফুলকপি বেচে দিতে হচ্ছে। ফলে, ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দুর্গাপুরের বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীরাও জানান, ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসা ফুলকপিরই এখন রমরমা শিল্পাশহরে।

দুর্গাপুর শহর লাগোয়া দামোদরর চরে বিভিন্ন মানা এলাকার বাসিন্দারা নানা রকম সব্জি চাষ করেন সারা বছরই। আলু থেকে শুরু করে বাঁধাকপি, ফুলকপি-সহ নানা ফসল ফলান তাঁরা। দুর্গাপুর শহর-সহ আশপাশের নানা এলাকার বাজারে সে সব বিক্রি করেন। এই সব মানা এলাকা থেকে সময়ের আগেই নানা ধরনের সবজি বাজারে আসতে শুরু করে। তাই ওই চাষিরা দাম পান ভালই। ফুলকপির ক্ষেত্রেও তার অন্যথা হয় না।

কিন্তু এ বছর বাজার অনেকটা দখল করেছে বাইরে থেকে আসা ফুলকপি। নানা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত রাঁচি থেকে আসা ফুলকপি ছেয়ে গিয়েছে। আর তার ফলে তাঁদের উৎপাদিত ফুলকপি তেমন দাম পাচ্ছে না বলে অভিযোগ ওই সব মানার চাষিদের একাংশের। তাঁরা জানান, এক বিঘা জমিতে ফুলকপি চাষ করতে হাজার দেড়েক টাকার বীজ লাগে। সব মিলিয়ে বিঘা পিছু খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এক বিঘায় ফুলকপি হয় চার-সাড়ে চার হাজার। ফুলকপি চাষ অন্য চাষের থেকে লাভজনক। কিন্তু এ বছর তা হচ্ছে না বলে তাঁদের দাবি। মাঝের মানা এলাকার এক চাষি গোপাল হালদার জানান, এ বছর মাঝারি মাপের একটি ফুলকপির পাইকারি দর ৫-৬ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। যা গত বার ছিল ১০ টাকার উপরে। তা ছাড়া অনেক বাজারেই তাঁদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ফুলকপি নেওয়া হত, তা-ও এ বার কমেছে অনেকটা। রাঁচি থেকে ফুলকপি আসার ফলেই তাঁদের কপির দাম নেই বলে জানান তাঁরা।

Advertisement

রাঁচির ফুলকপি যে শিল্পাঞ্চলের বাজার অনেকটা ধরে ফেলেছে তা সব্জি ব্যবসায়ারী সঙ্গে কথা বলেও জানা গিয়েছে। তাঁরা জানান, শহরের বিভিন্ন বাজারে রাঁচি থেকে সপ্তাহে দু’দিন করে ফুলকপি বোঝাই গাড়ি আসে। তা বিভিন্ন পাইকারি বাজারে নিলাম করা হয়। চণ্ডীদাস বাজারের সব্জি ব্যবসায়ী স্বপন মিত্র জানান, স্থানীয় ফুলকপির থেকে রাঁচির ফুলকপি বড় হয়। ওজনে স্থানীয় চাষিদের ফলানো দু’টি ফুলকপির সমান রাঁচির একটি ফুলকপি। ব্যবসায়ীদের আরও দাবি, স্থানীয় ফুলকপির তুলনায় রাঁচির কপি বেশি দিন সতেজ থাকে। তাই বিক্রি করতে কোনও সমস্যা হয় না। ক্রেতারাও রাঁচির ফুলকপির দিকেই বেশি ঝুঁকছেন বলে মত ব্যবসায়ীদের। স্বপনবাবু জানান, রাঁচির একটি ফুলকপি পাইকারি দরে ৮-৯ টাকায় কেনা হয়। তাই তুলনায় ছোট ফুলকপির দাম কম থাকছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy