যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাক্তনী সংসদের উপর চাপানো হল নতুন কিছু নিয়ম। এ বার থেকে ওই প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া দেওয়ার কথা আগে থেকে জানাতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে। পাশাপাশি যে সংস্থা ভাড়া নেবে, তাদের পরিচিতি নতুন ফর্মে বিশদ লিখে রাখতে হবে প্রাক্তনী সংসদকে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সঙ্গে সঙ্গে তার প্রতিলিপিও পাঠিয়ে দেবে তারা। গত শুক্রবার একটি ফিল্ম দেখানোকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাপ্রবাহের পরে মঙ্গলবার প্রাক্তনী সংসদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বৈঠকে এমনই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
যে ফিল্মটির প্রদর্শনকে ঘিরে ক্যাম্পাসে অশান্তি, সেটি দেখানোর জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা ত্রিগুণা সেন অডিটোরিয়াম ভাড়া নিয়েছিল। কিন্তু পরে প্রাক্তনীই তা বাতিল করে দেয়। যার জেরে ওই সংস্থা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে ছবিটি দেখায়। এবং তাকে ঘিরেই অশান্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। অনুমতি দেওয়া এবং পরে তা বাতিল করার ফলে গোলমালের জন্য পরোক্ষে প্রাক্তনী সংসদকেই কাঠগড়ায় তোলেন কর্তৃপক্ষ। তাঁদের বক্তব্য ছিল, হল ভাড়া দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায় নেই। এ বিষয়ে প্রাক্তনী সংসদই শেষ কথা বলে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে যে কোনও ঘটনার দায় শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের উপরেই বর্তায়। এই কারণেই তাঁরা বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তনী সংসদের সঙ্গে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন।
বৈঠক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সুরঞ্জন দাস বলেন, ‘‘প্রাক্তনীর প্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। ওই প্রেক্ষাগৃহে কোন দিন কোন সংস্থার আয়োজনে কী ধরনের অনুষ্ঠান হবে, কর্তৃপক্ষ আগে ভাগেই যেন তা জানতে পারেন। বিশেষত বহিরাগত সংস্থার ক্ষেত্রে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রাক্তনী সংসদকে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’’ প্রাক্তনীর এক প্রতিনিধি অবশ্য জানান, অডিটোরিয়াম ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়ার কথা হলেও ভাড়া দেওয়া বা বাতিল করার ক্ষমতা সংসদের হাতেই রয়েছে।
বৈঠকের আগে এ দিন দুপুরে আচার্য তথা রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর সঙ্গে রাজভবনে দেখা করেন উপাচার্য সুরঞ্জনবাবু এবং সহ উপাচার্য (শিক্ষা) আশিস বর্মা। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসে অশান্তি এড়াতে কিছু ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আচার্য।