E-Paper

জেলায় এগিয়েও পদ্মে কাঁটা নন্দীগ্রাম, শুভেন্দুর বিধানসভা কেন্দ্রে কিছু আসনে প্রার্থী নেই

পূর্ব মেদিনীপুরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে মোট আসন ৫০২৫টি। মোট মনোনয়ন জমা পড়েছে ১৭,৭৯১টি। বিজেপির মনোনয়ন ৫৮৩১টি। তৃণমূলের মনোনয়ন ৫৬৮৮টি।

কেশব মান্না

শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৩ ০৭:৫৭
Suvendu Adhikari

শুভেন্দু অধিকারী। —ফাইল চিত্র।

শুভেন্দু অধিকারীর নিজের জেলায় মনোনয়নের সংখ্যায় তৃণমূলকে টেক্কা দিল বিজেপি। কিন্তু তার মধ্যে কাঁটার মতো বিঁধে রইল তাঁর বিধানসভা কেন্দ্রই। সেখানে বেশ কয়েকটি আসনে কোনও পদ্ম প্রার্থী নেই। বহু ক্ষেত্রে তৃণমূলের লড়াই নিজেদের গোঁজের বিরুদ্ধে।

পূর্ব মেদিনীপুরে ত্রিস্তর পঞ্চায়েতে মোট আসন ৫০২৫টি। মোট মনোনয়ন জমা পড়েছে ১৭,৭৯১টি। বিজেপির মনোনয়ন ৫৮৩১টি। তৃণমূলের মনোনয়ন ৫৬৮৮টি। সংখ্যার দিক থেকে ঘাসফুলের থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে বিরোধী দলনেতার শিবির।

জেলা পরিষদে ৭০টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৬৬৫টি ও গ্রাম পঞ্চায়েতে ৪২৯০টি আসন রয়েছে নন্দীগ্রামের জেলায়। জেলা প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, গ্রাম পঞ্চায়েতে ৪৮৪৩টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৮৯৩টি এবং জেলা পরিষদে ৯৫টি মনোনয়ন জমা দিয়েছে বিজেপি। তৃণমূলের তরফে গ্রাম পঞ্চায়েতে ৪৮০৭টি, পঞ্চায়েত সমিতিতে ৮০৫টি এবং জেলা পরিষদে ৭৬টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। তৃতীয় এবং চতুর্থ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিপিএম ও কংগ্রেস। তবে তারা অনেকটাই পিছিয়ে।

সার্বিক মনোনয়ন পেশের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও পদ্ম শিবিরের কাছে কাঁটা নন্দীগ্রাম। শুভেন্দুর নিজের বিধানসভাতেই সব আসনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি। ব্লক প্রশাসন সূত্রে খবর, নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের ১০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৮৫টি আসনের মধ্যে ৬৬টিতে, পঞ্চায়েত সমিতির ৩০টি আসনের সাতটিতে পদ্ম প্রার্থী নেই। কেন্দেমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২২টি আসনের একটিতেও নেই বিজেপির প্রার্থী, তৃণমূলের লড়াই নির্দল হিসেবে দাঁড়ানো গোঁজ প্রার্থীদের সঙ্গে।

জেলা জুড়ে মনোনয়নে এগিয়েও নন্দীগ্রামে এই হাল কেন? বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক মেঘনাদ পালের দাবি, ‘‘বিধানসভা ভোটে হারার পর থেকে এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টি করে রেখেছে তৃণমূল। তাই যেখানে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেওয়া সম্ভব হয়নি, সেখানে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নির্দলকে সমর্থন করা হবে।’’ রাজ্য তৃণমূলের অন্যতম সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষের পাল্টা দাবি, ‘‘নন্দীগ্রামে একটা চড়ের শব্দও শোনা যায়নি। আসলে প্রার্থী খুঁজে পায়নি বিজেপি।’’

শনিবার ছিল জমা পড়া মনোনয়নপত্র পরীক্ষার (স্ক্রুটিনি) দিন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার পর্ব শেষ হবে মঙ্গলবার। তার আগে এই জেলায় তৃণমূল ও বিজেপির মাথাব্যথা গোঁজ প্রার্থী। বাড়তি মনোনয়নই বা কেন? বলা হচ্ছে, প্রথমত, বরাবরই ভোট-কৌশলে গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে কিছু বেশি মনোনয়ন জমা দেয় শক্তিশালী দল। যাতে কারও প্রার্থিপদ বাতিল হলেও সমস্যা না হয়। শুভেন্দুর ছোট ভাই, বিজেপির সৌমেন্দু অধিকারী মানছেন, ‘‘কৌশলগত কারণে অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা পড়েছে। দলীয় প্রতীক যাঁরা পাননি, তাঁরা সকলেই মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন। আমাদের গোঁজ প্রার্থী থাকবে না।’’

তৃণমূল বলছে, একেবারে শেষ লগ্নে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ায় সমস্যা হয়েছে। দলের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা বিধায়ক তরুণ মাইতির মতে, ‘‘কেউ কেউ উৎসাহী হয়ে আগেই মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন। যাঁরা টিকিট পাননি, প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেবেন।’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

WB Panchayat Election 2023 BJP TMC

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy