বালুরঘাটের দণ্ডি কাণ্ডে পদ থেকে অপসারিত দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। এই ঘটনায় এ বারে তাঁকে গ্রেফতারের দাবি করল বিজেপি। রাজ্যের মন্ত্রী তথা তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও বলেন, ‘‘গর্হিত অপরাধ মনে করেই দল ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রশাসন কী করবে, তা প্রশাসন ঠিক করবে।’’ রাজ্য মহিলা কমিশনের তরফে এ দিন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে বালুরঘাটে গিয়ে সংশ্লিষ্ট আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে দেখা করা হয়। পরে কমিশনের চেয়ারপার্সন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘আমাদের দাবি, ওই নেত্রীর নামে অভিযোগ করে আইনগত উপযুক্ত পদক্ষেপ করতে হবে।’’
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তকে চিহ্নিত করা যায়নি। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপার রাহুল দে বলেন, ‘‘আদিবাসী মহিলারা অভিযোগ করেননি। অন্য এক অভিযোগকারীও অভিযুক্তের নাম দেননি। শীর্ষ আদালতের বিধি মেনেই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া চলছে। তা শেষ হলেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’’
বিজেপি এক দিকে বালুরঘাট শহরে মিছিল করে প্রতিবাদ জানিয়েছে এ দিন। পাশাপাশি সুকান্ত জানিয়েছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি এবং তফসিলি জাতি কমিশনের কাছে চিঠি লিখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। সুকান্ত বলেন, ‘‘আদিবাসী মহিলাদের সঙ্গে কুৎসিত আচরণেও কেন গ্রেফতার হলেন না নেত্রী? পুলিশ সেটা না বুঝলে, তা পুলিশের ব্যর্থতা নয়? আমরা প্রদীপ্তা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের দাবি করছি।’’ মুখ্যমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বালুরঘাটের বিজেপি বিধায়ক অশোক লাহিড়ী দাবি করেছেন, ‘আপনাকে দলীয় প্রধান হিসেবে নয়, রাজ্যের পুলিশমন্ত্রী হিসেবে আবেদন করছি, তফসিলি জাতি ও জনজাতি নির্যাতন প্রতিরোধ আইনের ১৮/১(এ) ধারায় নির্দিষ্ট ভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এফআইআর করে জামিন অযোগ্য ধারায় গ্রেফতার করা হোক’। শিলিগুড়িতে ডিওয়াইএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক তথা বাম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ও দণ্ডি-কাণ্ডে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সরব হয়েছেন।
তৃণমূল সূত্রের খবর, প্রদীপ্তা বালুরঘাটে নেই। তাঁকে ফোনে যোগাযোগ করা যায়নি। মোবাইলে পাঠানো প্রশ্নেরও জবাব রাত পর্যন্ত মেলেনি। তবে দক্ষিণ দিনাজপুরে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিধায়ক তাপস রায় বলেন, ‘‘যা হয়েছে, তা গর্হিত অপরাধ। তাই দল কালক্ষেপ না করে সাংগঠনিক পদক্ষেপ করেছে।’’ বিজেপির দাবি নিয়ে আবার চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের পাল্টা কটাক্ষ, ‘‘এ নিয়ে যাঁরা প্রশ্ন করছেন, তাঁরা আগে দল থেকে শুভেন্দু অধিকারী, কৈলাস বিজয়বর্গীয়দের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে দেখান।’’ তাপস রায়ও একই সুরে বলেন, ‘‘বিরোধী দলনেতা রাজ্যের আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি, মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করার পরেও, যে দলে হেলদোল নেই। তারা এই নিয়ে প্রশ্ন করছেন!’’
কিন্তু বিতর্ক ফের উস্কে দিয়েছেন আরামবাগের তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। তিনি বলেন, ‘‘কেউ ভুল করলে তাঁকে তা শোধরাতেই হবে। ওঁদের দণ্ডি কাটতে বাধ্য করেনি কেউ। ওঁরা নিজেরাই প্রায়শ্চিত্ত করেছেন।’’ পরে অবশ্য তিনি দাবি করেন, তাঁকে বদনাম করার জন্য তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)