তিনি তাঁদের দিয়েছেন, তাই তাঁরাও প্রতিদানে তাঁকে উজাড় করে দিতে চাইছেন!
‘তিনি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ‘তাঁরা’ রাজ্যের গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবক (যাঁরা এত দিন হাতুড়ে ডাক্তার হিসাবে পরিচিত ছিলেন) এবং সরকারি চিকিৎসকদের বড় অংশ।
গত ৫ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন প্রায় ১০ হাজার গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবককে নিয়ে তৈরি সরকারপন্থী সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ রুরাল মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’। তাতে তাঁরা লিখেছেন, স্বাস্থ্য দফতর থেকে গ্রামীণ স্বাস্থ্য পরিষেবকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে তাঁদের কাজকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। তা ছাড়া, মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের দাবি মেনে ‘হাতুড়ে চিকিৎসক’ নাম থেকে তাঁদের মুক্তি দিয়েছেন। এর প্রতিদানে পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলের প্রার্থীদের ‘পূর্ণ সমর্থন’-এর ডাক দিয়েছেন তাঁরা। সংগঠনের রাজ্য সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীর ব্যাখ্যা, ‘‘প্রত্যন্ত গ্রামে চিকিৎসায় এই স্বাস্থ্য পরিষেবকেরাই গ্রামবাসীর ভরসা। গ্রামের লোক এঁদের কথা ফেলতে পারবেন না। তৃণমূল আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাই আমরাও ওদের পাশে আছি।’’
পাশাপাশি চিকিৎসকদের তৃণমূলপন্থী সংগঠন ‘প্রোগ্রেসিভ ডক্টর্স অ্যাসোসিয়েশন’ (পিডিএ)-ও জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক সদস্যেরা তৃণমূলের হয়ে প্রচারে ঝাঁপাবেন। কারণ, তৃণমূল রাজ্যের চিকিৎসা ক্ষেত্রে এবং সামাজিক ক্ষেত্রে ‘নজিরবিহীন’ পরিবর্তন এনেছে। কিন্তু সংগঠনের সরকারি চিকিৎসকেরা কি এই প্রচারে সামিল হতে পারবেন?
সংগঠনের রাজ্য সচিব চিকিৎসক-নেতা শান্তনু সেনের উত্তর, ‘‘ডিউটি আওয়ার্সের বাইরে সংগঠনের হয়ে তাঁরা সরকারের পক্ষে প্রচার করতেই পারেন। রোগী পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত না-হলেই হল। গত বিধানসভা বা লোকসভা নির্বাচনেও এমন হয়েছে। চিকিৎসকেরা ছোট-ছোট সভা করছেন। তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন জানিয়ে লিফলেট ছাপা হচ্ছে। আগামী দু’-এক দিনের মধ্যে সব জেলায় তা পাঠানো হবে, তার পরে চিকিৎসকেরা সেগুলি বিলি করবেন।’’ মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক-এর পিজিটি শিবশঙ্কর মাহাতো বলেন, ‘‘ডিউটির পরে, রবিবার ও ছুটির দিনে আমরা সরকারি ডাক্তারেরা তৃণমূলের হয়ে প্রচার করছি, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখছি।’’
শাসক দলকে সমর্থন করতে গিয়ে সরকারপন্থী চিকিৎসকদের একাংশ রাজনৈতিক সংঘর্ষে আহত বিরোধী কর্মী বা প্রার্থীদের আঘাত সম্পর্কে মিথ্যা বিবৃতি দিচ্ছেন বা তাঁদের ক্ষত লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ বিরোধীদের। তা খারিজ করে পিডিএ-র দাবি,
বাম জমানায় ভোটের আগে সরকারি মেডিক্যাল কলেজের প্রেক্ষাগৃহে সূর্যকান্ত মিশ্র, নিরুপম সেনদের মতো তৎকালীন নেতা-মন্ত্রীদের ডেকে সভা করা হয়েছে। এই ইতিহাস যাঁদের আছে, তাঁদের মুখে অন্যের সমালোচনা মানায় না। শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি-র কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অচিন্ত্য সিংহের অভিযোগ, বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদের মতো একাধিক জেলায় বাড়ি
বাড়ি গিয়ে প্রচারের জন্য আশা কর্মীদের চাপ দিচ্ছে শাসক দল। বলা হচ্ছে, প্রচার না করলে চাকরি থাকবে না।’’ শান্তনুবাবুর বক্তব্য, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গণতন্ত্রের অনেক বিরোধী সুবিধা পেয়েছেন কিন্তু বিরোধিতা ভুলতে পারেননি। ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁরা সরকারকে দোষারোপ করছেন।’’