রাজ্যের শস্যগোলা হিসেবে পরিচিত জেলাতেই এখন চাষিদের ঘরে ভাত নেই— বর্ধমানে সভা করতে এসে দাবি করলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। আদালতে চত্বরে দলের সভায় তিনি বলেন, ‘‘গোটা রাজ্যের ‘ভাতঘর’ বর্ধমান। এখন সেখানকার কৃষকের ঘরেই ভাতের অভাব। কৃষককে আত্মহত্যা করতে হচ্ছে।’’
এ দিনের সভায় গোড়া থেকেই রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন অধীর। তিনি মঞ্চে ওঠার সময়ে কর্মী-সমর্থকেরা চিৎকার করতে থাকেন, ‘তৃণমূলের সঙ্গে জোট করবেন না।’ তাঁদের আশ্বস্ত করে অধীর বলেন, ‘‘২০১৬ সালে হিসাব-কিতাব বুঝে নেব।’’ বর্ধমান জেলায় হামলা চালিয়ে শাসকদল তাঁদের দলের অস্তিত্ব নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও এ দিন কংগ্রেস কর্মীরা অভিযোগ করেন। অধীর বলেন, “গ্রামে-গ্রামে যাত্রা হবে। যার নাম না কি মমতা-পালা! দিদি বলছেন, সস্তায় চাল দেওয়া হচ্ছে। সবাই হাসছে, গান গাইছে, ফূর্তি করছে। তাহলে যাত্রাদল তৈরি করে মানুষকে কেন বোঝাতে নামতে হচ্ছে?” তিনি বলেন, “২০১২ সালে খাদ্য সুরক্ষা আইন চালু হলেও মা-মাটি-মানুষের সরকার তা এখনও চালু করতে পারেনি।” অধীরের আরও অভিযোগ, শুধু গ্রামীণ বর্ধমান নয়, জেলার শিল্পাঞ্চলও শুকিয়ে যাচ্ছে।
এ দিনের সভাকে ঘিরে অবশ্য কংগ্রেসের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দেখা সামনে এসেছে। সভায় দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি (গ্রামীণ) আজিজুল মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীদের দেখা যায়নি। আজিজুল বলেন, “প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি বর্ধমান শহরে সভা করবেন, এমন কোনও খবর আমাদের দেওয়া হয়নি।” জেলা কংগ্রেসের সভাপতি (গ্রামীণ) আভাস ভট্টাচার্যর পাল্টা বক্তব্য, “প্রদেশ কংগ্রেসের কর্মসূচি সবাই জানত। তার পরেও যদি কেউ বলে জানি না, তাহলে তো মুশকিল।”
অধীরের অভিযোগ প্রসঙ্গে জেলা তৃণমূল সভাপতি (গ্রামীণ) স্বপন দেবনাথের প্রতিক্রিয়া, “রাজ্যের মানুষ তৃণমূল ছাড়া অন্য কোনও দলের কথা বিশ্বাস করেন না। তাঁরা জানেন, মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে বাংলা এগোচ্ছে।”