সাতের দশকে ক্ষমতায় এসে বামফ্রন্ট সরকার ‘বারবধূ’ নাটক বন্ধ করতে কোনও ফরমান জারি করেনি বলে জানিয়ে দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তৎকালীন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী বুদ্ধবাবুর যে ওই নাটকটি ব্যক্তিগত ভাবে অপছন্দের ছিল, তা তিনি গোপন করেননি। কিন্তু তার জন্য নাটক বন্ধ করতে সরকারি স্তরে কোনও চিন্তাভাবনাই হয়নি বলেনি তাঁর ব্যাখ্যা।
সেই ১৯৭৭ সালে ‘বারবধূ’ নাটক ‘বন্ধ’ করা নিয়ে যে ঘটনা ঘটেছিল, তার ছায়ায় ‘অদ্যই শেষ রজনী’ নামে অন্য একটি নাটক নির্মাণ করে এখন অভিনীত হচ্ছে মোহিত মৈত্র মঞ্চে। বাম সরকার সংস্কৃতিতে খোলা হাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সুকৌশলে এমন একটি ধারণা জনমানসে তৈরি করার প্রয়াস এর মধ্যে আছে বলে অনেকের অভিমত। তার প্রেক্ষিতেই বুদ্ধবাবু জানিয়েছেন, ওই নাটককে বেআইনি ঘোষণা করে অভিনয় বন্ধ করে দেওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে বলে সেই সময়েও প্রচার চালানো হয়েছিল। এখনও আবার সেই চেষ্টা হচ্ছে।
যদিও ঘটনা তা নয়।
বস্তুত, প্রথম বামফ্রন্ট সরকার গড়ে ওঠা এবং গোড়ার কয়েক বছরের স্মৃতিকথন ‘ফিরে দেখা’-র পাতাতেও ‘বারবধূ’র কাহিনি লিখেছেন বুদ্ধবাবু। তাঁর ভাষায়, ‘নাটকের পরিচালক আমাকে আমন্ত্রণ করলেন সেই নাটকের শততম রজনীতে। আমি নিয়মিত বাংলা নাটকের দর্শক, সেটা তিনি জানতেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে আমি সবিনয়ে আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়েছিলাম অন্য কাজের অছিলায়। একে সেই নাটকের বিরোধিতা বলা যাবে না। বড় জোর অসহযোগিতার অভিযোগ আনা যেতে পারে’। ওই ঘটনার পরেই প্রচার শুরু হয়েছিল, বাম সরকার ‘শিল্পের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ করতে চায়। এক স্বনামধন্য সাহিত্যিকও একটি পত্রিকায় বুদ্ধবাবুকে পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁদের মনোভাব পরিবর্তনের জন্য। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বয়ানে, ‘নাটকটি সম্পর্কে আমার অপছন্দ গোপন ছিল না। কিন্তু সেটিকে বন্ধ করার চিন্তা কখনওই করিনি। বিষয়টি নিয়ে সংস্কৃতি মহলে এক দফা ঝড় বয়ে গিয়েছিল অপসংস্কৃতি বনাম সংস্কৃতির দ্বন্দ্ব-বিরোধে’!