Advertisement
E-Paper

গরু আটক ঘিরে সংঘর্ষ ফাঁসিদেওয়ায়

গরু আটক করাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ ও সন্দেহভাজন চোরাকারবারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ফাঁসিদেওয়া। মঙ্গলবার সকালে লালদাস সীমান্ত চৌকির ঝমকলালজোত ও লিউসিপোখরি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে ৪ রাউন্ড গুলি চালায় বিএসএফ।

কৌশিক চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৬ ০৩:২৩
গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত পুলিশকর্মীরা। — নিজস্ব চিত্র

গ্রামবাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত পুলিশকর্মীরা। — নিজস্ব চিত্র

গরু আটক করাকে কেন্দ্র করে বিএসএফ ও সন্দেহভাজন চোরাকারবারীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল ফাঁসিদেওয়া। মঙ্গলবার সকালে লালদাস সীমান্ত চৌকির ঝমকলালজোত ও লিউসিপোখরি বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শূন্যে ৪ রাউন্ড গুলি চালায় বিএসএফ। তবে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। গ্রেফতার করা হয় এক মহিলা-সহ দু’জনকে। বিএসএফের তরফে ২২ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় বিএসএফের লালদাসজোতের কোম্পানি কমান্ডার বরুণ কুমার-সহ ৮ জন জখম হয়েছেন। ভাঙচুর করা হয়েছে বিএসএফের একটি গাড়িও। পাল্টা লাঠিতে ১০ জন গ্রামবাসী কমবেশি আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এবং বিএসএফের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আতঙ্কে লিউসিপোখরি বাজার দিনভর বন্ধ ছিল। এলাকায় চলছে পুলিশের রুটমার্চ। দার্জিলিঙের পুলিশ সুপার অমিত জাভালগি বলেন, ‘‘বিএসএফের সঙ্গে সন্দেহভাজনদের সংঘর্ষ হয়েছে। গুলি চলেছে। বাকি অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা হচ্ছে।’’

পুলিশ সূত্রের খবর, ভোরবেলা ঝমকলালজোত এলাকা থেকে প্রায় ৩৫টি গরু নিয়ে কয়েকজন গ্রামবাসী লিউসিপোখরির দিকে হেঁটে আসছিলেন। বাসিন্দাদের দাবি, হাট চালান নিয়ে গরুগুলি ফুলবাড়ি-সহ নানা এলাকায় বিক্রির জন্য পাঠানো হচ্ছিল। সেই সময় ওই গরুগুলি সীমান্ত পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করে বিএসএফ অভিযান শুরু করে। প্রতি গরুর জন্য ১ হাজার টাকা করে দাবি করে বলেও তাদের অভিযোগ। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় গরুগুলি আটক করে জওয়ানরা লিউসিপোখরির দিকে নিয়ে যান। এরপরেই বিএসএফের উপর ইট বৃষ্টি শুরু হয়। দলের ১৪ জন অফিসার, জওয়ান প্রাণভয়ে বিভিন্ন দোকানে আশ্রয় নেন। সেখানে ডুকে লাঠিপেটা করা হয় তাদের।

এই এলাকায় ভোর ৪টা থেকে সবজির পাইকারি বাজার বসে। দোকানপাটও খুলে যায়। তাই মুহূর্তে গোটা বাজারে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়ে যায়। জওয়ানদের ঘিরে ধরে চলে মারধর। বিএসএফের দাবি, বাজারের ভিড়ে মিশে চোরা চালানকারীরা হামলা চালিয়েছে। খবর পেয়ে লাগোয়া সীমান্ত চৌকি থেকে জওয়ানরা এসে লাঠিচার্জ শুরু করেন। তার পরেই শূন্যে ৪ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। যদিও বাসিন্দাদের দাবি, ৫/৬ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। বিএসএফের ডিআইজি ডি হাওকিপ বলেন, ‘‘চোরাচালান রুখতে গিয়ে অফিসার, জওয়ানরা আক্রান্ত হয়েছেন। গরুগুলি উদ্ধার করা হয়েছে।’’

ফাঁসিদেওয়া ব্লকে প্রায় ২১ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে ধনিয়ামোড় থেকে বন্দরগছ পর্যন্ত মহানন্দা নদী থাকার জন্য ৩ দশমিক ২ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার নেই। ঘটনাস্থল থেকে সীমান্তের দূরত্ব মেরেকেটে ৩ কিলোমিটার। গ্রামবাসীদের একাংশের অভিযোগ, নদী থেকে অবাধে বালি-পাথর তুলে ওপারে পাচার চলে সারাদিন। তেমনিই, লালদাসের বিভিন্ন এলাকা দিয়ে গরু পাচারের ঘটনা ঘটছে। চোপড়া, পাঞ্জিপাড়া থেকে গরু এনে ফাঁসিদেওয়ায় মজুত হয়। পরে তা ফুলবাড়ি, জটিয়াখালি দিয়ে পাচার করা হয়। ১৫/২০ হাজার টাকা এক একটি গরু বিক্রি হয়। পাচারকারীদের দৌরাত্ম্যে সাধারণ গরু ব্যবসায়ীরাও অনেক সময় বিএসএফে হাতে পড়ে হেনস্থা হন বলে অভিযোগ। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি মইজুদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘‘নিরীহ বাসিন্দা, ব্যবসায়ীরা যাতে সমস্যায় না পড়েন পুলিশ ও বিএসএফকে তা দেখতে বলেছি।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy