Advertisement
E-Paper

রাতে বালি খাদানে হানা কর্তাদের

এত দিন আচমকা তল্লাশি চালানো হচ্ছিল রাস্তায়। এ বার বেআইনি ভাবে বালি তোলার খবর পেয়ে সরাসরি খাদানে পৌঁছে গেলেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বর্ধমানের সদরঘাট ও রায়নার হিজলনায় দামোদরের বালিঘাটে অভিযান চালালেন তাঁরা। ধরা হল হল কয়েকটি বালির গাড়ি। আটক করা হল বেশ কয়েক জনকে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ অগস্ট ২০১৫ ০১:০৬
বালি খাদানের সামনে পুলিশ সুপার, জেলাশাসক।

বালি খাদানের সামনে পুলিশ সুপার, জেলাশাসক।

এত দিন আচমকা তল্লাশি চালানো হচ্ছিল রাস্তায়। এ বার বেআইনি ভাবে বালি তোলার খবর পেয়ে সরাসরি খাদানে পৌঁছে গেলেন পুলিশ-প্রশাসনের কর্তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বর্ধমানের সদরঘাট ও রায়নার হিজলনায় দামোদরের বালিঘাটে অভিযান চালালেন তাঁরা। ধরা হল হল কয়েকটি বালির গাড়ি। আটক করা হল বেশ কয়েক জনকে।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন খবর পান, সদরঘাট ও হিজলনায় অবৈধ বালি খনন চলছে। তিনি বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার কুণাল অগ্রবালকে। আলোচনা করে তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন, অভিযান চালানো হবে। সঙ্গে সঙ্গেই গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তাঁরা। খবর দেন সেচ দফতরের দামোদর ক্যানাল ডিভিশনের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার শ্যাম বন্দ্যোপাধ্যায় ও অতিরিক্ত জেলাশাসক (ভূমি ও ভূমি সংস্কার) অশোক সাহাকে। বর্ধমানের তেলিপুকুর মোড়ে পৌঁছে অপেক্ষা করেন পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক। পুলিশ বাহিনী ও অন্য আধিকারিকেরা আসার পরে তাঁরা রওনা হন সদরঘাটের দিকে।

রাস্তায় বালির গাড়ি দেখলেই আটকে পরীক্ষা করছিলেন পুলিশ সুপার ও জেলাশাসক। গাড়ির কাগজপত্র খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছিল। দেখা যায়, বেশ কিছু গাড়ি অতিরিক্ত বালি চাপিয়ে যাচ্ছিল। এ ভাবে প্রায় চল্লিশ মিনিট ধরে অনেকগুলি গাড়ি পরীক্ষা করার পরে আধিকারিকেরা সদরঘাটের উল্টো দিকে রায়নার হিজলনার উদ্দেশে রওনা দেন। অন্ধকারের মধ্যে বাঁধের রাস্তা ধরেন তাঁরা। রাস্তায় দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ের দিকে যাওয়া গাড়িগুলি আটকে তল্লাশি শুরু হয়। টর্চ ও মোবাইলের আলোতেই পরীক্ষা চলতে থাকে। বেশ কিছু লরি চালক গাড়ি থেকে নেমে পালান। অনেকে গাড়ির কাগজপত্র নিয়েই চম্পট দেন। তাদের মধ্যে কয়েক জনকে পুলিশ ধরে আনে।

Advertisement

রাস্তায় গাড়ি পরীক্ষা করার পরে আধিকারিকেরা রাতে সোজা পৌঁছে যান হিজলনার বালি খাদানে। সেখানে অবশ্য কারও দেখা মেলেনি। কয়েকটি মাটি কাটার যন্ত্র, খালি গাড়ি, কোদাল-ঝুড়ি পড়ে ছিল খাদানে। ঘাটের কাছে অনেক ক্ষণ অপেক্ষা করেন পুলিশ সুপার, জেলাশাসক-সহ প্রশাসনের কর্তারা। তার পরে ফের চলে আসেন সদরঘাটে। সেখানে গাড়ি আটকে পরীক্ষা করতে থাকেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) তরুণ হালদার, বর্ধমান (সদর) এসডিপিও কার্তিকচন্দ্র মণ্ডল, সেচ দফতরের কর্মীরা।

জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন সেচ দফতরের সুপারিন্টেন্ডিং ইঞ্জিনিয়ার শ্যামবাবুর কাছে জানতে চান, তাঁরা মাঠে নামলেই একের পর এক বেআইনি বালির গাড়ি ধরতে পারেন। কিন্তু সেচ দফতরের তরফে সে কাজ করা হয় না কেন? শ্যামবাবু তাঁকে জানান, তাঁরা কিছু দিন আগেই রাতভর তল্লাশি চালিয়েছিলেন। বেশ কিছু লরি ধরা পড়েছিল, জরিমানাও আদায় হয়েছিল অনেক। জেলাশাসক তাঁকে নিয়মিত নজরদারির পরামর্শ দেন।

পুলিশ সুপার কুণাল অগ্রবাল জানান, মঙ্গলবার রাতের এই অভিযানে মোট ৩০ জনকে আটক করা হয়েছে। ধরা হয়েছে গোটা পঞ্চাশ গাড়ি। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অতিরিক্ত বালি বোঝাই করে যাওয়ার জন্য বেশ কিছু গাড়ির কাছ থেকে জরিমানা আদায় করা হয়েছে। জেলাশাসক সৌমিত্র মোহন বলেন, ‘‘সরকারের রাজস্বে যাতে ক্ষতি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরকে সঙ্গে নিয়ে এ ভাবে তল্লাশি চালানো হবে।’’ তিনি জানান, ইতিমধ্যে জেলার চারটি জায়গায় চেকপোস্ট তৈরি করা হয়েছে। সেখানে সিসিটিভি থাকছে। খণ্ডঘোষের পলেমপুর, বর্ধমানের বড়শূল, জামালপুর ব্লক অফিসের কাছে ও কাটোয়ার জাজিগ্রামে এই চেকপোস্টগুলি তৈরি হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।

—নিজস্ব চিত্র।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy