করোনা পজ়িটিভ এক পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি সবং ব্লকে। তিনি বাড়িতে না ফিরলেও এলাকার বাসিন্দা হওয়ার জন্য এ বার করোনা মানচিত্রে নাম জুড়ল সবংয়ের। এতদিন এই ব্লকের কেউ করোনা আক্রান্ত হননি।
প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁয়তাল্লিশের ওই পরিযায়ী শ্রমিক সবং ব্লকের মোহাড় গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় মুম্বইয়ের সোনার গয়নার কারিগর। থাকতেন মুম্বইয়ে। পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রথম করোনা আক্রান্তও মুম্বই থেকে ফিরেছিলেন। তারপরে একাধিক ক্ষেত্রে আক্রান্তের মুম্বই যোগ মিলেছে। সবংয়ের ক্ষেত্রেও ফের উঠে এল সেই মুম্বইয়ের নাম।
২৮ মে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ফেরেন তিনি, তবে নিজের বাড়ি ফিরতে পারেননি। বাস পৌঁছেছিল ঘাটালে। সেখানে নিভৃতাবাস কেন্দ্রে যান তিনি। পরে শ্বাসকষ্ট-সহ নানা উপসর্গ দেখা দিতেই তাঁকে মেদিনীপুরের করোনার লেভেল-২ হাসপাতালে যাওয়া হয়েছিল। রিপোর্ট পজ়িটিভ আসে। মঙ্গলবার তাঁকে পাঁশকুড়ায় করোনার লেভেল-৩ হাসপাতাল বড়মায় ভর্তি করা হয়েছে। এত দিন সবং ব্লকে অনেক পরিযায়ী শ্রমিক এলেও করোনা আক্রান্তের খোঁজ মেলেনি। তাই মোহাড়ে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ির এলাকায় চলছে কড়া নজরদারি। ওই পরিযায়ীকে যখন করোনা লেভেল-২ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তখন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে তাঁকে দেখতে গিয়েছিলেন। আক্রান্তের স্ত্রীর দাবি, স্বামীর সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। আপাতত ছেলেকে নিয়ে তিনি ময়নায় তাঁর বাপের বাড়িতে রয়েছেন।
মোহাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান প্রসাদ অধিকারী বলেন, “মুম্বই থেকে ফেরার পরে ওঁকে গ্রামে না ফিরে ঘাটালে দাদার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলাম। পরে শুনেছিলাম সেখানকার কোয়রান্টিন কেন্দ্রে আছে। তাঁর স্ত্রী ও ছেলে এখন বাইরে রয়েছে। তাঁদের এখন গ্রামে আসতে দেব না।” পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্সের দাবি, “ওই পরিযায়ী শ্রমিক ব্লকের বাসিন্দা হওয়ায় সতর্কতা আরও বাড়িয়েছি।”
লকডাউনের পর থেকে সবংয়েই রয়েছেন সাংসদ মানস ভুঁইয়া ও বিধায়ক গীতা ভুঁইয়া। মানস বলেন, “ব্লকের নিভৃতাবাস কেন্দ্রে ও গৃহ পর্যবেক্ষণে থাকা পরিযায়ীদের উপরে বেশি নজরদারি চালাতে বলেছি।”