ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা (এসআইআর) মামলায় বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। তবে বিএলও-দের নিরাপত্তা নিয়ে আলাদা কোনও নির্দেশ দিতে চায়নি ডিভিশন বেঞ্চ। এসআইআর নিয়ে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছিল হাই কোর্ট। সেই মামলাতেই হলফনামা চাইল ডিভিশন বেঞ্চ।
বৃহস্পতিবার মামলাকারীর আইনজীবী সওয়াল করে জানান, ২০০২ সালের তথ্যের ভিত্তিতে কেন হচ্ছে এসআইআর। ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে এসআইআর করা হোক বলে দাবি তুলেছেন তিনি। ২০০২ সালে শেষ বার এসআইআর হয়েছিল দেশে। সেই সময় যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় ছিল, তাঁদের নতুন করে কোনও নথি দিতে হবে না। জাতীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ বারের এসআইআর ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকে ভিত্তি করেই হচ্ছে।
অন্যদিকে, মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় সওয়াল করে জানিয়েছেন, বিএলও-রা সরকারি কর্মী। তাঁরা হুমকি পাচ্ছেন। তাঁদের নিরাপত্তা দেওয়া হোক। এই নিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ‘‘সরকার জানে কী ভাবে তার কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে হয়। আলাদা করে কোনও নির্দেশ দেওয়ার দরকার নেই।’’
এসআইআর নিয়ে মামলা দায়ের করতে চেয়ে হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি স্মিতা দাসের ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। গত ৩১ অক্টোবর মামলা দায়েরের অনুমতি দেয় আদালত। মামলাকারী প্রশ্ন তোলেন, পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার আগে এসআইআর-এর প্রয়োজন কী? কেন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন করা হচ্ছে? মামলাকারী চান, ২০০২ সালের ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ ভাবে প্রকাশ করুক নির্বাচন কমিশন। প্রয়োজনে এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর আদালতের নজরদারি থাক।
আরও পড়ুন:
৪ নভেম্বর থেকে এ রাজ্যে বিএলও-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এনুমারেশন ফর্ম বিলি করার কাজ শুরু করেছেন। বিহারে ইতিমধ্যে এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেখানে প্রথম দফার বিধানসভা ভোট। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এসআইআর-এর পর বিহারের তালিকা থেকে ৩০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় সরব হয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, এসআইআর-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা থেকে মৃত ভোটার এবং অনুপ্রবেশকারীদের নাম বাদ দেওয়া হবে। সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর নিয়ে মামলা চলছে।