মানসিক রোগে আক্রান্ত দিদির চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বোন। তাঁর দাবি ছিল, দিদির চিকিৎসা বন্ধ থাকায় মা এবং তাঁর প্রতি উগ্র ও অসংলগ্ন আচরণ করছেন দিদি। অবিলম্বে দিদির উপযুক্ত মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আর্জি জানান মামলাকারী। শুক্রবার সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের নির্দেশ, মামলাকারীর দিদির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবেন হাবড়া থানার ওসি।মহিলা পুলিশ ও প্রয়োজনীয় পুলিশকর্মী নিয়ে মানসিক রোগে আক্রান্ত মহিলাকে হাবড়া রাজ্য সাধারণ হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন তিনি। বিচারপতির আরও নির্দেশ, অসুস্থ মহিলার চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করবেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। মহিলার কোনও বিশেষ চিকিৎসার প্রয়োজন পড়লে সেই ব্যবস্থাও করবেন মেডিক্যাল অফিসার।
কোর্টের খবর, বিবাহবিচ্ছিন্না ওই মহিলা উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকেন। মানসিক রোগের জন্য তাঁর আচরণ ক্রমাগত উগ্র এবং অনিয়ন্ত্রিত হয়ে উঠতে থাকে। এমনই অবস্থা, যে নিজের মা ও বোন ছাড়াও এলাকার পড়শিদের সাথেও উগ্র আচরণ করেছেন তিনি। কিছুতেই চিকিৎসা করানো যাচ্ছে না তাঁর। এ হেন অবস্থায় আর কোনও উপায় না পেয়ে দিদির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে এবং মায়ের প্রয়োজনীয় সেবা করতে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন বোন। মামলাকারীর আইনজীবী সুকৃত মুখোপাধ্যায়ের অভিযোগ ছিল, একাধিকবার পুলিশ ও জেলাশাসকের কাছে পদক্ষেপের আর্জি জানিয়েও সুরাহা হয়নি। রাজ্যের আইনজীবী পুলিশের রিপোর্ট পেশ করেছিলেন আদালতে। ওই মহিলার বাড়ির কাছাকাছি মানসিক চিকিৎসার সুবিধা আছে এমন হাসপাতালের তালিকাও কোর্টে জমা দেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)