E-Paper

দু’বার হারলে আর প্রার্থী নয়, নীতি নিচ্ছে বিজেপি

বিজেপির প্রার্থী কারা হবেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় বোর্ড। বিজেপির একাধিক ময়না তদন্তে উঠে এসেছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ প্রার্থী চয়ন।

বিপ্রর্ষি চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫৪

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ করে রাজ্য জুড়ে প্রচারে ‘ঝড়’ তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিজেপির। কিন্তু তার ফাঁকেই প্রার্থী নির্বাচন সেরে ফেলতে চাইছে তারা। ইতিমধ্যে সেই বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়ে গিয়েছে। কারা প্রার্থী হবেন, সেই জল্পনার মাঝেই কারা প্রার্থী হতে পারবেন না, তার নীতি তৈরি করে ফেলেছে বিজেপি।

বিজেপির প্রার্থী কারা হবেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সংসদীয় বোর্ড। বিজেপির একাধিক ময়না তদন্তে উঠে এসেছিল, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপর্যয়ের অন্যতম বড় কারণ প্রার্থী চয়ন। এ বার এই বিষয়ে যত্নবান হচ্ছে তারা। তাই প্রার্থী কে হবেন, তা চূড়ান্ত করার আগে কারা প্রার্থী হবেন না, সেই বিষয়ে নির্দেশিকা তৈরি করা হয়েছে। প্রথমত, যাঁরা আগে দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে হেরেছেন, তাঁদের আর প্রার্থী করা হবে না। দ্বিতীয়ত, যাঁরা অন্য দল থেকে এসে অন্তত এক বছর দলীয় সংগঠনের কাজের সঙ্গে যুক্ত নেই, তাঁরা প্রার্থী হবেন না। দলীয় আদর্শের সঙ্গে সাযুজ্য নেই, এমন তারকা মুখকেও প্রার্থী করার কথা ভাবা হবে না। বর্তমান কোনও সাংসদকেও বিধানসভায় প্রার্থী-পদের জন্য বিবেচনা করা হবে না। যাঁরা প্রার্থী হবেন, শেষ ছাঁকনিতে তাঁদের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সবুজ সঙ্কেতও পেতে হবে।

দলীয় সূত্রের খবর, এ বার প্রার্থী চয়নে রাজ্য বিজেপির ভূমিকা আরও কমিয়ে আনা হয়েছে। তিনটি বেসরকারি সমীক্ষক দল প্রার্থী সংক্রান্ত একাধিক সমীক্ষা চালিয়ে বিধানসভাওয়াড়ি তিনটি করে সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পৌঁছে দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টেবিলে। সেই তালিকা থেকেই প্রস্তুত হতে পারে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা। রাজ্য বিজেপির তরফে ইচ্ছুক প্রার্থীদের জীবনপঞ্জি গ্রহণ, মণ্ডল স্তরে গিয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম তুলে আনার প্রক্রিয়াও চলছে। কিন্তু শেষ বিচারে তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, সেই নিয়ে দলেই ধন্দ আছে। রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, ‘‘আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় মণ্ডল স্তর পর্যন্ত কর্মীদের শামিল করতে চাইছি। যাতে কেউ বঞ্চিত বা অনাহুত মনে না করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটা আমাদের হাতে থাকবে না।’’

এখনও পর্যন্ত ৮৪ জনের প্রথম তালিকা তৈরি হয়েছে। গত বারের জয়ী বিধায়কদের অধিকাংশের কাজ নিয়ে নেতিবাচক রিপোর্ট গিয়েছে বলেই সূত্রের খবর। তাই বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের ধারণা, ফের প্রার্থী করা হলে অনেকেই জিতে আসতে পারবেন না। সেই আসনগুলোয় ঝুঁকি এড়াতে বদল হচ্ছে প্রার্থী। সূত্রের খবর, ফাঁসিদেওয়া ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি আসনে বর্তমান বিধায়কদের বদল ঘটতে পারে। সেই জায়গায় প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে রয়েছে একাধিক নাম। মাথাভাঙা থেকে প্রার্থী হতে পারেন ‘প্রতিবাদী’ এক ভাওয়াইয়া শিল্পী। বর্তমান বিধায়কের বদলে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে লড়তে পারেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। শেষ পর্যন্ত রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) অমিতাভ চক্রবর্তী বালুরঘাট থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীকে সরিয়ে আনা হতে পারে আলিপুরদুয়ারে। ইংরেজবাজারের বিধায়কের বদলে ওই আসনে অন্য নামের ভাবনা রয়েছে।

কালিয়াগঞ্জের বর্তমান বিধায়ককে অন্য আসনে সরিয়ে সে জায়গায় নিয়ে আসা হতে পারে এক ‘আদি’ বিজেপি কর্মীকে। কর্শিয়াঙের বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় ওই আসনটিতে প্রার্থী বদল নিশ্চিত। স্থানীয় কিছু সমীকরণের কথা মাথায় রেখে নীরজ জিম্বাকে দার্জিলিং থেকে ওই আসনে নিয়ে আসা হতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গ থেকে ফের এক বার পুরনো আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি, পুরাতন মালদহ, ফালাকাটা, তুফানগঞ্জের বিধায়কেরা। তবে বদল হতে পারে কোচবিহার দক্ষিণ, গাজলের মতো আসনে।

দক্ষিণবঙ্গে বিধায়ক সংখ্যা কম হওয়ায় অনেক নতুন মুখের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বনগাঁ দক্ষিণ থেকে এ বার সম্ভবত আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না স্বপন মজুমদার। হাবড়া আসনে তাঁর সঙ্গে প্রার্থী হওয়ার দৌড়ে আছেন কেন্দ্রীয় সরকারের এক অবসরপ্রাপ্ত বাস্তুকার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP WB Assembly Assembly Election

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy